ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৫৮ মিনিট আগে
ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

জনস্বাস্থ্য গবেষক

ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া


০৭ অক্টোবর, ২০১৭ ১৭:০৬

রোড টু পিএইচডি-০৭: ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট ঘাঁটাঘাঁটি

রোড টু পিএইচডি-০৭: ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট ঘাঁটাঘাঁটি

গুগল ঘেঁটে ইউনিভার্সিটির একটি শর্টলিস্ট করা হলো। এবার প্রতিটি ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করা প্রয়োজন। একটি সত্য কথা বলি, ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে যে কথাগুলো লিখা থাকে তার অধিকাংশ এখনও বুঝি না। আগামী কয়েক বছরে যে খুব একটা বুঝে উঠবো সে সম্ভাবনাও অনুজ্জ্বল। ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট ঘাঁটাঘাঁটি করার একটা ভাঙাচুরা সিস্টেম অধম ফলো করার চেষ্টা করেছিল। সিস্টেমটা শেয়ার করার চেষ্টা করছি।

না চাইলেও করতে হয় এটি এমন একটি কাজ। তবু নেমেছেনই যেহেতু এই কর্দমাক্ত ভাঙা রাস্তায়, তাই আসুন কাজে নেমে পড়ি। খেয়াল করবেন, ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট আলাদা, স্কুল/কলেজ অব পাবলিক হেলথের ওয়েবসাইট আলাদা। প্রতিটি ওয়েবসাইটেই আলাদা ধরনের প্রচুর ইনফরমেশন থাকে।

ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে মূলত জেনারালাইজড ইনফরমেশন থাকবে। মোটামুটি সব ডিপার্টমেন্টে অ্যাপ্লাই করার যে কমন স্ট্যান্ডার্ডগুলো থাকে সেগুলো এখানে পাবেন। যেমন আপনাকে ইংরেজি জানতে হবে, আন্ডার গ্র্যাজুয়েট পাশ হতে হবে এই টাইপের তথ্য এখানে থাকবে।

পাবলিক হেলথের ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার মূল কাজ শুরু। এখানে পছন্দের ডিপার্টমেন্টের পেজে যেতে হবে। গিয়ে কী কী প্রোগ্রাম অফার করে তার তালিকা দেখতে হবে। প্রতিটি প্রোগ্রামের সিলেবাস দেয়া থাকে। সেগুলো ডাউনলোড করে চোখ বুলিয়ে নিন। ট্রাস্টমি, কিছুই বুঝবেন না। ব্যাপার না। কেউই বুঝে না। পিএইচডি শেষ করে ফেললেও বোঝেনা। তাই বোঝার ভান করে জোরে জোরে হুম হুম শব্দ করে সবজান্তার ভঙ্গিতে মাথা নাড়ুন। তারপর আস্তে করে পিডিএফ ট্যাবটি ক্লোজ করে ফেসবুকের ট্যাবে ঢুকে চোখ বুলিয়ে আসুন দেশ-জাতি-পৃথিবীর কর্মকান্ডের উপর।

কিছু ওয়েবসাইটে ডিপার্টমেন্টের কারেন্ট স্টুডেন্টদের তালিকা ও প্রোফাইল দেয়া থাকে। এটা থাকলে আপনার কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে। এটা খুঁজে বের করুন। তারপর প্রতিটি প্রোফাইল দেখে বোঝার চেষ্টা করুন এই অতিমানবেরা কী খেয়ে পড়ে বড় হয়েছে। জীবনে কী করলেন? হুদাই এ জীবন রেখে আর লাভ নেই, এমন অনুভূতি আপনাকে নিয়মিতই আচ্ছন্ন করে ফেলবে। মনে রাখবেন এটি খুবই স্বাভাবিক।

সাধের ল্যাপটপ খানা আছাড় মেরে ভাঙ্গতে ইচ্ছে করবে। আই রিপিট, এটি খুবই স্বাভাবিক। টেক ইট ইজি ব্রো। এই ল্যাপটপ খানা ভাঙ্গলে তা রিপ্লেস করতে হাজার তিরিশেক টাকা লাগবে। ঐ টাকায় দু’টি প্রোগ্রামে অ্যাপ্লাই করে ফেলতে পারবেন। এমন অতি বাস্তব চিন্তায় নিজেকে কন্ট্রোল করার আপ্রাণ চেষ্টা করুন। টেবিলের উপর রাখা নোকিয়া বাটখারা সিরিজের ফোনটিকে দু’টি আছাড় মারুন। তারপর ফের ঘাঁটাঘাঁটিতে মন দিন।

স্টুডেন্টদের প্রোফাইল দেখলে বুঝতে পারবেন, আপনি কোথায় অবস্থান করছেন। কোথায় যেতে হবে। এটি বোঝা সবচেয়ে জরুরী। কে কী করেছে ভেবে সময় নষ্ট না করে কি ভাবে নিজের গ্যাপগুলো পূরন করবেন সে প্ল্যানেরলে-আউট তৈরি করুন। প্ল্যান তৈরি হলে মালমশলা, ইট, সিমেন্ট, বালু কিনে আনুন। কাজ শুরু করুন।

ওয়েবসাইটের ঘাঁটাঘাঁটিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফ্যাকাল্টিদের প্রোফাইল ঘাঁটা। প্রত্যেকের সিভি দেয়া থাকে। তাদের রিসার্চ ইন্টারেস্ট দেয়া থাকে। এগুলো দেখে বোঝার চেষ্টা করুন, আপনার ইচ্ছে এবং সম্ভাবনার সমীকরণ খানার বর্তমান অবস্থা কী।

এখানে আরেকটি পয়েন্ট ভালোভাবে বুঝতে হবে তাহলো আপনার পছন্দের প্রোগ্রামের অ্যাপ্লিকেশনের স্পেসিফিক রিকোয়ারমেন্ট। প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের সাধারনত আলাদা লিস্ট থাকে। নিজ দায়িত্বে প্রতিটি পয়েন্ট ভালোভাবে টুকে নিন নোটবুক/ডায়েরি/টালিখাতায়।

নতুন স্টুডেন্টদের সাথে কথা বলার জন্য, ইনফরমেশন দেবার জন্য প্রতি ডিপার্টমেন্টে একজন করে মানুষ থাকেন। তাকে খুঁজে বের করে মেইল করুন। তৈলমর্দন না করেই মেইলে প্রয়োজনীয় পয়েন্টগুলো উল্লেখ করুন। যে পয়েন্টগুলো বুঝতে পারছেন না সেগুলো বলুন। অল্প কথায় কাজ সারাটা আমাদের কাছে একটা কঠিন কর্ম হলেও উহারা এহেন অস্বাভাবিক কর্মকান্ডেই অভ্যস্ত। তাই ভাব-সম্প্রসারণ না লিখে সারাংশ/সারমর্ম লিখুন। স্টুডেন্টদের কাছেও মেইল করতে পারেন।

পছন্দের ফ্যাকাল্টিদের মেইল করবেন। ফ্যাকাল্টিদের মেইল করাটা খুব সহজ কর্ম নয়। এজন্য গুগল বাবার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন। এই গুগল বাবা খুব ঘাগু লোক। একে যত খুশি তেলাতে পারেন। গুগল হল অনেকটা আমাদের দেশের হেলথ পলিটিশিয়ানদের মত। যত তৈল, ততমধু।

ডিসক্লেইমার

পূর্ববর্তী পর্ব : রোড টু পিএইচডি-০৬: কোথায় অ্যাপ্লাই করবেন?

[পরবর্তী পর্ব : রোড টু পিএইচডি, পর্ব-০৮ : কী আছে স্কুল/কলেজ অব পাবলিক হেলথে?]

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত