ঢাকা শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ২০ মিনিট আগে
২২ অক্টোবর, ২০১৭ ০৯:৪৭

এক নজরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ

এক নজরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ

ইমাম হোসাইন মামুন : 

গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের পঞ্চান্ন বছর পার করলো সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ। এ ইতিহাসের আড়ালেও কিছু ইতিহাস অগোচরে লুকিয়ে আছে আছে, যা এ পঞ্চান্ন বছরেরও পূর্বের।

২০০৯ সালের মার্চ মাসে একটি মেট্রোপলিটন শহরের মর্যাদা লাভ করা, সুরমা নদীকে কোলে নিয়ে থাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও তিনশ ষাট আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেটে তৎকালীন সময়ে চিকিৎসেবার জন্য উন্নত কোনো প্রতিষ্ঠান ছিলোনা।

১৯৩৬ সালে নগরীর প্রাণকেন্দ্রে একটি ছোট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয় যা পরবর্তীতে ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় বার্মা ও বৃটিশ মিত্রবাহিনীর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

১৯৪৮ সালে নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় এটিকে সংস্করণ ও বর্ধিতকরণ করে দক্ষ সেবক ও 'লাইসেনশিয়েট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (এলএমএফ)' চিকিৎসক তৈরির জন্য সিলেট মেডিকেল স্কুলে রূপান্তরিত করা হয়।

এভাবে চলতে চলতে একসময় স্কুলটিকে কলেজে রূপান্তরের দাবীতে আন্দোলন শুরু হয়। সে আন্দলন এক সময় সফলতার মুখ দেখে। ১৯৬২ সালে সে সফলতার ফসলস্বরূপ সরকার এটিকে সিলেট মেডিকেল কলেজ নামে কলেজ পর্যায়ে উন্নীত করে। ১৯৬২ সালের ২২ অক্টোবর এমবিবিএস ১ম ব্যাচ এর শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হয় সিলেট মেডিকেল কলেজের।

ছবি: আহসান হাবীব নোমান

 

স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শাস্ত্রের প্রসার ঘটার ফসলস্বরূপ ১৯৬৮-‘৬৯ সালে কলেজ ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়। ১৯৭১-‘৭২ সালে ক্যাম্পাসটি চৌহাট্টা থেকে কাজলশাহ এলাকায় স্থানান্তর করা হয়।

সাবেক কলজ ভবন বর্তমানে আবু সিনা ছাত্রাবাস নামে ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে আর সাবেক হাসপাতাল ভবন বর্তমানে শহীদ ডাঃ সামসুদ্দিন আহমদ জেনারেল হাসপাতাল নামে বর্তমান হাসপাতালের অধিভুক্ত একটি হাসপাতাল হিসেবে চালু আছে। পাশাপাশি অবস্থিত এ দুটি ভবন নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় আলিয়া মাদ্রাসা ও হযরত শাহজালাল (রহঃ)-এর দরগাহ শরিফের পাশেই অবস্থিত।

১৯৮৬ সালে তৎকালীন সরকার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ‘সর্বাধিনায়ক ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ ইন কমান্ডার’ জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণী ওসমানীর নামানুসারে কলেজটির নাম পরিবর্তন করে ‘সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ’ রাখে যা সংক্ষেপে #সিওমেক নামে পরিচিত।

আজ ২২ অক্টোবর প্রথমবারের মতো #সিওমেকদিবস পালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিতে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে অন্যরকম আনন্দের এক আবহ। বর্তমানরা প্রথমবারের মতো সিওমেক দিবস পালনের সাক্ষী হচ্ছে আর সাবেকরা ভুগছেন নস্টালজিয়ায়। বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা সামাজিক মাধ্যমে তাদের নিজেদের বিভিন্ন ছবি ও ঘটনা শেয়ার করে নিজেরাও এ আনন্দে ভাগ বসাচ্ছেন। বৈরি আবহাওয়ার কবলে পড়ে যারা সিলেটে আসতে পারেননি এবং যারা প্রবাসী আছেন তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে সাবেক সতীর্থদের নিয়ে সিওমেক দিবস পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

ছবি: আহসান হাবীব নোমান

 

১৯৬২ সালে এমবিবিএস ও ২০১১ সাল থেকে শুরু হওয়া বিডিএস কোর্সের পাশাপাশি এ প্রতিষ্ঠানে ১৯৯৯ সাল থেকে চালু রয়েছে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের ব্যবস্থাও। পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কোর্সের মধ্যে রয়েছে এমফিল (এনাটমি, বায়োকেমেস্ট্রি, প্যাথোলজি, ফার্মাকোলজি ও মাইক্রোবায়োলজি), এমডি (ইন্টারনাল মেডিসিন, কার্ডিওলজি, পেডিয়াট্রিক্স, সাইকিয়াট্রি, ডার্মাটোলজি, রেডিওলোজি), এমএস (জেনারেল সার্জারি, গাইনি এন্ড অবস, অপথ্যালমোলজি, পেডিয়াট্রিক সার্জারি, অর্থোপেডিক্স সার্জারি ও ইউরোলজি) এবং ডিপ্লোমা (এনেস্থেশিয়া ও ফরেনসিক মেডিসিন)। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে। বিএসএমএমইউ, বিসিপিএস এর অধীনে এসব উচ্চতর ডিগ্রি পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া আরও রয়েছে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান এন্ড সার্জন (বিসিপিএস) এর অধীনে এফসিপিএস ট্রেইনিং।

নগরীর কাজলশাহ এলাকায় ১০০০ শয্যাবিশিষ্ট ৫ তলা এবং দীর্ঘ হাসপাতাল ভবনটি ২০৬,৩৫৫ বর্গ মিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। পুরো ক্যাম্পাস পুরাতন ও নতুন অঞ্চলে বিভক্ত। নতুন অঞ্চলে অবস্থিত তিন-তলা বিশিষ্ট কলেজ ভবনটি ১৯১,৯৭৭ বর্গ মিটার জায়গায় অবস্থিত। মূল ক্যাম্পাসে হাসপাতাল ও কলেজ ভবন ছাড়াও রয়েছে ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস, আদর্শ পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক, নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার ও সিলেট নার্সিং কলেজ এবং নার্সিং কলেজ ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস।

শিক্ষার্থীনিবাসের মধ্যে ছাত্রাবাস রয়েছে পাঁচটি । মূল ক্যাম্পাসের ভেতর রয়েছে হযরত শাহজালাল ছাত্রাবাস, কর্নেল জিয়া ছাত্রাবাস, শহীদ ডাঃ শামসুল আলম খান মিলন ছাত্রাবাস। ক্যাম্পাসের বাইরে নগরীর চৌহাট্টা ও রিকাবি বাজার এলাকার মাঝে রয়েছে বাকি দুটি ছাত্রাবাস। তার মধ্যে একটি শহীদ ডাঃ সামসুদ্দিন আহমদ ছাত্রাবসাস ও অন্যটি আবু সিনা ছাত্রাবাস যা সাবেক মেডিকেল কলেজ ভবন।

ছবি: আহসান হাবীব নোমান

 

চারটি ছাত্রীনিবাসের সবকটিই মূল ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে অবস্থিত। সেগুলো হলো ডাঃ দিলরুবা বেগম ছাত্রীনিবাস, ডাঃ শ্যামল কান্তি লালা ছাত্রীনিবাস, হযরত শাহ পরান ছাত্রীনিবাস এবং ইন্টার্ন হোস্টেল (প্রমীলা)।

শহীদ ডাঃ সামসুদ্দিন আহমদ জেনারেল হাসপাতাল ও আদর্শ পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক ছাড়াও এ সিওমেক হাসপাতালের অধীনে আরও যেসকল হাসপাতাল আছে সেগুলো হলো- লেপ্রসি হাসপাতাল, যক্ষ্মা ক্লিনিক, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল এবং নিকটস্থ থানা হাসপাতাল কমপ্লেক্সসমূহ।

কলেজে সমৃদ্ধ গবেষণাগার রয়েছে তেরটি। তার মধ্যে এনাটমির একটি, প্যাথোলজির চারটি ও ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, ফার্মাকোলজি ও মাইক্রোবায়োলজির দুটি করে।

এনাটমি,প্যাথোলজি ও কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের একটি করে মোট তিনটি যাদুঘর রয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের একটি আঞ্চলিক সেল রয়েছে।

কলেজ ভবনের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে সুবিশাল গ্রন্থাগার। প্রায় ১৫০ জন ধারণ ক্ষমতা বিশিষ্ট এই গ্রন্থাগারটি প্রতি কর্মদিবসে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সচল থাকে। স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য পাশে রয়েছে পৃথক গ্রন্থাগারের ব্যবস্থা। গ্রন্থাগারটিতে বিভিন্ন বিষয়ে পঁচিশ হাজারেরও বেশি বই রয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট বিভাগে ক্ষুদে গ্রন্থাগার রয়েছে।

 

লেখক : ইমাম হোসাইন মামুন
৫ম বর্ষ
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত