ডা. রাজ কামাল আহমেদ

ডা. রাজ কামাল আহমেদ

অর্থোপেডিক ও ট্রমা সার্জারি বিশেষজ্ঞ


২৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০৬:০৬ পিএম

উচ্চাকাঙক্ষা নয়, সম্মানের সাথে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে পারলেই ডাক্তাররা সন্তুষ্ট!

উচ্চাকাঙক্ষা নয়, সম্মানের সাথে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে পারলেই ডাক্তাররা সন্তুষ্ট!

পাবনার ডিসি সাহেব তার চিকিৎসার জন্য ডাক্তার চেয়েছেন পাবনা সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (এডি) মহোদয়ের কাছে, এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়!

দেশের প্রায় সব জেলা উপজেলাতেই ডাক্তারদের ডেকে পাঠান এডমিনের কর্তাব্যক্তিরা, অফিস সময়ে বা অফিস সময়ের বাইরে; নিজের জন্য বা তার পরিবারের কারো চিকিৎসার জন্য অথবা তার বাসার কাজের বুয়া বা মালির চিকিৎসার জন্য। 

আর আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ডাক্তারদের পাঠিয়ে দেন সেই সব এডমিনদের বাসায় বা তার অফিসে অথবা তাদের চাহিদামত জায়গায়। সেজন্য দেশের কোথাও বিষয়টি নিয়ে অালোচনা হয়নি।

পাবনার ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা হচ্ছে এ কারণে যে, পাবনা সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক কেন অফিস সময়ে নিজের হাসপাতালে আসা অসংখ্য রোগীর চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করে ডিসি সাহেবের কথামত তার বাংলোয় ডাক্তার পাঠালেন না? উল্লেখ্য, সেখানকার সিভিল সার্জন মহোদয় তার এমওসিএস কে নিয়ে ডিসি সাহেবের বাংলোয় তাকে চিকিৎসাসেবা দিতে যান। কিন্তু ফেঁসে যান পাবনা সদর হাসপাতালের এডি ডা. মনজুরা রহমান। তাকে ডিসি সাহেবের কথায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ করে ওএসডি করা হয়!

ঘটনার সার্বিক বিবেচনায় উক্ত এডি মহোদয় ডা. মনজুরা রহমান সেখানে ডাক্তার না পাঠিয়ে যেটা করেছেন সেটা বৈধ ও যুক্তিসঙ্গত।

কারণ:

১) বৃহত্তর স্বার্থে অফিস কালীন সময়ে হাসপাতালে আগত রোগীদের সেবা দান ব্যাহত করে ডিসির বাংলোয় একজন ডিসি সাহেবকে চিকিৎসা দেবার জন্য ডাক্তার পাঠানোটাকে ন্যায্য বা যৌক্তিক কাজ মনে করেননি, যেখানে সরকারী হাসপাতালে আগত রোগীর তুলনায় ডাক্তার বা জনবল অপ্রতুল।

২) ডিসি সাহেব অসুস্থ হলে কেবল ডাক্তার সাহেব গিয়ে কী বা করতে পারবেন? রোগীর সঠিক রোগনির্ণয় বা চিকিৎসার জন্য ইসিজি করা, ক্যানুলা করা, অক্সিজেন দেওয়া বা কিছু জরুরি ওষুধপত্র দেয়া, কিছু তাৎক্ষণিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে। এগুলি শুধু হাসপাতালেই সম্ভবপর। একজন ডাক্তার গেলে রোগীর পালস্ আর ব্লাড প্রেসার মাপা ছাড়া কার্যত কিছু করতে পারবেন না।

আর সিএস মহোদয় ডিসি সাহেবের অসুস্থার সংবাদ পেয়ে তাকে উপরোক্ত কারণগুলি বিবেচনায় নিয়ে তাকে হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেয়ার সাহস না পেলেও সবিনয়ে অনুরোধ করতে পারতেন। যদিও পদমর্যাদায় ডিসি ও সিএস মহোদয় সমতুল্য। 

সিএস মহোদয় তার এমওসিএস কে সাথে নিয়ে ডিসি সাহেবের বাংলোয় গমন করা এবং ডিসি সাহেবের ক্ষমতা প্রদর্শন স্বরূপ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এডি সাহেবকে তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ করা দেশের সমস্ত ডাক্তারদের একটি মেসেজই দিয়ে গেল, ডাক্তাররা আমলাতান্ত্রিক রাহু থেকে কোনদিন মুক্ত ছিল না; কোনদিন মুক্ত হতে পারবে না। 

দেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, শিশু মৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুহার হ্রাস, এমডিজি বাস্তবায়নে সফলতা, স্বাস্থ্য খাতের প্রতিটি শাখায় অভাবনীয় সাফল্য, স্বাস্থ্য খাতে সফলতার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাউথ সাউথ এওয়ার্ড অর্জন এসব কোন আমলার হাত ধরে আসেনি। এগুলি এসেছে প্রত্যন্ত এলাকায় কাজ করা ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে।

হাসপাতালে যেতে ডাক্তারদের সরকারি গাড়ির প্রয়োজন হয়না, অফিসে তাদের এসির বাতাসের দরকার হয়না, কোন ব্যক্তিগত পিয়নের প্রয়োজন হয়না, তাদের কাঠের চেয়ার টেবিল থাকলেই কাজ করতে পারে। হতভাগ্য এই দেশে খেটে খাওয়া ডাক্তারদের বেশি কিছু চাওয়ার নেই! শুধু সম্মানের সাথে দেশের মানুষদের জন্য কাজ করতে পারলেই তারা সন্তুষ্ট! আমরা অতিসত্ত্বর সসম্মানে পাবনা সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মহোদয় ডা. মনজুরা রহমানের স্বীয় পদে পূণর্বহাল চাই।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত