ডা. বাহারুল আলম

ডা. বাহারুল আলম

প্রখ্যাত পেশাজীবী নেতা


২০ অক্টোবর, ২০১৭ ০৮:৫৬ এএম

এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ জরুরি

এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ জরুরি

ঔষধ যখন পণ্য হয়, তখন মুনাফার লোভে উৎপাদন ও বিপণনকারী কোম্পানি ঔষধের যথেচ্ছাচার ব্যবহার তাদের অনুকূলে নিয়ে আসে। যত বেশি ব্যবহার হবে তত চাহিদা বাড়বে, তত বেশি বিক্রয় হবে এবং কোম্পানি মুনাফা লাভ করবে। বহুল ব্যবহৃত ঔষধ ‘এন্টিবায়োটিক’ রেজিস্ট্যান্ট হয়ে মানব বিপর্যয় ঘটাতে পারে - এ চিন্তা ঔষধ কোম্পানিগুলোর নাই। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ‘কোন স্তরের চিকিৎসকদের জন্য এন্টিবায়োটিক প্রেসক্রিপশন সংরক্ষিত থাকবে’ - নির্ধারণ করে দেয় নি।

যত্রতত্র অপ্রয়োজনে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করার ফলে রেজিস্ট্যান্ট হয়ে চিকিৎসার ক্ষেত্রে মানব জীবনে বিপর্যয় ডেকে এনেছে। উৎপাদনকারী কোম্পানি সমূহকে মুনাফার লোভে সে বিষয়ে কখনও ভ্রুক্ষেপ করতে দেখা যাচ্ছে না।

এর সাথে যুক্ত আছে পল্লী চিকিৎসক থেকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকবৃন্দ। এন্টিবায়োটিক লেখার ক্ষেত্রে এদের উপরে রাষ্ট্রের কোন নিয়ন্ত্রণ বা নীতিমালা বলবৎ নাই।

একদিকে মুনাফা আর একদিকে মুক্তবাজার- এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট না হওয়ার কোন কারণ থাকতে পারে না। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োগকারী ব্যক্তি উভয়ের দৃষ্টি যদি কেবল মুনাফার দিকে থাকে, তাহলে জন বিপর্যয় বা জন দুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে।

নিয়ন্ত্রণের শীর্ষে রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের ক্ষমতা অপরিসীম। জনস্বার্থে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় নীতিমালা বলবৎ করে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট থেকে তার জনগণকে রক্ষা করতে পারে- কিন্তু করে নি বা করছে না।

রাষ্ট্র যেহেতু পুঁজিপতিদের আধিপত্যের বলয়ে অবস্থান করছে, ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে সে অসহায়। নিয়ন্ত্রণের যে কোন কঠোর আইন বহুজাতিক ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মুনাফার উপর হাত পড়বে। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নীতিমালার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের হাত সংকুচিত হয়ে যায়। ঔষধ উৎপাদন, বিপণন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আইন প্রস্তুত করেও তা টেকসই রাখতে পারে না।

১৯৮২ সালের ড্রাগ অর্ডিন্যান্স এখন আর কার্যকরী নাই। এ অর্ডিন্যান্সে ঔষধ উৎপাদন, বিক্রয় ও বিপণন রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল। জনস্বার্থ ক্ষুণ্ণ হতে পারে এরকম কোন ঔষধের যথেচ্ছাচার ব্যবহার অনুমোদিত ছিল না। বহুজাতিক কোম্পানির চাপে ড্রাগ অর্ডিন্যান্স কাটছাঁট করতে করতে তা নখরবিহীন ব্যাঘ্রে রূপান্তরিত হয়েছে। ১৯৮২ সালের ড্রাগ অর্ডিন্যান্স বলবৎ থাকলে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হওয়ার কোন সুযোগ থাকত না।

এভাবে রাষ্ট্র ও রাজনীতি নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা হারালে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জন বিপর্যয় কোনভাবেই ঠেকানো যাবে না। এ বিষয়ে মাননীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ ও জরুরি হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানাচ্ছি।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত