ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

জনস্বাস্থ্য গবেষক

ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া


১০ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:০৮

রোড টু পিএইচডি-১০: ফ্যাকাল্টির সাথে যোগাযোগ

রোড টু পিএইচডি-১০: ফ্যাকাল্টির সাথে যোগাযোগ

অ্যাপ্লিকেশন করার আগে যেখানে অ্যাপ্লাই করতে চান সে ডিপার্টমেন্টের প্রফেসরদের সাথে যোগাযোগ করার নামই ফ্যাকাল্টি যোগাযোগ।

ফ্যাকাল্টি যোগাযোগ করার মূল উদ্দেশ্য, উনার কাছ থেকে পয়সা আদায় করা। অর্থাৎ প্রফেসরের হাতে ফান্ড আছে কি না, থাকলে সেখান থেকে কতখানি আপনি পেতে পারেন এসব কারণে ফ্যাকাল্টি যোগাযোগ করা প্রয়োজন।

ফ্যাকাল্টি যোগাযোগ করা কি করতেই হবে? এই প্রশ্নের কোন স্পেসিফিক উত্তর নেই। এটি পুরোপুরি ডিপেন্ড করে আপনার প্রোগ্রামের উপর, প্রফেসরের উপর। তাঁদের সম্পর্কে এ ধরনের ইনফরমেশন আগে থেকে জানা কঠিন। ঐ প্রোগ্রামে যদি আগে থেকে কোন বাংলাদেশি এনরোলড থাকেন, তবে তিনি হয়ত কিছু তথ্য দিতে পারবেন।

প্রফেসরকে কিভাবে মেইল করতে হয়? কী লিখতে হয়? কী লিখতে হয় না? এসব প্রশ্নের উত্তর সাজিয়ে গুগল বাবা বসে আছে। ওকে জিজ্ঞেস করুন। নিঃস্বার্থভাবে আপনাকে দিয়ে দেবে। আমাদের কাছে ফ্রি জিনিসের মূল্য কম। তাই গুগল বাবার গুরুত্ব বুঝি না। ট্রাস্ট মি, গুগল আপনাকে এগিয়ে দেবে।

সব নেগেটিভের পরও আসলে প্রফেসরদেরকে নক করা উচিত। আন্দাজে কয়েকশ ঢিল ছুঁড়লে হঠাৎ করে একটা লেগেও যেতে পারে। তাই প্রফেসরদেরকে ইমেইল করতে হবে এমন মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নিন।

খেয়াল রাখতে হবে যেন একই ডিপার্টমেন্টের ২ জন প্রফেসরকে একই ইমেইল না দেন। মানে কপি পেস্ট করার জন্মগত বৈশিষ্ট্য থেকে কিছুটা হলেও বের হতে হবে। প্রতি প্রফেসরের জন্য আলাদা আলাদা ইমেইল লিখতে হবে।

কোন প্রফেসরকে মেইল করার আগে তার সিভি ভালো করে পড়ে নিন। তাঁর রিসার্চ এরিয়া, ইন্টারেস্ট ইত্যাদি বোঝার চেষ্টা করুন। কী ধরণের প্রজেক্টে তিনি এর আগে ফান্ড পেয়েছেন, এখন তাঁর হাতে কী ধরণের প্রজেক্ট আছে এগুলো বোঝার চেষ্টা করুন। কিছুই বুঝবেন না, এটা ধরে নিয়েই এগুতে থাকুন। এক-দুই-তিন করে কয়েকশ সিভি পড়ার পর আপনার হয়ত কিছুটা ধারণা আসবে যে কোন কথাটার মানে আসলে কী। এই কষ্টের ধাপগুলো আপনাকে অতিক্রম করতেই হবে। কোন শর্টকাট নেই।

প্রফেসরের সিভি পড়ার সময় অনেক বিষয় আপনি নতুন করে শিখবেন। অনেক নতুন টার্মিনোলজি জীবনে প্রথমবারের মত শুনবেন। মন খারাপ হবে খুব। মনে হবে কিছুই তো বুঝতে পারছি না। এবার খ্যামা দেই। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে যাই। এফসিপিএস পার্ট ১, রেসিডেন্সির বইপত্র তো টেবিলের উপর আছেই।

অনুরোধ করবো লোভ সামলান। সহজ পথে হাঁটা আর কঠিন পথে চলা – এই সিদ্ধান্ত বারবার রিফ্রেশ করতে হবে আপনাকে। আর দয়া করে এফপিসিএস-রেসিডেন্সির বইপত্রগুলো টেবিল থেকে সরান। দুই নৌকায় পা দেওয়া ব্যর্থ মানুষদের তালিকায় নিজের নাম দেখতে না চাইলে টেবিল ক্লিয়ার করে কাজ করতে বসুন। মনস্থির করুন আসলেই পাবলিক হেলথে অ্যাপ্লাই করবেন কি না।

প্রফেসরকে ইমেইল করার সময় নিজের প্রোফাইল কিভাবে বর্ণনা করবেন সে প্রস্তুতি নিন। খুব অল্প কথায় নিজের প্রোফাইলের শক্তিশালী দিকগুলো তুলে ধরুন। নিজের সিভির খুঁটিনাটি বর্ণনা করতে যাবেন না। স্পেসিফিক্যালি আপনার রিসার্চের সামান্য যে অভিজ্ঞতাই আছে সেটাই গুছিয়ে বলুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রফেসরের রিসার্চ ইন্টারেস্টের সাথে আপনার প্রোফাইল কিভাবে মেলে। আপনারা যে Brother from another Mother এই টাইপের অ্যানালজি তৈরি করাটা খুব জরুরি। এই হিসেবটা বোঝানো সহজ হয় যদি আপনি দুঃসাহস করে ঐ প্রফেসরের ২-১টি জার্নাল পড়ে ফেলেন এবং তা পাঠ করে যে জীবন ও জগৎ সম্পর্কে আপনার দৃষ্টি যে উন্মোচিত হয়েছে তা বুঝিয়ে লিখতে পারেন।

এখানে একটি ব্যাপার গুরুত্বপূর্ণ, তৈলমর্দন না করেই আপনাকে এই কাজটি সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে হবে। বাংলাদেশে বড় হয়ে, বাংলাদেশের আলো বাতাস মাটি গায়ে মেখে, বাংলাদেশের মানুষের সাথে বেড়ে উঠে এই কাজটি সম্পন্ন করাটা নিঃসন্দেহে শুধু কঠিনই নয়, মহা কঠিন।

বাংলাদেশে কারও সাথে আপনি ‘অবজেক্টিভলি’, ‘টু দ্যা পয়েন্ট’ কথা বলতে যান, বেস্ট অব লাক ব্রো। বাস্তব জীবনে আমি বহুবার এই ভুল করেছি। বাংলাদেশে বসে কোন দেশি ব্রো’র সাথে কম কথায় কিছু বুঝিয়ে বলতে গেলে, আপনি যে কিছুই জানেন না এবং ঐ ব্রো যে বিদ্যার জাহাজ – এই শিক্ষা দ্রুতই হয়ে যাবে।

দেশি মানুষকে কিছু বলতে চাইলে স্ট্র্যাটেজি হলো, আগ বাড়িয়ে গলার রগ ফুলিয়ে ভাষণ স্টাইলে বকবক করা শুরু করুন। আশেপাশের কাউকে টুঁ শব্দটি করতে দেবেন না। কেউ কিছু বলতে চাইলে নিজের ভলিউম বাড়িয়ে ঐ উজবুকটিকে দমন করুন। দেখবেন সুড়সুড় করে লোকজন আপনার ভক্ত বনে যাচ্ছে। আপনার নলেজ আছে কি নেই এটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ন হলো প্রেজেন্টেশান।

যাই হোক, প্রফেসরকে মেইল করার সময় আপনার এই স্বভাবের পরিবর্তন করতে হবে। কম কথায় কাজ সারতে হবে।

বিদেশিরা ইমেইলের ব্যাপারে খুব সিরিয়াস। ধরে নেবেন যে প্রফেসর আপনার পাঠানো ইমেইল অবশ্যই পড়েছেন। রিপ্লাই তিনি দেবেন তখনই যখন আপনার কাছে তার কোন দরকার থাকবে। অর্থাৎ কোন ইনফরমেশন জানতে চাইতে পারেন অথবা কোন প্রশ্ন করতে পারেন। এসব কাজের কথা ছাড়া গল্প করার জন্য প্রফেসর আপনাকে মেইলের রিপ্লাই দেবেন না।

প্রফেসরের কাছে জানতে চাইতে পারেন তাঁর সাথে কাজ করার সুযোগ আছে কি না, থাকলে সেটা কিভাবে হতে পারে ইত্যাদি। প্রথমেই টাকা পয়সার আলাপ না করে কথা এগুলে পরবর্তীতে এটা জিজ্ঞেস করতে পারেন। কোন প্রফেসর মেইলের রিপ্লাই দিলে সে ডিপার্টমেন্টের অন্য স্টুডেন্টদের সাথে কথা বলে সিচুয়েশান বোঝার চেষ্টা করতে পারেন।

ইঞ্জিনিয়ারিং বা অন্য ডিপার্টমেন্টের সাথে মেডিকেলের অনেক পার্থক্য থাকবে। তাই আপনার ইঞ্জিনিয়ার বন্ধুর ইমেইল আর আপনার ইমেইল একই রকম হবে না। প্রফেসরের উত্তর দেবার ধরণও একই হবে না। এক এক দেশের অ্যাপ্লিকেশান রিকোয়ারমেন্টও ভিন্ন রকমের। তাই রেসপন্স ভিন্ন হবে।

শত শত ইমেইল করার পরও কোন রিপ্লাই নাও পেতে পারেন। আবার হাতেগোনা কয়েকটি রিপ্লাই পেতে পারেন। এটা আগে থেকে প্রেডিক্ট করা সম্ভব নয়। পাবলিক হেলথে ফ্যাকাল্টি যোগাযোগ না করেও সরাসরি অ্যাপ্লাই করে ফান্ড পাবার উদাহরণ আছে। তাই ফ্যাকাল্টি যোগাযোগই ফান্ড পাবার একমাত্র মাধ্যম নাও হতে পারে।

ডিসক্লেইমার

পূর্ববর্তী পর্ব: রোড টু পিএইচডি-০৯: অ্যাপ্লিকেশনের ধাপসমূহ

পরবর্তী পর্ব: ফেসবুক ইজ ভাইটাল

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত