ঢাকা      সোমবার ২৩, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৭, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

জনস্বাস্থ্য গবেষক

ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া


রোড টু পিএইচডি-২৩: জার্নাল পাবলিকেশান

আমেরিকায় পাবলিক হেলথে পিএইচডি অ্যাপ্লিকেশানের জন্য জার্নাল পাবলিকেশান থাকাটা ম্যান্ডেটরি নয়। এটি ‘থাকলে ভালো’ ক্যাটাগরির একটি বিষয়। তবু এটি নিয়ে আলাদা একটি লেখা তৈরি করার চেষ্টা করছি। রিসার্চ ফিল্ডে ক্যারিয়ার করতে চাইলে এটি সবারই কাজে আসতে পারে।

জার্নাল পাবলিকেশানের ব্যাপারে প্রথম যে কথাটি আসবে তা হলো আপনার নিজেকে একটি আর্টিকেল প্রস্তুত করে নিজের নামে ছাপাতে হবে বিষয়টি মোটেও এমন নয়।

জার্নালের বিষয়টি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোলাবোরেটিভ। একটা টিমের কাজের ফসল হয় একটি আর্টিকেল। এখানে একজন ফার্স্ট অথোর বা প্রধান লেখক হিসেবে থাকেন তারপর বাকিরা।

অবধারিতভাবেই এই ফার্স্ট অথোর হবেন আপনার কোন একজন গুরুস্থানীয় প্রফেসর। এই প্রফেসর কোন একটি গবেষণা প্রজেক্টে কাজ করার সময় তার ফাইন্ডিংসগুলো নিয়ে একটি আর্টিকেল পাবলিশ করতে চান। তিনি আপনার মত তরুণ কাউকে খুঁজবেন তাঁকে সহায়তা করার জন্য।

একটি আর্টিকেল পাবলিশ করা খুব সহজ কম্ম নয়। এর জন্য রিলেটেড জার্নাল ঘাঁটাঘাঁটি করতে হয়। পড়তে হয়। পড়ে বেসিক আইডিয়া বের করতে হয়। লেআউট তৈরি করতে হয়। বেসিক লেভেলের এরকম অনেক কাজ থাকে।

অ্যাডভান্সড লেভেলের কাজ হলো গবেষণার রেজাল্ট, ফল এগুলো ক্যালকুলেশান করা। সে রেজাল্টকে স্ট্যাটিস্টিক্যালি ভ্যালিড প্রুভড করে তার বর্ণনা করা। বেসিক লেভেলের কাজ করতে করতেই ধীরে ধীরে অ্যাডভান্সড লেভেলে প্রবেশ করবেন।

একটি জার্নাল হাতে নিন। পাতা উল্টিয়ে দেখুন প্রতিটি আর্টিকেলে কিছু বক্স আছে। বক্সগুলো পড়ার চেষ্টা করুন। আমার মত আনাড়ি হলে কিছুই বুঝতে পারবেন না। এটা খুবই স্বাভাবিক। রিসার্চে ক্যারিয়ার করতে চাইলে এই বক্সটি আপনাকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। আর বিরক্ত হয়ে জার্নালটি নামিয়ে রাখলে সাথে সাথে রিসার্চে আপনার ক্যারিয়ারটিকেও নীরবে বিদায় বলে দিলেন।

নিজের চেষ্টা, গুগল বাবার সাহায্য, কোন ভালো মেন্টরের গাইডেন্স, মাস্টার্সের পুঁথিগত ও প্র্যাক্টিক্যাল বিদ্যা এভাবে ধীরে ধীরে আপনি জার্নাল পাবলিশিংএর সাথে অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন। প্রথমে চেষ্টা করবেন কোন প্রফেসরের সাথে কাজ করে তার কোন কাজে অ্যাটাচড হয়ে কোন পাবলিকেশানে নাম উঠানোর। এভাবেই আস্তে আস্তে হয়ে যাবে।

অ্যাপ্লিকেশান সাবমিট করার সময় সাবজেক্ট রিলেটেড জার্নালগুলো সিভিতে উল্লেখ করবেন। কারণ সাবজেক্ট রিলেটেড বা টপিক রিলেটেড জার্নাল ছাড়া অন্য জার্নাল উল্লেখ করে খুব একটা লাভ নেই। তবে একটা উপকার হতে পারে, আপনি যে জার্নাল পাবলিকেশানের বেসিক জানেন এ বিষয়ে অ্যাডমিশান কমিটি একটা ধারণা পাবে।

প্রফেসরকে ইমেইল করার সময়ও আপনার পাবলিশ করা জার্নাল সম্পর্কে লিখবেন। সেটি প্রফেসরের কাজের এরিয়ার সাথে কিভাবে রিলেটেড তা তুলে ধরবেন। এতে আপনার ফান্ড পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

এভাবে কাজ করতে করতে একদিন আপনার পাবলিকেশানের সংখ্যা শত ছাড়াবে। আপনার আর্টিকেলের সাইটেশান হবে হাজারের উপর। আপনি হয়ে উঠবেন আপনার ফিল্ডের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সম্রাট/সম্রাজ্ঞী। রিসার্চ দুনিয়ার সবাই আপনার নাম শুনলে শ্রদ্ধার সাথে তাকাবে। কুর্নিশ করবে রিসার্চ ফিল্ডে আপনার কন্ট্রিবিউশানকে। আপনার গবেষণার ফলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ্যভাবে উপকৃত হওয়া লক্ষ কোটি সাধারণ মানুষগুলো নাম না জেনেই আপনার জন্য দোয়া করবে।

ডিসক্লেইমার

পূর্ববর্তী পর্ব: রোড টু পিএইচডি-২২: অভিজ্ঞতা: রিসার্চ করেছেন কখনো?

পরবর্তী পর্ব: রোড টু পিএইচডি-২৪: স্কাইপ ইন্টারভিউ

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস