০২ অক্টোবর, ২০১৭ ০১:৩৪ পিএম

খুলনায় চালু হচ্ছে মানববর্জ্য শোধনাগার: উৎপাদিত হবে কম্পোস্ট ও মাছের খাদ্য

খুলনায় চালু হচ্ছে মানববর্জ্য শোধনাগার: উৎপাদিত হবে কম্পোস্ট ও মাছের খাদ্য

মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মডেল টাউন গড়ার লক্ষ্যে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) দুই কোটি টাকা ব্যয়ে মানববর্জ্য শোধনাগার চালু করেছে। নগরীর রাজবাঁধ এলাকায় নির্মিত এ শোধনাগারে পাঁচটি ভ্যাকুট্যাগের মাধ্যমে দৈনিক ৬৯ হাজার লিটার মানববর্জ্য পরিশোধন করা যাবে।

করপোরেশন কর্মকর্তারা বলেছেন, আধুনিক এ পদ্ধতিতে শুধু মানববর্জ্য সংগ্রহ ও পরিশোধনই নয়, পুঞ্জীভূত বর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে ব্যবসাভিত্তিক কম্পোস্ট সার ও মাছের খাদ্য উৎপাদন করা যাবে। এর ফলে করপোরেশনের মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয় ও মহানগরী খুলনা মডেল শহরে পরিণত হবে। এ বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন করতে দুই মাসব্যাপী প্রচারাভিযান শুরু করেছে সিটি করপোরেশন।

সিটি করপোরেশন ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা এসএনভির তথ্য মতে, খুলনা শহরের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। ৪৫ দশমিক ৬৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের শহরে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩২ হাজার ৮৫৯ জন। প্রতিটি ওয়ার্ডে মোট ৬৬ হাজার ২৫৭টি পরিবার বসবাস করে। এ শহরে প্রতিবছর পিট ল্যাট্রিন ও সেপটিক ট্যাংকে ৭২১ হাজার লিটার মানববর্জ্য উৎপাদিত হয়, যা হস্তচালিত উপায়ে (ম্যানুয়ালি) অপসারণ করা হয়। অনেক সময় পুঞ্জীভূত মানববর্জ্য অপরিশোধিত উপায়ে জলপথ, নিচু জমিতে ফেলা হয়। ফলে এ বর্জ্য পরিবেশকে দূষিত করে।

একই সঙ্গে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগ মানুষকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলে।

প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ওই প্রকল্পে রয়েছে মানববর্জ্য পরিশোধনের জন্য ছয়টি ইউনিট, পানি শোধনাগার, ড্রাইং বেড ছয় ইউনিট, অফিস বিল্ডিং, শোধনকৃত মানববর্জ্য ও উপকরণ বা তুলে ফেলা গাছ বা আগাছা রাখার স্থান ও ভ্যাকুট্যাগ পরিষ্কারের স্থান ইত্যাদি। দুটি প্রযুক্তি কনস্ট্রাকটেড ওয়েটল্যান্ড ও ড্রায়িং বেডের সমন্বয়ে শোধনাগারটি নির্মাণ ও পরিচালনায় কারিগরি সহায়তা প্রদান করে থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৬ সালে শোধনাগারটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। এরপর চলতি বছরের মার্চ মাসে শোধনাগারটি চালু করা হয়।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই আধুনিক পদ্ধতির বিষয়টি নগরবাসী অবগত না হওয়ায় তারা পুরনো পদ্ধতিতে মানববর্জ্য অপসারণ করছেন। এতে করে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে দুই মাসব্যাপী প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে গত ১২ সেপ্টেম্বর। নগরীর ৩১ ওয়ার্ডে এ কর্মসূচির মাধ্যমে পটগান প্রদর্শন, সভা, সেমিনার, আলোচনাসভা, নাটক ও ভিডিও প্রদর্শন করা হবে।

সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারের পরও আমরা ব্যবস্থাপনার কারণে আগের চেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। ভ্যাকুট্যাগের মাধ্যমে মল সংগ্রহ ও পরিশোধন আমাদের সার্বিক অবস্থা পাল্টে দেবে। নগরবাসী সহযোগিতা করলে মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনায় খুলনা হবে মডেল শহর। ’

খুলনা সিটি করপোরেশনের কনজারভেন্সি বিভাগের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক ও নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. আব্দুল আজিজ বলেন, ‘প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে শুধু নিরাপদ মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা নয়, পুঞ্জীভূত বর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে ব্যবসাভিত্তিক কম্পোস্ট সার ও মাছের খাদ্য উৎপাদন করা যাবে। যার মাধ্যমে করপোরেশনের মোটা অঙ্কের টাকা রাজস্ব আয় হবে। ’

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত