২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১০:৪২ এএম

কর্ণফুলীর দূষণ রোধে মাস্টার প্ল্যান তৈরি

কর্ণফুলীর দূষণ রোধে মাস্টার প্ল্যান তৈরি

কর্ণফুলী নদীর দূষণরোধে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি এই পরিকল্পনা তৈরি করেছে। আগামী সপ্তাহে মাস্টার প্ল্যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। মহানগর এলাকার ৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশ শিল্প প্রতিষ্ঠানের ইটিপি নেই। ফলে এসব শিল্প কারখানার বর্জ্য কর্ণফুলী নদীতে মিশে পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে তুলেছে। বন্দর নগরীতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে চট্টগ্রাম ওয়াসা যে কয়েকটি পানি শোধনাগার নির্মাণ করেছে তার পানির উত্স হলো কর্ণফুলী নদী। ফলে কর্ণফুলী নদীকে দূষণমুক্ত করা না গেলে চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির উত্স হুমকির মুখে পড়বে। এ প্রসঙ্গে পরিবেশ  অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের পরিচালক (মহানগর) ও মাস্টার প্ল্যান প্রস্তুত কমিটির সদস্য আজাদুর রহমান মল্লিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘ইতিমধ্যে কর্ণফুলী নদীর দূষণ রোধ, অবৈধ দখলদার চিহ্নিত ও খনন নিয়ে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয় জানায়, কর্ণফুলী নদী দূষণের ক্ষেত্রে সুয়ারেজ, শিল্প প্রতিষ্ঠানের তরল বর্জ্য, বিভিন্ন ধরনের কঠিন বর্জ্য, চিকিত্সা বর্জ্যসহ বিভিন্ন কারণ জড়িত। তরল বর্জ্য নিঃসরণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে চট্টগ্রাম টিএসপি কমপ্লেক্স, ইস্টার্ন রিফাইনারীকে ইটিপি নির্মাণ সম্পন্ন করার বিষয়ে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত তরল বর্জ্য নিঃসরণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে ৪৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ইটিপি নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে। ইটিপির কার্যক্রম পরিচালনার ফলে সৃষ্ট স্লাজ ব্যবস্থাপনা বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আশার কথা স্লাজ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক একটি গাইড লাইনের খসড়া অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

কর্ণফুলী নদী দূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী সুয়ারেজ বর্জ্য। চট্টগ্রাম মহানগরীর ৬০ লাখ মানুষের সুয়ারেজ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট না থাকা কর্ণফুলী নদীর পানি দূষণের প্রধান কারণ।  সম্প্রতি চট্টগ্রাম ওয়াসা সুয়ারেজ বর্জ্য- কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, এসটিপি স্থাপনসহ অন্যান্য বিষয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হলে কর্ণফুলী নদী দূষণ অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

জানা যায়, কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নগরীর ১০ থেকে ১২টি খাল। এছাড়া অসংখ্য ড্রেন, নালা কর্ণফুলীতে যুক্ত হয়েছে। এসব খাল ও নালার মাধ্যমে বিভিন্ন রাসায়নিক সার, শিল্প কারখানার বর্জ্য, সুয়ারেজ, চিকিত্সা বর্জ্য, গরু-হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্য কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, তারা কর্ণফুলী নদীর পানি নিয়মিত মনিটরিং করে থাকে। প্রতিমাসে দুইটি স্থান হতে নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং তা গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হয়। গত ২০১৫ সালের জানুয়ারি হতে ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত কর্ণফুলী থেকে সংগ্রহ করা পানির নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সময় নদীর ডিসোলভড অক্সিজেন (ডিও)-এর মান ৪.৮ থেকে ৫.৫-এর মধ্যে বিদ্যমান থাকে যা উদ্বেগজনক। কারণ পানিতে ডিও-এর মান ৪-এর নিচে নামলে তা পানিতে বিদ্যমান জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। অথচ এ মান ৪-এর নিচে না নামলেও তা প্রায় সময় কাছাকাছি থাকে। বিভিন্ন সময় কর্ণফুলী নদীতে পতিত খালসমূহের পানি পরীক্ষা করে দেখা গেছে খালের পানিতে ডিও-এর মান প্রায় শূন্য পর্যায়ে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর বা জেলায় কোনো প্রকার সুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা নেই। ফলে বহুতল ভবন, বাণিজ্যিক ভবন, দোকানপাট, বাজার-ঘাট, শপিং মল, হাসপাতাল, ডায়গনস্টিক, হোটেল, বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সুয়ারেজ বর্জ্য রাজাখালী, চাক্তাই, আরাকান, মহেশ খাল, গুপ্তখাল হয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় ৫০ হাজার সেনেটারি ও ২৪ হাজার ল্যাট্রিন রয়েছে যা সরাসরি নদীতে উন্মুক্ত। নগরীর ফিরিঙ্গি বাজার ও দেওয়ানহাট এলাকায় প্রায় ৪শটি কসাইখানা রয়েছে। এসকল কসাইখানায় জবাইকৃত পশুর রক্ত সরাসরি নদীতে মিশে যাচ্ছে।

 

সৌজন্যে : ইত্তেফাক

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত