ডা. কায়সার আনাম

ডা. কায়সার আনাম

মেডিকেল অফিসার

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্স অ্যান্ড হসপিটাল।


২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০২:০৭ পিএম

ডাক্তারবিরোধী রিপোর্টের ব্যাপারে কিছু আত্মপক্ষ সমর্থন

ডাক্তারবিরোধী রিপোর্টের ব্যাপারে কিছু আত্মপক্ষ সমর্থন

সকালে খবরের কাগজে পড়া ডাক্তারবিরোধী রিপোর্টের ব্যাপারে কিছু আত্মপক্ষ সমর্থন করি।

১) রিপোর্টের উপরে লেখা ডাক্তার আসেন এগারোটায়। যদিও সাড়ে আটটায় আসার কথা। রিপোর্টের ভেতরে লেখা- ডাক্তার এগারোটা পর্যন্ত হাসপাতালের অন্য কাজে থাকেন। উপরের আর ভেতরের কথায় মিল নেই।

এবার কাজের কথা বলি- হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগী দেখা ডাক্তারের অনেক কাজের একটি। কিন্তু একমাত্র কাজ নয়। সকালে এসে অনেক সময় ক্লাস হয়, সেমিনার হয়। এগুলো খুব প্রয়োজনীয় অ্যাকাডেমিক কাজ। এগুলো ছাড়া জুনিয়র ডাক্তার গড়ে ওঠে না, সিনিয়র ডাক্তার আপটুডেট থাকেন না। তারপর হাসপাতালের ভেতরে যে পেশেন্টরা ভর্তি আছে তাদের উপরে রাউন্ড হয়। এই কাজটা বহির্বিভাগের রোগী দেখার চেয়ে বেশি প্রায়োরিটি পায়। বহির্বিভাগের রোগীদের তাই এই সময়টাতে ধৈর্য ধরে অপেক্ষায় থাকতেই হয়। এই সময়ে সাংবাদিক এসে ডাক্তারের ফাঁকা কক্ষ ও পেছনের ঘড়ির সময় ভিডিও করে নিয়ে যায়। ব্যাপারটা চূড়ান্ত শর্টসাইটেড।

আউটডোর রোগী দেখানোর ব্যাপারে বাংলাদেশের ওয়েটিং কিউ ইংল্যান্ডের থেকে কম। জেনারেল রোগী দেখানোর সিরিয়াল ইংল্যান্ডে বা অস্ট্রেলিয়ায় প্রায়ই কয়েক সপ্তাহ পর পাওয়া যায়। তা আপনার সমস্যা যতোই ক্রনিক হোক না কেন। বাংলাদেশের মতো দিনে এসে দিনে ডাক্তার পাওয়ার কপাল নিয়ে ইংল্যান্ডের মানুষ জন্মায়নি। প্রায়শই তাদের অপেক্ষায় থেকে নার্স ফিজিশিয়ানের সাথে দেখা করে পরের সপ্তাহের ডাক্তারের সিরিয়াল নিয়ে ফিরতে হয়।

প্রশ্ন হতে পারে, ইমারজেন্সি হলে কী হবে? ইমারজেন্সিতে সবসময় লোক থাকে। যার যার পেশেন্ট তার তার কাছে ইমারজেন্সি। কিন্তু অনেক ইমারজেন্সি আছে- আমার বাস এতোটার সময়, আমাকে অফিসে যেতে হবে ইত্যাদি। এগুলো মেডিকেল ইমারজেন্সি নয়। এরকম ব্যক্তিগত ইমারজেন্সি নিয়ে অস্থিরতা করে কোন লাভ নেই। মেডিকেল ইমারজেন্সি বিবেচনায় ইমারজেন্সি বিভাগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা হয়।

২) আরেকটা অভিযোগ- ডাক্তাররা নিজেরা ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প করে। কিন্তু রোগী দেখার সময় তাড়াহুড়া করে। এই অভিযোগটা দেখে একটা ব্যাপার মনে পড়ল। আমরা যখন রাউন্ডে বা আউটডোরে রোগী দেখতে থাকি, তখন সিনিয়র চিকিৎসকরা কন্টিনিউয়াস আমাদের পড়াতে থাকেন। ইন্টারেস্টিং কোন কেইস পেলেই সেটা নিয়ে ডিসকাশন করেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনার সময় কিছু হাস্যরসিকতাও হয়। রোগীরা সামনে বসে থাকে। তারা হয়তো ভাবছে গালগল্প হচ্ছে। কিন্তু এই গল্পের মধ্যেই তাদের জীবন নিয়ে বড় ডিসিশন হয়ে যাচ্ছে।

ইম্পরট্যান্ট ব্যাপার হল, এতে দেরি হলেও কখনোই রোগীরা ডাক্তার না দেখিয়ে ফেরত যান না। এটাই কি যথেষ্ট নয়?

স্বাস্থ্যসেবাকে আমরা সবসময়েই কম গুরুত্ব দেই। কাজের ফাঁকে, অফিসের আগে, ট্রেনের টাইম রেখে হুট করে এসে ডাক্তার দেখিয়ে যাব এরকম মানসিকতা পরিহার করলে অধৈর্য কম লাগবে। স্বাস্থ্য বড় সম্পদ। স্বাস্থ্যসেবা নিতে সময় নিয়ে যাওয়া উচিত। ধৈর্য ধরে নিয়ম মেনে কাজ করলে সবার লাভ।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত