ঢাকা      রবিবার ১৮, অগাস্ট ২০১৯ - ৩, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা নহে

মননশীল প্রাণী বলিয়াই মানুষ প্রধানত বাঁচে মানসিকভাবে। অর্থাৎ মানসিক অবস্থার উপর নির্ভর করে একটি মানুষের ভালো বা খারাপ থাকা। সেই কারণে মানসিক সুস্থতাকে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হইয়া থাকে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় জানা গিয়াছে, কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশে পাঁচজনে একজন মানসিক সমস্যায় ভুগিতেছেন। বিশ্বে কর্মক্ষেত্রে বিষণ্নতায় ভোগা ৫০ শতাংশ মানুষ কোনো চিকিৎসা পায় না। আর বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও চিকিৎসকের সংকটের কারণে মানসিক চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ নাই ৯০ শতাংশ মানুষের। তাহা ছাড়া প্রচলিত কুসংস্কার এবং চাকুরী হারাইবার ভয়েও আক্রান্ত ব্যক্তি তাহার অসুস্থতার বিষয়টি লুুকাইয়া রাখেন। আবার পরিবারও অনেক সময় সহযোগিতামূলক আচরণ না করিয়া বরং আক্রান্ত ব্যক্তিকে এড়াইয়া চলে। ইহাতে একদিকে যেমন কর্মীদের কর্মদক্ষতা হ্রাস পাইতেছে, অন্যদিকে বিপুল আর্থিক ক্ষতিও হইতেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা 'ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব মেন্টাল হেলথ'-এর নেতৃত্বে ‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কর্মস্থলে মানসিক স্বাস্থ্য’ শীর্ষক সেমিনারে এইসকল তথ্য উঠিয়া আসিয়াছে।

আমাদের দেশে প্রকৃত মানসিক রোগীর সঠিক পরিসংখ্যান না থাকিলেও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী দেখা যায়—কোনো না কোনো মানসিক সমস্যা রহিয়াছে বাংলাদেশে এমন লোকের সংখ্যা ২ কোটিরও বেশি। মানসিক রোগ আত্মহত্যার ঝুঁকিকে বহুগুণে বাড়াইয়া দেয়। দেশে ১৫ হইতে ২৯ বৎসর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ হতাশাবোধ। সুতরাং ১৬ কোটির এই বিপুল জনগোষ্ঠীর দেশে মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলার সুযোগ নাই। কিন্তু ২০১৭ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যে উঠিয়া আসিয়াছে বাংলাদেশের মানসিক চিকিৎসার হতাশাব্যঞ্জক চিত্র। জানা যায়, সারা দেশে মাত্র ৩০০ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রহিয়াছেন। সেই হিসাবে ৫ লক্ষ ২০ হাজার রোগীর জন্য মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। জানা যায়, যাহারা ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, শ্বাসকষ্ট, ক্যান্সার, স্ট্রোক, হূদরোগ ও মৃগীসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগিতেছেন, তাহাদের মানসিক রোগে আক্রান্ত হইবার আশঙ্কা সাধারণ মানুষের তুলনায় তিন হইতে চার গুণ বেশি। তাহা ছাড়া দারিদ্র্য, বেকারত্ব, নিঃসঙ্গতা, পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের সমস্যা, বিবাহবিচ্ছেদ, প্রবাস জীবন, অভিবাসন, মা-বাবার দাম্পত্য কলহ, মাদক সেবন ইত্যাদি মানসিক রোগে আক্রান্ত হইবার ঝুঁকি প্রবলভাবে বৃদ্ধি করে। সেন্টার ফর প্রিভেনশন ও হেলথের তথ্যানুযায়ী, কর্মীর মানসিক অসুস্থতার কারণে বিশ্বজুড়িয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিবৎসর ৭৯ থেকে ১০৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। পৃথিবীব্যাপী মানসিক রোগের বিস্তারের ভয়াবহতা উপলব্ধি করিয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশঙ্কা করিতেছে, ২০৩০ সাল নাগাদ বিষণ্নতা হইয়া উঠিবে প্রথম এমার্জিং রোগ। কিন্তু এইসকল কথা যেন কেবল নির্দিষ্ট একটি দিবসের আলোচনার বিষয় হইয়াই আড়ালে থাকিয়া যায়।  

সুতরাং সময় আসিয়াছে, মানসিক রোগ সম্পর্কে নানামুখী প্রচারণা চালাইবার। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে মানসিক রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংযোজন করা প্রয়োজন। সরকারিভাবে আমাদের দেশের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে মানসিক রোগের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নাই। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বাংলাদেশে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হইয়াছে। মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার বিষয়টি তবে কেন সেই অগ্রগতির তালিকায় যুক্ত হইবে না?

সূত্র: ইত্তেফাক

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সরকারি হাসপাতালে নানা অনিয়মই যখন নিয়ম!

সরকারি হাসপাতালে নানা অনিয়মই যখন নিয়ম!

একজন কনসালটেন্ট তার মামাতো ভাইকে দেখাতে এসেছে। রোগীর সাথে কথা বলছি, এই…

ডেঙ্গু নিয়ে ব্যবসা করার চেষ্টা করবেন না 

ডেঙ্গু নিয়ে ব্যবসা করার চেষ্টা করবেন না 

গুজবে কান দেয়া হুজুগে মনুষ্য জাতির এক সহজাত প্রবৃত্তি। এই সুযোগটাকেই কাজে…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর