শনিবার ২৩, সেপ্টেম্বর ২০১৭ - ৮, আশ্বিন, ১৪২৪ - হিজরী



ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ

এফসিপিএস, ওরাল এন্ড মেক্সিলোফেসিয়াল সার্জন 


দেশের চিকিৎসার উপর ভরসা রাখুন!

একটা মানুষের ঠিকঠাক ভাবে বেঁচে থাকার জন্য জিহবা যে কতটা জরুরী তা নিশ্চয়ই বলে দেয়ার প্রয়োজন নেই। কথা বলা কিংবা মুখ দিয়ে খাওয়া দাওয়া করা, এমনকি পানি টা পর্যন্ত পান করা যে জিহবা ছাড়া একেবারেই অসম্ভব সেটা আমরা সবাই বুঝি।

তাই, ২৮ বছর বয়সী তরতাজা যুবকটাকে যখন বলতে হলো যে, "তোমার জিহবার প্রায় অর্ধেকটাই কেটে ফেলে দিতে হবে কারন তোমার জিহবায় ক্যান্সার হয়েছে।" -- তখন আমার বেশ খারাপ লাগছিলো। আরও খারাপ লাগছিলো এই ভেবে যে, ছেলেটা পান-সুপারি- জর্দা, কিংবা সিগারেট ও খায় না- শুধুমাত্র ধারালো একটা দাঁতের দীর্ঘদিনের খোঁচা থেকে তার জিহবায় প্রথমে ঘা, পরে সেটাই ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। যদি একটু সচেতন হতো, ঘা টাকে অবহেলা না করে যথাসময়ে যদি কোন ডেন্টাল সার্জনের শরণাপন্ন হতো, তা হলে হয়তো এই পরিস্থিতি টা এড়ানো যেত।

ছেলেটার অসহায় ও নির্বাক দৃষ্টিই বলে দিচ্ছিলো সামান্য ঘা থেকে যে কেউ ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে, তা সে স্বপ্নেও ভাবে নি। অর্ধেক জিহবা নিয়ে কি সুস্থভাবে বাঁচা সম্ভব কিনা, এটাই ছিলো তার একমাত্র জিজ্ঞাসা। কিন্তু ভীষণ অবাক হয়ে গেলো সে, যখন জানতে পারলো জিহবার ক্যান্সারে আক্রান্ত অংশ মাইক্রোভাসকুলার সার্জারির মাধ্যমে তার শরীরের মাংসপপিন্ড দিয়েই পুনরায় প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। এবং এদেশেই সম্ভব। এবং সেই জিহবা দিয়ে একদম ভালোভাবেই কথা বলা, কিংবা খাওয়াদাওয়া করা সম্ভব- তখন সে আবারও আগের মত সুস্থজীবনে ফিরে যাওয়ার ব্যপারে আশাবাদী হয়ে উঠলো।

এরপর তার অপারেশন করা হলো। পারশিয়াল গ্লোসেকটমি করে তার জিহবার স্কোয়ামাশ সেল কার্সিনোমায় আক্রান্ত সম্পুর্ণ অংশটুকু ফেলে দেয়া হলো। এরপর তার হাত থেকে রেডিয়াল ফোরআর্ম ফ্রি ফ্ল্যাপ নেয়া হয়। হাতের রেডিয়াল আর্টারির সাথে মুখের সুপেরিয়র থাইরয়েড আর্টারি আর ভেনাকমিটেন্টিসের সাথে কমন ফেসিয়াল ভেইন আর এক্সটার্নাল জুগুলার ভেইনের মাইক্রোভাসকুলার এনাস্টোমোসিস করে ফ্ল্যাপটা তার জিহবার সাথে জোড়া দেয়া হয়। আর সে ক্যান্সারের ২য় স্টেজে থাকায় ঘাড়ের লিম্ফনোড বা লসিকাগ্রন্থিগুলোও আক্রান্ত হয়। ফাংশনাল নেক ডিসেকশনের মাধ্যমে সেগুলোও অপসারন করা হয়।

অপারেশনের পর সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। কথা বার্তা, খাওয়া দাওয়া মোটামুটি ঠিক হয়ে এসেছে। সময়ের সাথে সাথে আরো সুন্দর ও সুষ্ঠু ভাবে সে কাজগুলো করতে পারবে বলে আশা করা যায়। আর ধীরে ধীরে তার জিহবায় প্রতিস্থাপিত মাংসপিণ্ড পরিপূর্ণভাবে জিহবার রঙ ধারন করবে।

তাই মুখে কিংবা জিহবায় ঘা হলে শুধুমাত্র বিভিন্নরকমের ওরাল জেল দিয়ে মাসের পর মাস চিকিৎসা না করে ঘা হওয়ার কারন উদঘাটন করে সে অনুযায়ী চিকিৎসা করা জরুরী। শুধুমাত্র ধারালো দাঁত থেকেও ঘা, পরবর্তিতে ক্যান্সার হতে পারে। তাই প্রাথমিকভাবেই ডেন্টাল সার্জনের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এজন্য প্রোপার রেফারেল সিস্টেম ফলো করা সকল চিকিৎসকের জন্যই জরুরী। তবেই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা সুন্দরভাবে এগিয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ




জুতা নিয়ে যত কথা

জুতা নিয়ে যত কথা

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২০:০২



ন্যাসভ্যাক নামা

ন্যাসভ্যাক নামা

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১০:৫৮










হঠাৎ করে শিশু কেন মোটা হচ্ছে?

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৬:৪২
























মেডিকেলীয় অফলাইন

১৯ অগাস্ট, ২০১৭ ১৫:১২



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর