সোমবার ২০, নভেম্বর ২০১৭ - ৬, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৪ - হিজরী



অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম

সাইকয়াস্ট্রি, ইন্সটিটিউট অব ন্যাশনাল মেন্টাল হেলথ 


স্ট্রেস/ মানসিক চাপ

মনে চাপ পড়লে শরীর কেন ব্যথা পায়?

আমার " মন ও মানুষ" বইয়ের ৩য় অধ্যায়- "মানসিক চাপ: স্ট্রেস, জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত-যেভাবে মোকাবিলা করবেন" থেকে নির্বাচিত অংশ তুলে দেবো
( নিজ বই থেকে তুলে দিলে চৌর্যবৃত্তি হবে না তো?)

মনের উপর চাপ পড়লে (বোন), কেন তার জমজ ভাই (শরীর) ব্যথা পায়?

এর রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। আসুন জানি কি সে ব্রেইন মেকানিজম :

মানসিক চাপের ফলে ব্রেইনের " হাইপোথেলামাস" থেকে সিআরএইচ হরমোন নিঃসরণ হয় > সেটি এসিটিএইচ হরমোন নিঃসরণ করে > যা এড্রিনাল কর্টেক্সকে সক্রিয় করে > ফলে গ্লুকোকরটিকয়েড এর পরিমান বেড়ে যায়।
এই গ্লুকোকর্টিকয়েড- শরীরকে জরুরি অবস্হায় ( ইমারজেন্সী) যা যা করনীয় তা করতে সামর্থ্য জোগায়- অনেকটা যুদ্ধাবস্হায় রাস্ট্র যা করে তেমন (ভারত- পাকিস্তান বা ভারত- চীন যুদ্ধাবস্হায় গেলে যেমন ঘটে)।
কি করে? শরীরকে বাড়তি শক্তি জোগায়, (সব ধরনের কেন্দ্রীয় রসদ জোগান দেওয়া) , বিপদ মোকাবিলায় হার্টকে অধিক সক্রিয় করে তোলে (এটি হচ্ছে ক্যান্টনমেন্ট)।

অন্য দিকে শরীরের স্বাভাবিক কাজ-কর্ম স্হগিত হয়ে পড়ে (দেশে জরুরি অবস্হায় যেমনটি ঘটে)

- স্বাভাবিক বেড়ে উঠা (গ্রুথ), প্রজনন করা, রোগ প্রতিরক্ষা ব্যবস্হার দিকে কম নজর দেওয়া (বহিঃশক্তির আক্রমন রোখা তখন প্রধান লক্ষ্য) ।

প্রকৃত বিপদ মোকাবিলার জন্য স্রষ্টা আমাদের ব্রেইনে এরকম "প্রতিরক্ষা" ব্যবস্থা তৈরী করেছেন, যাতে আমরা বিপদকে ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারি। কিন্তু ব্রেইন যখন ভুল করে "ধারণাগত" বিপদাশঙ্কা বা " উদ্বেগে" বার বার এরকম ইমার্জেন্সী অবস্হা জারি করে তখন এই ক্রমাগত ও প্রায় স্হায়ী যুদ্ধাবস্হার কারণে আমাদের সকল সহায়, সম্পদ, শক্তি নষ্ট হয়ে যা। ( ধরুন বাংলাদেশকে যদি এরকম অকারণে ২০ বছর যুদ্ধে লিপ্ত থাকতে হয়, দেশের ও আমাদের অবস্হা কোন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াবে?)

যারা দীর্ঘ স্হায়ী ও উপর্যুপরি "স্ট্রেস বা চাপের" মুখে থাকে তাদের অবস্থা এরকমই হয়।

এবার দেখা যাক স্ট্রেসের ফলে কি হয়:

১। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ( ইম্যুনিটি) কমে যায় :-

ইম্যুনিটির প্রায় সব উপাদানই মানসিক চাপ, উদ্বেগ, উৎকন্ঠার কারণে পরিবর্তিত হয়ে যায়। ফলে তারা সহজে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন, বিশেষ করে ভাইরাস জনিত রোগে।" কোষ নিয়ন্ত্রিত" ইম্যুনিটি কমে যায়। এমনকি রোগ প্রতিরোধের জন্য আমরা যে "ভ্যাকসিন" দেই এর কার্যকারিতা ও কমে যায়। (ঠেলা এবার সামলান)

২। অনিদ্রা বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে :- এই অনিদ্রার কারণে ও ইম্যুনিটির "এন- কে" কোষ ও "আই এল " নামক দুটি গুরুত্ব পূর্ন উপাদান কমে যায়। ফলাফল আরো রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

৩। শরীর দুর্বল, কাহিল হয়ে পড়ে :-

এর কারণ "সাইটোকিনস" এ পরিবর্তন। তাই শারীরিক রোগ না থাকা সত্বেও তারা অল্পতে হাঁপিয়ে উঠেন, পরিশ্রমের কাজ করতে পারেন না।

৪। বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ব্যাথায় ভুগেন :-

এর কারণ "সাইটোকিনস" এর মাত্রায় হেরফের ঘটে। এই সাইটোকিনসের জন্য ব্রেইনের ব্যথা অনুভবের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। ফলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ব্যথায় আক্রান্ত হন, যেগুলো শুধু কষ্টদায়ক নয়, দীর্ঘস্থায়ীও হয়ে থাকে।

৫। স্মৃতি শক্তি কমে যাওয়া :-

এর কারণ "এন্ডোটক্সিন" নামক হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া। ফলে অস্হিরতা, উৎকণ্ঠা বেড়ে যাওয়ার সাথে মনে রাখার ক্ষমতা কমে যায়।

৬ সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ন হচ্ছে " হার্টের" সমস্যা :-

হার্ট এ্যাটাকের প্রধান কারণ রক্তনালীতে ক্রমশ চর্বি জমে শক্ত ও মোটা হয়ে যাওয়া। রক্তনালির এই মোটা ও শক্ত হয়ে যাওয়ার প্রায় প্রতিটি পর্যায়ে মানসিক চাপ ও বিষন্নতার ভূমিকা রয়েছে। চাপের ফলে রক্তের একটি মার্কার "এস-আই-সি-এ-এম" এর পরিমাণ খুবই বেড়ে যায়। এই মার্কারের পরিমান বেশি হলে "হার্ট এ্যাটাকের" আশঙ্কাও বেড়ে যায়। 

৭। বিষন্নতা বা ডিপ্রেশন :- ক্রমাগত চাপ বিষন্নতা রোগ সৃষ্টি করে। আবার হার্ট এ্যাটাকের পর উপরের মার্কার বেড়ে যাওয়ার কারণের বিষন্নতা রোগ দেখা দিতে পারে।

৮। গিড়ায় গিড়ায় ব্যথা  বা রিমাটয়েড আর্থারাইটিস: এটি এক ধরনের অটো-ইম্যুইন ডিজিজ। ক্রমাগত চাপের ফলে মস্তিস্কের চাপ নিয়ন্ত্রণ অক্ষ "এইচ পি এ" দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে অটো ইম্যুনিটিকে দাবিয়ে/ চাপিয়ে রাখা যায় না। চাপ বা বিষন্নতায় তাই বাতের ব্যথা বাড়ে ও তা দীর্ঘস্হায়ী হয়।

৯। সোরিয়াসিস :- একটি মারাত্মক ধরনের চর্মরোগ। মনোচিকিৎসায় তারা ভালো ফল পেয়ে থাকেন।

১০।  ক্যানসার :- এদেরকে ও মনোচিকিৎসা দিয়ে বেচে থাকার সময় বাড়ানো যায়। ক্যানসারের শেষ অবস্হায় কেমোথেরাপির যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসার চেয়ে মনোচিকিৎসা কম কার্যকর নয়। 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ


শীতে শিশুর সুস্থতায়

শীতে শিশুর সুস্থতায়

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ১৮:২৭




চোখ যখন লাল

চোখ যখন লাল

১৩ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:১৮


ডিপ্রেশন ও আত্মহনন

ডিপ্রেশন ও আত্মহনন

১৩ নভেম্বর, ২০১৭ ১২:১৮

কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়

কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়

১২ নভেম্বর, ২০১৭ ২১:১২

হঠাৎ ঘাড় শক্ত?

হঠাৎ ঘাড় শক্ত?

১২ নভেম্বর, ২০১৭ ১৮:০৬






High blood pressure redefined for first time in 14 years: 130 is the new high

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:৪৬


New global commitment to end tuberculosis

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:৩১


























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর