ঢাকা      রবিবার ১৮, অগাস্ট ২০১৯ - ৩, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

জনস্বাস্থ্য গবেষক

ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া


রোড টু পিএইচডি-২০: CV

সিভি বা কারিকুলাম ভিটেই – বাংলা ভাষায় বায়োডাটা নামে যাকে আমরা সবাই চিনি। অ্যাপ্লিকেশানের এটি একটি অন্যতম অংশ।
 
স্বাভাবিকভাবেই আপনার বিবাহের বায়োডাটা হতে এটি আলাদা টাইপের হবে। আপনার উচ্চতা, পুরুত্ব, ঘনত্ব, কোন জমিদার বংশের কোন পর্যায়ের লোক আপনি ইত্যাদি কম্পোনেন্টের যে বিবাহের বায়োডাটাটি প্রস্তুত করেছেন তা সরিয়ে রাখুন। প্রফেসরকে বিবাহের সিভি পাঠানোর মতলব না থাকলে অ্যাপ্লিকেশানের জন্য পৃথক ফরম্যাটে সিভি প্রস্তুত করুন প্লিজ।
 
সিভি তৈরির জন্য গুগল বাবার কাছে প্রচুর টেমপ্লেট আছে, মূল্যবান উপদেশ আছে এগুলো সার্চ করে পড়বেন। গুগল বাবার সামনে দিয়ে হেঁটে যাবার সময় দৈনিক দু’বার করে সালাম ঠুকবেন। বেচারা এত করে আপনার জন্য। আপনি কী করেছেন গুগলের জন্য শুনি?
 
যাক, সিভি তৈরির প্রথম কথা হলো – সিভি ছোট হতে হবে। দুই পৃষ্ঠার বেশি যাওয়া ঠিক হবে না। সিভিতে আপনার ছবি থাকবে না। পেজের পুরো জায়গা ইউজ করতে হবে। সুন্দর ফন্টে গুছিয়ে আপনার তথ্যগুলো সাজিয়ে রাখতে হবে।
 
অ্যাপ্লিকেশানের প্রয়োজনীয় যে ভ্যারিয়েবলগুলো অ্যাডমিশান কমিটি দেখতে চান সে ধারাবাহিকতায় সিভি সাজাতে হবে। এজন্য এডুকেশনাল কোয়ালিফিকেশান > স্ট্যান্ডার্ডাইজড টেস্ট স্কোর > রিসার্চ এক্সপেরিয়েন্স > জার্নাল পাবলিকেশান > জব এক্সপেরিয়েন্স > এক্সট্রা-কারিকুলার এক্সপেরিয়েন্স – এভাবে সিভি সাজাতে পারেন।
 
এটা পুরোটাই আপনার পছন্দ আর রুচির ব্যাপার। সিভির ডিজাইন, ফন্ট, ফন্টের সাইজ, স্পেসিং ইত্যাদি আপনার উপর ডিপেন্ড করবে। অনেকে প্রচুর বক্স ইউজ করে, কেউ করে না, কেউ কালার ইউজ করে, কেউ সাদা-কালোতেই কাজ সারে – কত রকম উদাহরণই তো আছে। আপনার জন্য অ্যাপ্রোপ্রিয়েট ফরম্যাটটি খুঁজে বের করুন।
 
বক্স ব্যবহার করলে সুবিধা হলো আপনার তথ্যগুলো গুছিয়ে, কোন কথা ব্যয় না করেই ফুটিয়ে তুলতে পারবেন। যেমন এডুকেশানে ডিগ্রি, প্রতিষ্ঠান, সাল, রেজাল্ট, বিশেষ কৃতিত্ব ইত্যাদি পয়েন্টগুলো বক্সে তুলে ধরতে পারেন – যাতে চোখ বুলিয়েই যে কেউ বুঝতে পারে।
 
পিএইচডি অ্যাপ্লিকেশানে রিসার্চ এক্সপেরিয়েন্স খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনি যে গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টগুলোতে কাজ করেছেন, যে প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কাজ করেছেন, সেখান থেকে কী ধরনের রিসার্চ এক্সপেরিয়েন্স হয়েছে, রিসার্চের কোন টুলসগুলো ব্যবহার করেছেন এই বিষয়গুলো বর্ণনা করবেন।
 
রচনামূলকভাবে বর্ণনা না করে টু দ্যা পয়েন্ট ইনফরমেশান দিবেন সিভিতে। ব্যাখ্যা করার জন্য স্টেটমেন্ট অব পারপাস, স্কাইপ ইন্টারভিউ, ইমেইল এসব তো আছেই। সিভি হলো এক নজরে আপনার সকল তথ্যের সামারি। এটাকে সিম্পল রাখাই ভালো।
 
অনেক এক্সট্রা-কারিকুলারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্ট হাইলাইট করুন। কবে কোথায় কম্বল বিতরন করতে গিয়েছিলেন এটা গুরুত্বপূর্ণ হলেও রিসার্চ ডিগ্রির অ্যাপ্লিকেশানে প্রয়োজনীয় তথ্য নাও হতে পারে। তাই বুঝে কাজ করবেন।
 
অ্যাপ্লিকেশানের সিভিতে রেফারেন্স দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। কারণ রেফারেন্স লেটার তো আলাদাভাবে আপনাকে সাবমিট করতেই হবে। তাই রেফারেন্সের জন্য জায়গা নষ্ট না করাই ভালো।
সিভির স্পেসিংটা সুন্দরভাবে করবেন। কোথাও স্পেসিং কম, কোথাও বেশী, কোন বক্স বড় আবার কোনটি ছোট, কোথাও এক ধরনের ফন্ট কোথাও অন্যরকম, কোথাও বোল্ড করেছেন কোথাও করেননি, কোথাও আন্ডারলাইন করেছেন কোথাও করেননি এই ছোটখাটো এররগুলো সারিয়ে ফেলবেন। যেহেতু অল্প কথায় কাজ সারতে চাইছেন তাই বানান ভুল থাকবে না এটাই তো কাম্য তাই না?
 
এবার একটি উদাহরণ বলি। এলন মাস্ক নামে একজন মহামানব বাস করেন এই পৃথিবী নামক গ্রহে। অধম এই মহামানবের অন্ধ ভক্ত। তো এলন মাস্ক ভাইয়ের সিভি পড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল একবার। পুরো ডকুমেন্ট দেখে তো অধম মাথা চুলকাচ্ছে অনবরত – সিভি কই?
 
পরে, অনেক পরে গিয়ে, এই গোবর মস্তিষ্কের খেয়াল হলো সামনের এই এক পেজের কাগজটাই সিভি। অর্থাৎ এই মহামানবের সিভির দৈর্ঘ মাত্র ১ পেজ, এক পাশে প্রিন্ট করা উভয় পাশের ২ পেজও না।
 
তো এই এক পেজেই মাস্ক ভাই তার সকল তথ্য সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। তার সম্পর্কে যা যা জানতে ইচ্ছে করতো সবকিছুই ঐ এক পেজে পেয়ে গেলাম। অধম মহা পুলকিত হয়েছিল!

ডিসক্লেইমার

পূর্ববর্তী পর্ব: রোড টু পিএইচডি-১৯: WES ভেরিফিকেশন

পরবর্তী পর্ব: রোড টু পিএইচডি-২১: মাস্টার্সের থিসিস হলো মূল চাবি

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 




জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর