ঢাকা      মঙ্গলবার ২৩, অক্টোবর ২০১৮ - ৮, কার্তিক, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন

জনস্বাস্থ্য গবেষক

ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া


রোড টু পিএইচডি-০০: যাত্রা শুরুর পূর্বে

[ছোটবেলায় প্রাণ মিল্ক ক্যান্ডির বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলে শুনতাম, “একদিন আমি হবো ডাক্তার, অসুখ সারাবো সবার।” কিন্তু ডাক্তার হওয়ার পর দেখা যায় সবার অসুখ সারানো প্র্যাকটিসিং ডাক্তারের কাজ নয়। তাদের কাজ একজন একজন করে রোগী নিয়ে তার রোগ সারানো। সবার অসুখ সারাতে চাইলে গবেষণা করতে হবে। জ্ঞানের রাজ্যে নতুন কিছু যোগ করতে হবে। তাই উন্নত বিশ্বে অনেক ডাক্তার প্র্যাকটিস না করে গবেষণায় মন দেন। আর প্র্যাকটিসিং ডাক্তাররাও রোগী দেখার পাশাপাশি দিনের একটা অংশ গবেষণার জন্য ব্যয় করেন।

এই গবেষণায় আমরা বাংলাদেশের ডাক্তাররা ভয়ংকর রকম পিছিয়ে। ফলে আমাদের দেশের স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোকে আমরা বিদেশের গবেষণার আলোকে দেখার চেষ্টা করি। আরেকজনের ধার করা তথ্য, উপাত্ত, তত্ত্ব দিয়ে হয়ত এতদিন চালিয়ে এসেছি। কিন্তু এখন সময় এসেছে আমাদের নিজেদের জন্য তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহ করে সাজানো। তার উপর ভিত্তি করে নিজেদের জন্য তত্ত্ব দাঁড় করানো।

যারা এই রোমাঞ্চকর কাজে অংশ নিতে চায়, নেতৃত্ব দিতে চায় তাদের জন্য প্রথম মাইলস্টোন হচ্ছে গবেষণার হাতে খড়ি পিএইচডি অর্জন করা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্রোতের বিপরীতে চলা এই সাহসী  ডাক্তারদের যাত্রাপথ বেশ বন্ধুর। নেই কোন সঠিক নির্দেশনা। বরং চারপাশে রয়েছে ফিরে যাওয়ার পিছুটান। 

ভবিষ্যৎ গবেষক ডাক্তারদের এই অন্ধকার চলার পথের শুরুতে আলোর মশাল ধরতে মেডিভয়েসের  আয়োজন, ৩০ পর্বের ‘রোড টু পিএইচডি’ সিরিজ। সিরিজটি লিখেছেন ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া’র জনস্বাস্থ্য গবেষক ডা. রেদওয়ান বিন আবদুল বাতেন। তার প্রতি মেডিভয়েস পরিবার চিরকৃতজ্ঞ।

চিকিৎসা বিজ্ঞান গবেষণার আন্তর্জাতিক মঞ্চে এগিয়ে যাক বাংলাদেশের চিকিৎসকরা। নিরন্তর শুভকামনা সবার জন্য।]

 

ডিসক্লেইমার:

১। আমেরিকায় পাবলিক হেলথে পড়তে বা ক্যারিয়ার করতে চাওয়া মেডিকেল স্টুডেন্ট এবং ডাক্তারদের জন্য ৩০ পর্বের এই সিরিজটি লিখা। এটি দিকনির্দশনামূলক, কোনভাবেই ম্যানুয়েল জাতীয় কিছু নয়। পিএইচডি অ্যাপ্লিকেশনের কঠিন পথটিকে সহজভাবে সামনে তুলে আনার প্রয়াস মাত্র।

২। বিশেষ করে ডাক্তারি পড়তে ও করতে ক্লান্ত যেসব স্বাপ্নিক ‘আরও বড় কিছু’ করে ‘দেশ ও জাতির ভাগ্য পাল্টিয়ে দিতে চাই’ টাইপের ‘পাগলামি সিন্ড্রোম’ এ ভুগছেন - কেবলমাত্র তাদের জন্যই এ সিরিজ। এছাড়া অন্য কারো জন্য এটি লিখা হয়নি। এটি পড়ে হঠাৎ করে কেউ ভয়ংকর মোটিভেশানের পাল্লায় পড়ে গোল্লায় যাবে, এমন সম্ভাবনাও খুব একটা নেই। তাই আব্বু আম্মুরা নিশ্চিন্তে ঘুমুতে পারেন। যারা ডাক্তারি জীবনে ভালো আছেন, খুশি আছেন, তাঁরা দয়া করে স্ক্রল করে অন্য পেজে চলে যান। এখানে আপনাদের জন্য মজার কিছু নেই। ডাক্তারদের জীবন = তেজপাতা। তেজপাতা হিসেবে যত দ্রুত আত্মস্বীকৃতি দেবেন, ততই মঙ্গল। এ পেশার সাথে অন্য কোনটার বিন্দু পরিমাণ মিল নেই। কমেন্ট সেকশনে তাই এ নিয়ে অযথা কান্নাকাটি করবেন না।

৩। মেডিকেল বাদে অন্য ডিসিপ্লিন যেমন, ইঞ্জিনিয়ারিং বা ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত মেধাবী বন্ধুদের জন্য এ সিরিজটি তেমন কোন কাজে আসবে না। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ার বন্ধুরা বাইরে অ্যাপ্লাই করা নিয়ে অনেক অনেক বেশি জানেন। ডাক্তাররা তাঁদের পেশাগত বাস্তবতায় সঙ্গত কারণেই এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছেন। তাই ইঞ্জিনিয়ার এবং ইউনিভার্সিটির বন্ধুরা এ সিরিজটিকে হালকা চটুল ধরনের বিনোদনমূলক লেখা হিসেবে পড়বেন, পড়ে হাসবেন, হেসে স্ক্রল করে চলে যাবেন। 

৪। সিরিজের প্রতিটি লেখা লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অনুসারে লিখা। সেই প্রাচীনকালের থেকে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎকালের তথ্যে পরিবর্তন ঘটবে। এটাই তো স্বাভাবিক। এমনও হতে পারে সকল সিস্টেম চেঞ্জ হয়ে গেছে। মূর্খ লেখকের কোন খবরই নেই।

৫। এ সিরিজে লিখিত প্রতিটি মতামত লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর সাথে ‘মেডিভয়েস’ এর ন্যূনতম বিন্দু পরিমাণ কোন সম্পর্ক নেই। লেখক একজন গন্ডমূর্খ, অজপাড়াগাঁ থেকে উঠে আসা চাষা ভুষা টাইপের পাবলিক। অধমের মূর্খতাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে আপনাদের যদি মর্জি হয়, তবে কৃতজ্ঞ থাকিব। অধম সকলের দোয়া প্রার্থী।

 

অধম পরিচিতি:

- নাম কী?

- উমাইরের বাবা।

- নিকনেম?

- ধ্রুবার জামাই।

- পেশা কী? 

- পড়াশুনা করা, চিন্তাভাবনা করা।

- কই পড়েন?

- কলেজ অব পাবলিক হেলথ, ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া, ইউএসএ।

- সেটা তো বুজছি, কোন ডিপার্টমেন্টে পড়েন?

- হেলথ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পলিসি।

- ঐখানে কী পড়েন?

- পার্মানেন্ট হেড ড্যামেজ, পিএইচডি পড়ি।

- আপনি কি ডাক্তার?

- হ্যাঁ, ডেন্টাল সার্জন।

- মাস্টার্স কি দেশি?

- হুম। নর্থ সাউথ থেকে এমপিএইচ। ঢাবিতে এমডিএম (ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট) করতেছিলাম, সেশন জটের জন্য ফাইনাল পরীক্ষা দিতে পারি নাই। আপচুস।

- WES করছিলেন?

- হ্যাঁ। সবারই 4.00/4.00 আসে। আমারও আসছিল। এইটা কোন ব্যাপার না।

- GRE তে কত ছিলো?

-  320, 4.5

- IELTS এ কত পাইছিলেন?

- 8.5

- TOEFL এ?

- 112

- পাবলিকেশন ছিলো?

- ছিলো, ২টা।

- এক্সপেরিয়েন্স ছিল? এক্সপেরিয়েন্স?

- হ্যাঁ। সরকারি চাকরি। ৩ বছর বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে কামলা খাটছি।

- ডাক্তারি বাদ দিয়া এইসব শুরু করছিলেন কবে থেকে?

- বিসিএসে ঢোকার ৩ মাসের মাথায়।

- কেন?

- একটা মাইর দিবো।

- মাথা কি সবসময় একটু খারাপ ছিলো নাকি?

- ইয়েস।

- এইসব পাগলামি করছেন, বাবা মা কিছু বলে নাই?

- আপনার কী ধারণা? এই প্রশ্ন করছেন মানে আপনার মাথায়ও সমস্যা আছে।

- বউ কিছু বলে নাই?

- না। বউ সবসময় ভালো ভালো কথা বলছে। উৎসাহ দিছে। 

- তো এইসব ছাইপাশ কি সবসময় লিখেন?

- এই ইয়ে মানে... আরে নাহ। এই প্রথম। এই এক আধটু। একটু ট্রাই নিলাম আরকি। হিহিহি। দোয়া করবেন।

[পরবর্তী পর্ব : রোড টু পিএইচডি, পর্ব-০১: পাবলিক হেলথ বস্তুটি আবার কী !]

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


এডু কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এক নজরে দেখে নিন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি 

এক নজরে দেখে নিন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি 

মেডিভয়েস ডেস্ক: সারা বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে একযোগে শুরু হয়েছে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর