ডা. আদনান সিরাজী

ডা. আদনান সিরাজী

ইন্টার্ন চিকিৎসক, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


১১ অক্টোবর, ২০১৭ ০৮:২২ পিএম

শিশুকে নিউমোনিয়া থেকে বাঁচাবে ডা. চিশতির শ্যাম্পুর বোতল!

শিশুকে নিউমোনিয়া থেকে বাঁচাবে ডা. চিশতির শ্যাম্পুর বোতল!

১৯৯৬ সালে ডা. মোহাম্মদ জোবায়ের চিশতি কাজ করছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক্স (শিশু) বিভাগে। সেদিন সন্ধ্যায় তিনি নিজের কাছেই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, নিউমোনিয়া থেকে শিশুদের বাঁচানোর জন্য তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তাঁর ভাষায়, "শিক্ষানবীশ চিকিৎসক হিসাবে আমার প্রথম রাত। চোখের সামনেই দেখেছিলাম তিনটি বাচ্চার মৃত্যু। এত অসহায় মনে হয়েছিল নিজেকে যে কেঁদেই ফেলেছিলাম!''

নিউমোনিয়া চিকিৎসার গোটা ব্যাপারটা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বেশ ব্যয়বহুল। উন্নত দেশগুলির হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত বাচ্চাদের ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে শ্বাস নেওয়ার ব্যবস্থা করানো হয়। কিন্তু সেই যন্ত্রগুলির প্রতিটির দাম ১৫ হাজার ডলার, বাংলাদেশী টাকায় যা প্রায় ১২ লক্ষ টাকা! এ ভেন্টিলেটর চালানোর জন্যও বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কর্মী প্রয়োজন হয়।

দুই দশকের গবেষণার পর ডা. চিশতি নিয়ে এসেছেন একেবারেই সহজলভ্য একটি উপায় যা হাজারো বাচ্চার জীবন বাঁচাতে পারে! ডা. চিশতির আবিষ্কৃত প্লাস্টিকের বোতলের তৈরী বাবল CPAP মেশিনের জন্য খরচ পড়বে মাত্র ১.২৫ ডলার বা ১ পাউন্ড বা প্রায় ১০০ টাকা!

ডা. চিস্তি তাঁর এ সংক্রান্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছিলেন দ্য ল্যান্সেট পত্রিকায়। তাঁর পরীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত বাচ্চাদের যন্ত্রের মাধ্যমে অল্পমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহের বদলে এই বাবল সিপিএপি যন্ত্রের মাধ্যমে চিকিৎসা করিয়ে শিশুমৃত্যুর হার অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। যন্ত্রটি ব্যবহারে শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা যাচ্ছিলো ৭৫ শতাংশ!

২০০০ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের গাইনী এন্ড অবস ডিপার্টমেন্টের তৎকালীন হেড অধ্যাপক ডা. সায়েবার যুগান্তকারী আবিষ্কার কনডম টেমপোনেডের জন্য জীবন বাঁচে লক্ষ লক্ষ প্রসূতি মায়েদের। আন্তর্জাতিক মেডিকেল জার্নালগুলোতে স্বীকৃতি পায় তাঁর এই যুগান্তকারী আবিষ্কার, Sayeba's Method নামে! আফসোসের বিষয়, আমাদের মিডিয়ায় এসব কাভারেজ পায়না। বরং সম্প্রতি কেনিয়ার অ্যানি মুন্জেলা নামের মিড ওয়াইফ কতৃক কনডম ক্যাথেটার দিয়ে ৬ জন প্রসূতি মায়ের প্রসব পরবর্তী রক্তপাত বন্ধের ঘটনা আমাদের মিডিয়াগুলো প্রকাশ করে গর্বের সাথে! অথচ বিগত ১৭ বছর ধরে ডাঃ সায়েবার কনডম ক্যাথেটার দেশে বিদেশে কত লক্ষ প্রসূতি নারীর জীবন বাঁচিয়েছে, সেসব ঘটনা সচেতন ভাবে তারা এড়িয়ে গেছে!

দেশের কৃতি সন্তানদের কৃতিত্বগুলো বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে আমাদের মিডিয়াগুলো যত কৃপণ, ঠিক ততটাই উদার কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল কথিত সুন্দরী প্রতিযোগিতার কাভারেজের ক্ষেত্রে! পত্রিকার পাতায়, টিভি চ্যানেলগুলোয় এসবের নিউজ দেয়া বা লাইভ অনুষ্ঠান দেখানোর উদ্দেশ্যই হলো এদেশের সম্ভাবনাময় তরুণ তরুণীদের মেধার চর্চা না করা, তাদের মানব কল্যাণে গবেষণা বিমুখ রাখা! পজিটিভ নিউজ না দিলেও মিডিয়া বিশেষত চিকিৎসকদের নেতিবাচক খবর গুলো কোনোরকম যাচাই বাচাই ছাড়াই প্রকাশের মাধ্যমে চিকিৎসক সমাজকে জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করে। অথচ ডা. চিস্তি, ডা. সায়েবার অবদানগুলো দেশের মিডিয়াগুলোতে প্রকাশিত হলে অস্হির তারুণ্য তাদের জীবনের রোল মডেলদের হয়তো খুঁজে পেতো!

কষ্ট নিয়ে হলেও অন্তর থেকে স্যালুট জানাবো ডা. চিশতিকে, ডা. সায়েবা ম্যাডামকে। নিউমোনিয়ার হাত থেকে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর লক্ষ শিশুর জীবন বাঁচাতে, তাদের মায়েদের প্রসব পরবর্তী মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে।

এদেশ আপনাদের স্বীকৃতি না দিতে পারে কিন্তু বিশ্বের কাছে আপনাদের কাজের স্বীকৃতি আছে। আর সৃষ্টিকর্তার কাছেও নিশ্চয়ই আপনাদের অসামান্য কৃতিত্বের পরিপূর্ণ স্বীকৃতি আপনারা পাবেনই!

দাবি পেশাজীবী সংগঠনের, রিট পিটিশন দায়ের

‘বেসরকারি মেডিকেলের ৮২ ভাগের বোনাস ও ৬১ ভাগের বেতন হয়নি’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত