ডা. শরীফ উদ্দিন

ডা. শরীফ উদ্দিন

রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ

 

 


১৬ অক্টোবর, ২০১৭ ০৯:৫৫ পিএম

চিকিৎসা শাস্ত্রের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন ১৬ই অক্টোবর

চিকিৎসা শাস্ত্রের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন  ১৬ই অক্টোবর

ডাক্তারদেরকে কসাই বলা বা হাসপাতালকে কসাইখানা বলার প্রচলন সাম্প্রতিক বাংলাদেশের কমিশনখোর বা দুর্ব্যবহারকারি ডাক্তারদেরকে দেখে শুরু হয়নি। ১৮৪৫ সালের পূর্বে সার্জারি বা শল্য চিকিৎসার কোনো উন্নতিই সম্ভব হয়নি। এই সময়ে প্রথম এনেস্থেশিয়া আবিষ্কার হয়। এর আগে যেকোনো রকম অস্ত্রোপচার খুব কঠিন ছিলো। মাথা বা পেটের ভিতর কোনো ধরণের অস্ত্রোপচার কল্পনাতীত ছিলো। এই জায়গাগুলোকে বলা হতো No Go Area। অন্যান্য অস্ত্রোপচারগুলোর প্রক্রিয়াগুলোও ছিলো খুবই মর্মান্তিক। বিখ্যাত সার্জন লিস্টন মুত্রাশয়ের পাথরে আক্রান্ত এক রোগীর অপারেশন করছিলেন। অপারেশনের এক পর্যায়ে রোগী ডাক্তারের সহকর্মীদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে নিকটস্থ শৌচাগারে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে বহু কষ্টে রোগীকে বের করে অপারেশন করা হয়।

১৮৪৯ সালে নিউইয়র্কে পনেরো বছর বয়সী এক কিশোরের পায়ে একটি সাদা টিউমারের জন্য পা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। চিকিৎসক কিশোরের ফিমোরাল শিরা স্পর্শ করেন এবং পা উঁচু করে ধরেন যাতে রক্তপাত কম হয়। পায়ের টিউমারটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছিলো। কিশোরের পিতা শক্ত করে তার মাথা এবং পা ধরে রাখেন। প্রফেসর বিশাল চকচকে ছুরি হাতে কিশোরের পায়ের হাড় স্পর্শ করেন। ছেলেটির ভয়ানক চিৎকার আর ধস্তাধস্তি পরিবেশকে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর করে তুলছিলো। তার বাবার গণ্ডদেশ বেয়ে অশ্রু গড়াচ্ছিলো। হেরাল্ড ট্রিবিউন পত্রিকায় এই ঘটনার অত্যন্ত মর্মান্তিক বর্ণনা প্রকাশিত হয়। এই যে কসাইখানার পশুদের সাথে ধস্তাধস্তির মত করে সার্জনদের অস্ত্রোপচারের চেষ্টা- এটাই হাসপাতালকে কসাইখানা আর চিকিৎসকদের কসাই পরিচিতি এনে দেয়।

এনেস্থেসিয়ার আবিষ্কার মানুষকে এই সীমাহীন কষ্ট থেকে রেহাই দেয় আর ডাক্তারদের রেহাই দেয় কসাই উপাধি থেকে।হাসপাতালগুলোও তখন থেকে রোগীর আর্ত চিৎকার থেকে রেহাই পায়।

দিনটি ছিলো ১৮৪৬ সালের ১৬ই অক্টোবর।শল্য চিকিৎসা শুধু নয়, দিনটি ছিলো চিকিৎসা শাস্ত্র এবং মানবজাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন।এই দিন ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে প্রথম ইথার এনেস্থেসিয়ার সফল প্রয়োগ করা হয়। এ আবিস্কারের পর ব্যথা ছাড়াই বড় বড় সার্জিকাল অপারেশনগুলো সফল করার দিকে এগিয়ে যান চিকিৎসকরা।এর পর থেকেই সম্ভব হতে থাকে অসাধারণ সব অপারেশন।চিকিৎসা শাস্ত্রের ইতিহাসে এই দিনটি তাই অসাধারণ গুরুত্ব বহন করে।এই দিনটি (১৬ই অক্টোবর) তাই এখন 'বিশ্ব এনেস্থেসিয়া দিবস' হিসেবে সারা বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। ১৫০ টির অধিক দেশে এনেস্থেসিওলজিস্টদের ১৩৪টির বেশি সংগঠন এই দিনটি উদযাপনে অংশগ্রহণ করেন।

পৃথিবীর তাবৎ অবেদনবিদ তথা এনেস্থেসিওলজিস্টদের জন্য শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা, যারা পর্দার আড়ালে থেকেই বড় বড় অপারেশনগুলো সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত