ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

জনস্বাস্থ্য গবেষক

ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া


০৫ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:০১

রোড টু পিএইচডি-০৫: চান্স পাওয়া আর ফান্ডিং পাওয়া একই জিনিস না

রোড টু পিএইচডি-০৫: চান্স পাওয়া  আর ফান্ডিং পাওয়া একই জিনিস না

কোন ইউনিভার্সিটিতে চান্স পাবার মানে কি আপনি সেখানে পড়তে যাচ্ছেন? প্রশ্নটি অদ্ভুত শোনালেও আমাদের আলোচ্য বিষয়ের সাথে খুব রিলেটেড।

বাইরের দেশের কোথাও কোন প্রোগ্রামে অ্যাপ্লাই করলে তা যদি আপনার প্রোফাইলের সাথে মোটামুটি মিলে যায় তবে আপনি সেখানে চান্স পাবেন। এর কারণ হলো স্বদেশী স্টুডেন্টদের কাছ থেকে ওরা যে টিউশন ফি নেয়, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের কাছ থেকে নেয় তার দ্বিগুণ। তাই আপনাকে নিলে ওদেরই লাভ। 

প্রশ্ন হলো এই টিউশন ফি দিয়ে আপনি পড়তে পারবেন কি না? যদি সামর্থ থাকে তবে চোখ বন্ধ করে পড়তে চলে যান। সামান্য ২-৪ কোটি টাকা খরচ করে পড়বেন। এটা এক ধরনের ইনভেস্টমেন্ট। মুনাফা সহ উঠে আসবে অল্পদিনেই। তাই যাদের সামর্থ আছে এবং কোন প্রোগ্রামে চান্স পেয়েছেন, আল্লাহর উপর ভরসা করে রওনা দিন।

যাদের সামর্থ নেই এবার তাদের কী হবে? অ্যাপ্লাই করতে গিয়েই পকেটের ফুটো পয়সাটিও খরচ করে বসেছেন এমন মানুষের সংখ্যা নেয়াহেত কম নয়। অধমও আপনাদের দলেই আছি।

ব্যপার কী জানেন? এ নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র হতাশা, লজ্জা, মাথা নিচু করে চলা ইত্যাদি একেবারেই নেই। অসামর্থের এ ব্যাপারটি অধমের জন্য গৌরবের। মাথা উঁচু করেই বলি যে, নিজের পয়সায় দেশের বাইরে পড়তে যাবার সামর্থ নেই। ফান্ডিং পেলে, মাসিক একটা বেতন ভাতা পেলে তবেই অধমের পক্ষে বাইরে পড়তে যাওয়া সম্ভব, নইলে নয়। ব্যাংক ব্যালেন্সের স্টেটমেন্ট যেমন পরিষ্কার, স্বপ্ন আর বাস্তবতার সমীকরণও তাই তেমনি সহজ।

তাই অধমের মত সাধারণ মানুষদের জন্য উপায় হলো ফান্ড খোঁজা। এই ফান্ড পাবার বিষয়টি কোন প্রোগ্রামে চান্স পাবার থেকে আলাদা। প্রথমে আপনি চান্স পাবেন তারপর আপনার যোগ্যতার ভিত্তিতে ডিপার্টমেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে যে আপনাকে ওরা ফান্ড দেবে কি না। এখানে প্রফেসরদের রিসার্চ ইন্টারেস্ট, তাদের কাছে প্রজেক্টের ফান্ডের অ্যাভেইলেবিলিটি,

আপনার অভিজ্ঞতা ও ইন্টারেস্টের সাথে প্রফেসরের মিল হওয়া  ইত্যাদি অনেক অনেক ভ্যারিয়েবল মিলে একটা ডিসিশানে আসে ওরা।

তাই অ্যাপ্লিকেশানের সময় যতখানি আপনার যোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততখানিই গুরুত্বপূর্ণ ঐ মূহূর্তে ঐ ডিপার্টমেন্টে কর্মরত প্রফেসর, তাদের হাতে থাকা ফান্ড, সে ফান্ড খরচ করার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে আপনার উপযুক্ততা। অর্থাৎ, ভাগ্য একটা কনফাউন্ডিং ভ্যারিয়েবল হিসেবে এই জটিল ইকুয়েশানে যোগ হয়ে গেলো। আপনার হাত থেকে ভাগ্যের রাশটিও ছুটে গেলো। তাই এ পর্যায়ে সৃষ্টিকর্তাকে বেশি বেশি স্মরন করা ছাড়া আর তেমন কিছু করার নেই।

আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা মানুষদের জন্য অনিশ্চয়তায় ভরা এই রাস্তা। মনে রাখতে হবে যে অ্যাপ্লিকেশানের অনেকগুলো রিকোয়ারমেন্টের কোন একটি ফ্যাক্টর কিন্তু আপনাকে এগিয়ে বা পিছিয়ে দেবে না। বরং সবগুলো পয়েন্ট মিলে আপনার পক্ষে কথা বলবে। তাই কোন একটি স্পেসিফিক ফ্যাক্টর, যেমন আপনার জিআরই স্কোর, অভিজ্ঞতা, গ্রেড ইত্যাদি আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। সবগুলো মিলে আপনার প্যাকেজের চেহারা কেমন সেটিই এখানে বিবেচ্য। কখন যে কোন পয়েন্টটি আপনার পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করবে তা স্পেসিফিকভাবে বলা প্রায় অসম্ভব।

তাই কোথাও চান্স পাবার মানে এই নয় যে আপনি সেখানে পড়তে যেতে পারছেন। ফান্ড পাচ্ছেন কি না, পেলে সেটা কী পরিমাণ, টিউশন ফি কভার করে লিভিং কস্টের কত অংশ তাতে পূরন হবে, একা চলতে পারবেন, না ফ্যামিলি নিয়েও চলতে পারবেন, অদূর ভবিষ্যতে ফান্ড বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা কতখানি ইত্যাদি বিষয়গুলোও মাথায় রেখে সিরিয়াসলি রিসার্চ করতে হবে।

এসকল ব্যাপারে ইনফরমেশন কালেক্ট করার জন্য দিনরাত পড়াশুনা করবেন, ঘাঁটাঘাঁটি করবেন, যোগাযোগ করবেন। তারপরই না সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, কোথায় অ্যাপ্লাই করতে যাচ্ছেন।

ডিসক্লেইমার

পূর্ববর্তী পর্ব: রোড টু পিএইচডি-০৪: কেন আমেরিকা?

[পরবর্তী পর্ব : রোড টু পিএইচডি, পর্ব-০৬: কোথায় অ্যাপ্লাই করবেন?]

 

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত