ঢাকা      মঙ্গলবার ১৮, জুন ২০১৯ - ৪, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী

কুমিল্লার কৃতি সন্তান ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত

ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার একজন খ্যাতিমান মহৎ চিকিৎসক। তাঁর মত একজন কীর্তিমান চিকিৎসকের জন্ম কুমিল্লা’র মাটিতে। তিন যুগেরও বেশি সময় জুড়ে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিচরণ তাঁর। তিনি কেবল একজন চিকিৎসকই নন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবেও ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছেন।

মাঝারি আকারের চেম্বার। দুই পাশে সিরিয়ালে রোগীদের বসার অতি সাধারণ জোড়া চেয়ার। এক পাশে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। চেম্বারের বাকি পাশটাতে বিশ্রামাগার। সেখানে তিন দিকে সেলফে রয়েছে গাদাগাদা বই। ভেতরে জায়গা না হওয়ায় অসংখ্য বই সেলফের ওপর ও বিছানার ওপরেও রাখা। কিছু বই এমন এলোমেলো যেন কিছুক্ষণ আগে পড়া হয়েছে। বিশ্রামাগারের উত্তর পাশে একটি কম্পিউটার। এই হলো অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের চেম্বারের খণ্ডচিত্র।

অত্যন্ত সাদাসিধা জীবনের অধিকারী এ মানুষটির খ্যাতি রয়েছে চিকিৎসা, অধ্যাপনা জীবন ও ব্যক্তি জীবনেরও। টানা দুবার (২০০৯-২০১৫) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর থাকা এ চিকিৎসক বলেন, রোগীদের মনে করতে হবে দেবতা। হাসপাতালকে ভাবতে হবে উপাসনালয়ের মতো পবিত্র স্থান। তাহলে এ জাতি দিয়ে কিছু করা যেতে পারে।

রাজধানীর গ্রীন রোডের গ্রীন লাইফ হাসপাতালের ৪ তলার চেম্বারে গিয়ে দেখা যায় অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্তের ব্যস্ততম জীবনাচরণ। তার কাছে আসা রোগীদের মধ্যে শিশুদের সঙ্গেও অত্যন্ত কোমল আচরণ করেন। কিছুক্ষণ রোগী দেখার ধরন দেখে অনুমান করা যায় চিকিৎসার ক্ষেত্রে শিশুদের ভয় কাটাতেও পারদর্শী তিনি। সবার সঙ্গে আচরণও করেন অত্যন্ত সাদাসিধা। মুহূর্তেই কাছে টেনে নিতে পারেন যে কোন ধর্ম-বর্ণের লোককে।

এই কর্মযোগী ১৯৫৩ সালের ১লা অক্টোবর কুমিল্লার চান্দিনার মহিচাইল গ্রামে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দিনটা ছিল রোববার সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট। পিতা কালাচান দত্ত ছিলেন দাদার বড় ছেলে। দাদা অশ্বিনীকুমার দত্ত সে আমলে পাস করা ডাক্তার থাকায় তাদের বাড়িটা ডাক্তার বাড়ি নামেই পরিচিত ছিল। তিনি  ১৯৬০ সালে প্রাথমিকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এবং ১৯৬৩ সালে মহিচাইল হাইস্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। তিন বছর পর ১৯৬৬ সালে চান্দিনা পাইলট হাইস্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন বিজ্ঞান বিভাগে। ১৯৬৮ সালে ৫ বিষয়ে লেটারসহ স্টার মার্ক নিয়ে মেট্রিক পাস করেন। পরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ১৯৭০ সালে ইন্টার পাস করেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৭৬ সালে এমবিবিএস শেষ করেন। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মুখ সমরে অংশ গ্রহণ করেন। এরপর ১৯৮১সালে ঢাকা থেকে এফ.সি.পি.এস একই বছর তিনি তাঁর প্রিয় বিষয় অটোলারিঙ্গোলজি বিষয়ে এম.এস. করেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ওদেসা ষ্টেট মেডিকেল ইন্সটিটিউট থেকে। ১৯৮৩ সনে তিনি যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে অডিও ওলজিক্যাল মেডিসিন বিষয়ে এম.এস.সি. করেন। জ্ঞানার্জনে নিরন্তর অধ্যবসায়ী  প্রফেসর ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত ২০০৭ সালে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোতে অবস্থিত রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ান এন্ড সার্জনস থেকে এফ.আর.সি.এস ফেলোশিপ অর্জন করেন। এর পরের বছর ২০০৮ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান এন্ড সার্জনস তাঁকে এফ.সি.পি.এস ফেলোশিপ প্রদান করেন।

প্রাণ গোপাল দত্ত ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৩য় বর্ষে পড়াকালে পরিচয় হয় ১ম বর্ষের ছাত্রী জয়শ্রী রায় জয়ার সঙ্গে। পরিচয় সূত্রে আলাপ, পড়ার বিষয়ে শেয়ারিংয়ের মধ্য দিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে চলে। ১৯৭৯ সালের ১৮ই জুন সম্পর্ক প্রণয়ে পরিণত হয়। ডা. জয়শ্রী রায় জয়া গাইনি বিশেষজ্ঞ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগে অধ্যাপনা করেন। চাকরি মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন বছর আগেই স্বামীর অনুরোধে অবসর গ্রহণ করেন। দাম্পত্য জীবনে ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত ও ডা. জয়শ্রীর রয়েছে দুই ছেলেমেয়ে। ১৯৮২ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের প্রথম সন্তান অনিন্দিতা দত্তের জন্ম হয়। তিনি দিল্লির লেডি হার্ডিঞ্জ কলেজ থেকে রেডিওলজি বিভাগ থেকে পাস করেছেন। এখন গ্রীন লাইফ হাসপাতালেই রেডিওলজিস্ট হিসেবে কাজ করেন। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন ডা. পার্থ প্রতিম দাশের সঙ্গে। তার ছেলে অরিন্দম দত্ত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে এ লেভেল করেছে।

স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত প্রথিতযশা এ চিকিৎসক ১৯৯০ সাল থেকে প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিকিৎসা করছেন। এছাড়া, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদেরও চিকিৎসা করেছেন তিনি। চিকিৎসা করেছেন বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ার ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে। চিকিৎসা দিয়েছেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানকেও। অত্যন্ত সাদাসিধা জীবনের অধিকারী এ বিখ্যাত চিকিৎসক স্কুল জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। শিক্ষা জীবনের পুরো সময় ছাত্রলীগের রাজনীতি করলেও সেটা কখনও পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারেনি।

সৌজন্যে : dailycomillanews.com

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর