ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৪৬ মিনিট আগে
ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

জনস্বাস্থ্য গবেষক

ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া


০৬ অক্টোবর, ২০১৭ ১৪:১৭

রোড টু পিএইচডি-০৬: কোথায় অ্যাপ্লাই করবেন?

রোড টু পিএইচডি-০৬: কোথায় অ্যাপ্লাই করবেন?

আমেরিকায় পাবলিক হেলথে অ্যাপ্লাই করবেন এ সিদ্ধান্ত নেবার পর কাজ হচ্ছে কোথায়/কোন ইউনিভার্সিটিতে অ্যাপ্লাই করবেন সেটা ঠিক করা। তাইতো নাকি? বিষয়টা যেমন সহজ মনে হবে ততটা সহজ হবে না। ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি।

আমেরিকায় ৫০টি স্টেট। প্রতিটি স্টেটে অসংখ্য ইউনিভার্সিটি। হাজারো ইউনি’র মধ্য থেকে আপনার জন্য অ্যাপ্রোপ্রিয়েট প্রোগ্রামটি খুঁজে বের করা কঠিন কাজ। কাজটি একটু সহজ করে দেয় নেটে অ্যাভেইলেবল কিছু র‍্যাংকিং। এই র‍্যাংকিং এর আবার বিভিন্ন রকমফের আছে।

ইউনিভার্সিটির ওভারল একটা র‍্যাংকিং থাকে। আন্তর্জাতিকভাবে এর র‍্যাংকিং কত সেটি যেমন আছে তেমনি ন্যাশনালি অর্থাৎ আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আলাদা র‍্যাংকিং আছে। আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং আবার একটি নয়, ৩/৪টি স্বীকৃত র‍্যাংকিং আছে। প্রতিটিকেই হিসেবে নিতে হবে। আন্তর্জাতিক স্কেলগুলো হলো – Shanghai, Timeshighereducation, QS, USNews মূলত এগুলোই।

ইউনিভার্সিটির পর তার স্কুল অব পাবলিক হেলথ বা কলেজ অব পাবলিক হেলথের আলাদা আলাদা র‍্যাংকিং আছে। যেমন USNews এর পাবলিক হেলথের উপর আলাদা র‍্যাংকিং আছে। সেখানে আমেরিকার প্রায় ৫০টির মত স্কুল/কলেজ অব পাবলিক হেলথের র‍্যাংকিং আছে।

এরপর আসুন ডিপার্টমেন্টের র‍্যাংকিং এ। অর্থাৎ স্কুল অব পাবলিক হেলথের প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের নিজস্ব সাবজেক্টের স্বতন্ত্র র‍্যাংকিং আছে। যেমন এপিডেমিওলজি’র নিজস্ব র‍্যাংকিং আছে, হেলথ পলিসির নিজস্ব র‍্যাংকিং স্কেল আছে ইত্যাদি।

ডিপার্টমেন্টের পর এর পরিচালিত মাস্টার্স এবং পিএইচডি প্রোগ্রামের আবার আলাদা আলাদা র‍্যাংকিং আছে। মাস্টার্স কয়েক প্রকার আছে যেমন - এমপিএইচ, এমএসসি, এমএস, এমএইচএ ইত্যাদি। প্রতিটি প্রোগ্রামের আলাদা র‍্যাংকিং আছে।

লক্ষণীয়, এক এক প্রতিষ্ঠানের/ওয়েবসাইটের র‍্যাংকিং এক একরকম। কোন র‍্যাংকিং হয়তো ১৫০, অন্যটায় ৩৫০। একই ইউনিভার্সিটির সিরিয়ালে এরকম অদ্ভুত ভেরিয়েশান দেখে চমকে যাবেন না। এক এক ওয়েবসাইট এক এক ফ্যাক্টর দেখে র‍্যাংকিং করে। তাই প্রতি বছর তা চেঞ্জ হতে থাকে। পুরো সিনারিওটা বুঝতে হলে আপনাকে গত কয়েক বছরের র‍্যাংকিং দেখে একটা ধারণা করে নিতে হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইউনিভার্সিটির র‍্যাংকিং যাই হোক, আপনাকে মূলত দেখতে হবে আপনার ডিপার্টমেন্ট এবং আরও স্পেসিফিক্যালি আপনার প্রোগ্রামের র‍্যাংকিং কত। কারণ, পছন্দের ইউনিভার্সিটি হয়তো ওয়ার্ল্ড র‍্যাংকিং এ এগিয়ে আছে, কিন্তু স্পেসিফিকভাবে আপনার ডিপার্টমেন্টের র‍্যাংকিং ভালো নয়। তাহলে কিন্তু সমস্যা।

আমেরিকার কিছু জায়গায়‍ ইউনিভার্সিটিগুলোর পরিকল্পনা করা হয়েছে এমনভাবে যে একই স্টেটে দু’টি বড় পাবলিক ইউনি আছে, একটিকে হয়তো ইঞ্জিনিয়ারিং ফোকাসড করেছে, অন্যটিকে মেডিকেল বা সোশ্যাল সায়েন্সের উপর ফোকাসড করেছে। কমন ডিপার্টমেন্ট হয়তো দু’টোতেই আছে, কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং ফোকাসড ইউনি’র ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়গুলোর ডিপার্টমেন্টাল র‍্যাংকিং এগিয়ে থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। এরকম কিছু ফ্যাক্টর আছে যা ইউনিভার্সিটির ওভারল র‍্যাংকিং দেখে বোঝা কঠিন।

এরপর ঐ ইউনিভার্সিটির অ্যাকসেপ্টেন্স রেট কত সেটি দেখে নিতে হবে। অ্যাকসেপ্টেন্স রেট হলো ঐ ইউনিভার্সিটিতে ফি বছর কতজন অ্যাপ্লাই করে আর কতজনকে তারা অ্যাকসেপ্ট করে তার শতকরা হিসেব। অনেক ইউনি’র রেট এক হাতের আঙ্গুল দিয়েই মেপে ফেলা যায়। এগুলো কুলীন সমাজের প্রতিষ্ঠান। আমরা এগুলো নিয়ে কথা না বলি।

বরং আসুন আলাপ করি অধমের মত গাধা টাইপের মিডল ক্লাস স্টুডেন্টদের সম্ভাব্য অ্যাকসেপ্টেন্স রেট নিয়ে। পাবলিক হেলথ স্কুল আছে এমন ইউনিভার্সিটিগুলো আলাদা করার পর তাদের অ্যাকসেপ্টেন্স রেট দেখে একটা প্রাথমিক বাছাই করে ফেলতে পারেন। ঝেড়ে ফেলার পর নিচে পড়ে থাকা দানাগুড়োগুলোর মধ্য থেকে এবার আসুন নিজেদের জন্য প্রোগ্রাম বাছাই করতে শুরু করি। যেসব প্রোগ্রামে অ্যাকসেপ্টেন্স রেট ভালো এমন দানাগুড়ো ইউনিভার্সিটিই আমাদের গন্তব্য।

আর যে পয়েন্টটি দেখতে হবে তা হলো মাদার অব অল ওয়ারিস, লিভিং কস্ট। যে স্টেটে আপনার পছন্দের ইউনিভার্সিটি অবস্থিত, সে স্টেটের লিভিং কস্ট কত তার হিসেব গুগল জানে, ওকে জিজ্ঞেস করুন। প্রথমবার জিজ্ঞেস করলে গুগল বাবা যে উত্তর দেবে, তাতে কিছু বুঝতে না পারলে ঘ্যান ঘ্যান শুরু করুন। গুগল বাবা উত্তর দিতে বাধ্য হবে। 

লিভিং কস্টের গুরুত্ব হলো আপনার ডিপার্টমেন্ট যে টাকা দেবে তা দিয়ে খেয়ে পড়ে থাকতে পারবেন কি না তা বোঝা। কিছু স্টেটে লিভিং কস্ট অনেক বেশি। কোথাও কম। আবার কোন স্টেটের লিভিং কস্ট বেশি কিন্ত আপনার ইউনিভার্সিটি পড়েছে স্টেটের বর্ডারে/রুরাল এরিয়ায়, যেখানে লিভিং কস্ট কম। এরকম নানবিধ সিনারিও হতে পারে।

এভাবে প্রতিটি ভ্যারিয়েবল হিসেব করার পর অংক কষতে বসুন। কোথায় অ্যাপ্লাই করবেন তার তালিকা ফাইনাল করার দিকে এগিয়ে যান। কোথায় লুকিয়ে আছে আপনার স্বপ্ন পূরনের চাবিটি। টু সল্ভ দিস পাজল উই ড্রিমারস স্পেন্ড সো মেনি আনস্লেপ্ট নাইটস।

ডিসক্লেইমার

পূর্ববর্তী পর্ব: রোড টু পিএইচডি-০৫: চান্স পাওয়া আর ফান্ডিং পাওয়া একই জিনিস না

[পরবর্তী পর্ব : রোড টু পিএইচডি, পর্ব-০৭:  ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট ঘাঁটাঘাঁটি]

 

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত