ঢাকা      সোমবার ২৩, জুলাই ২০১৮ - ৭, শ্রাবণ, ১৪২৫ - হিজরী

আহত রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসা এসব রোহিঙ্গার মধ্যে অনেকেই সেনাবাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতনে আহত হয়ে এখন বাংলাদেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জীবন বাজি রেখে তারা এ দেশে পালিয়ে এসেছেন।

এসব আহত রোহিঙ্গার চিকিৎসা দিচ্ছেন বাংলাদেশের কক্সবাজারের সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তবে একসঙ্গে এতো রোহিঙ্গার চিকিৎসা করাতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

সদর হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে আছে সাত বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা কিশোর। সে সেনাবাহিনীর গুলিতে আহত হয়েছে। সেনারা তার বুকে গুলি করেছিল। গুলি বের করে ক্ষত স্থানে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে।

 

jagonews24

 

যে কয়েকজন সেনাদের গুলিতে আহত হয়েছে তাদের মধ্যে এই কিশোরই সবচেয়ে ছোট। সংবাদমাধ্যম এপির কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই কিশোরের বাবা আবু তাহির জানিয়েছেন, গ্রামে ঢুকে সেনারা গুলি করতে শুরু করল। আমি দেখলাম যে আমার ছেলে মেঝেতে পড়ে আছে।

ওই কিশোরের মতো আরও ৮০ জন রোহিঙ্গা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই পুরুষ, যাদের বেশিরভাগই সেনাবাহিনীর গুলিতে আহত হয়েছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অত্যাচার, নিপীড়ন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা।

প্রচণ্ড বিশৃঙ্খলার মধ্যেই তাহির তার ছেলেকে নিয়ে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাতে সক্ষম হন। কিন্তু তাদের পুরো পরিবার কোথায় আছে তা তারা জানেন না। ছেলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে এমনটাই এখন তার একমাত্র প্রার্থনা।

কক্সবাজার এলাকায় রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবায় সদর হাসপাতালই এখন একমাত্র ভরসা। শত শত রোগীর চিকিৎসা করছেন মাত্র ২০ জন চিকিৎসক।

এই প্রথমবারের মতো গুলিতে আহত, পুড়ে যাওয়া বা ছুরিকাঘাতে আহত এত মানুষকে একসঙ্গে সেবা দিতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

 

 

হাসপাতালের প্রধান ড. শাহিন আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, সহিংসতায় আহত এতো রোগীকে একসঙ্গে আগে দেখিনি আমরা। এর আগে দেশে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি তাদের।

গত ২৫ আগস্ট বেশ কয়েকটি পুলিশ চেক পোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইন রাজ্যে সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার সরকার।

তারপর থেকেই সেখানে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অত্যাচার, নিপীড়ন শুরু হয়। সাধারণ নাগরিকদের বাড়ি-ঘর আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে সেনারা। জীবন বাঁচাতে দলে দলে রোহিঙ্গারা দেশ থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে।

দ্বিতীয়বারের মতো সহিংসতা শুরু হওয়ার পর প্রথম সপ্তাহে সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রায় ৩০ জন আহত রোহিঙ্গার চিকিৎসা করেছেন। এরা সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। এখন রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা জায়গার ব্যবস্থা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শাহিন আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের চিকিৎসার জন্য আরও অর্থ সহায়তা প্রয়োজন।

 

সৌজন্যে : জাগোনিউজ২৪.কম

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এবিওআই পদ্ধতিতে দেশে প্রথমবারের মতো কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট

এবিওআই পদ্ধতিতে দেশে প্রথমবারের মতো কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট

মেডিভয়েস রিপোর্ট : এবিও ইনকমপ্যাটিবল কিডনি প্রতিস্থাপন (এবিওআই) পদ্ধতিতে দেশে প্রথমবারের মতো…

না ফেরার দেশে ডা. উইলিয়াম লুসাই

না ফেরার দেশে ডা. উইলিয়াম লুসাই

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা…

সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের জন্য হতে পারে ৪১তম বিশেষ বিসিএস

সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের জন্য হতে পারে ৪১তম বিশেষ বিসিএস

মেডিভয়েস ডেস্ক: বিভিন্ন সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের জন্য ৪১তম বিসিএসকে বিশেষ…

মানব-দরদি চিকিৎসক ডা. ইকবাল

মানব-দরদি চিকিৎসক ডা. ইকবাল

মেডিভয়েস ডেস্ক: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসে চট্টগ্রাম ও তার…

জায়গা পেলেই ময়মনসিংহ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু

জায়গা পেলেই ময়মনসিংহ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ময়মনসিংহে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের জায়গা খোঁজার নির্দেশনা দিয়েছেন…

টিভি উপস্থাপিকা ডা. মলির সাফল্যগাঁথা

টিভি উপস্থাপিকা ডা. মলির সাফল্যগাঁথা

ডা. এসএম মলি রেজা। পেশায় চিকিৎসক এই নারী টিভি পর্দার সামনে ও পেছনে কাজ…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর