ঢাকা      রবিবার ১৮, অগাস্ট ২০১৯ - ৩, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. ফাতেমা খান

সৌদি প্রবাসী চিকিৎসক


সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যে যত্নবান হোন

হলিক্রস স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেধাবী ছাত্রী স্বর্ণার সুইসাইডকে কেন্দ্র করে প্রায় সব সংবাদ মাধ্যমই " ব্লু হোয়েল " এ্যাপ কে দায়ী করলেও তার বাবা আইনজীবী সুব্রত বর্ধন বলছেন তার মেয়ের ব্যাপারে এসব বাজে কথা ছড়িয়ে মৃত্যুর পরও তাকে অনেক নিচে নামানো হচ্ছে। তবে তিনি একথাও বলেছেন যে তার মেয়ে রাত জেগে এন্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করত এবং কি করছে জানতে চাইলে স্বর্ণার কাছ থেকে কোন উত্তর পাওয়া যেত না। কথা হল, সুইসাইডের কারণ যাই হোক, একটা ছেলে বা মেয়ে দিনের বেলা বা রাত জেগে এন্ড্রয়েড ফোনে কি করছে তা তার অভিভাবক জানবে না কেন?

কিছুক্ষণের জন্য না হয় "ব্লু হোয়েল" এর কথা ভুলে যাই।

আমাদের দেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ টিনএজার বা এ্যাডোলেসেন্ট আত্নহত্যা করছে তার সংখ্যা কিন্তু একদম নগন্য নয়। একটা উন্নয়নশীল দেশ, যেখানে গর্ভকালীন কোন মায়ের পুষ্টিহীনতাকে সামাল দিতেই একটা পরিবার হাঁপিয়ে ওঠে, যেখানে একটা শিশুর কেবল স্কুলে ভর্তির জন্য শত সংগ্রাম আর আর্থিক ত্যাগ সাধন করতে হয়, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া সন্তানের মাস্টার বা কোচিং এর খরচাখরচ যেখানে মা, বাবা বা আত্নীয় স্বজনদের অনেক নীরব ত্যাগ তিতিক্ষার স্বাক্ষর বয়ে বেড়ায়, সেখানে এদের হুটহাট আত্নহত্যা শুধু বেমানানই না, রীতিমত ভাবিয়ে তোলার মতই একটা বিষয়। আর এই কঠিন অপরাধ এর ভাগিদার আমরা সবাই। একদিনের সিদ্ধান্তে কেউ সুইসাইড করে না, দিনে দিনে আশপাশের মানুষ এবং পরিস্থিতি যখন একজন মানুষকে পুরোপুরি নিজেকে অপাংক্তেয় বা অপ্রয়োজনীয় ভাবতে বাধ্য করে তখনই সে সব ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। খুব সহজ কাজ না!

২১ বছর বয়সী রাশিয়ান যুবক ফিলিপ বুদেকিন কে ব্লু হোয়েল গেইম তৈরী করার অপরাধে যখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তখন সে এটিকে "সোসাইটি ক্লিনজিং" গেইম বলে অবহিত করে। যারা এই গেইমের ফাঁদে পা দিয়ে সুইসাইড করবে তারা " বায়োলজিকাল ওয়েস্ট " বলেই তার ধারণা। কি রকম জায়েন্ট ক্রিমিনাল ব্রেইন হলে সে এমনটা করতে পারে ভাবতে পারছেন ! সে নিজেও সাইকোলজি কোর্সে পড়ুয়া ছাত্র ছিল যাকে ইউনিভার্সিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তার বক্তব্য হল খুব বিষণ্ন, একাকী বা মানসিকভাবে দূর্বল মানুষগুলোই এর শিকার হয় যারা আসলে এই পৃথিবীর জন্য কেবল আবর্জনা। ১২ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে কিশোরীরাই এর ফাঁদে পা দিয়েছে।

রাশিয়া বা ভারতে এ পর্যন্ত যারাই ব্লু হোয়েল ভিক্টিম জানামতে তারা মোটামুটি একাকীত্ব বা বিষণ্নতা নিয়ে বেঁচে ছিল। ইমোশনালি ওদের ব্ল্যাকমেইল করা খুব সহজ ছিল বলেই তারা সহজেই ব্লু হোয়েল এর শিকার হয়েছে।

আমার তো মনে হয় ব্লু হোয়েল এর ব্যাপারে সতর্কতা তো বটেই, এছাড়াও সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে যত্নবান হওয়াটাও সমপরিমাণ জরুরী। বেশী বেশী তাদের সময় দেয়া, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দেয়া, কোন বিষয়ে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ না করে চেষ্টা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করা, তিরষ্কার না করে প্রশংসা করা, "পজিটিভ থটস" বা ইতিবাচক চিন্তা করতে শেখানো এ বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখা যেতে পারে। তা না হলে দূর্বল মানসিকতার যে কেউ শুধু ব্লু হোয়েল কেন যেকোন বিরূপ পরিস্থিতিতে সুইসাইড করতে উদ্বুদ্ধ হবেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সরকারি হাসপাতালে নানা অনিয়মই যখন নিয়ম!

সরকারি হাসপাতালে নানা অনিয়মই যখন নিয়ম!

একজন কনসালটেন্ট তার মামাতো ভাইকে দেখাতে এসেছে। রোগীর সাথে কথা বলছি, এই…

ডেঙ্গু নিয়ে ব্যবসা করার চেষ্টা করবেন না 

ডেঙ্গু নিয়ে ব্যবসা করার চেষ্টা করবেন না 

গুজবে কান দেয়া হুজুগে মনুষ্য জাতির এক সহজাত প্রবৃত্তি। এই সুযোগটাকেই কাজে…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর