২৯ অগাস্ট, ২০১৭ ০২:৫০ পিএম

সিঙ্গাপুর ব্যর্থ হলেও আমরা সফল হবো: ঢামেক অধ্যক্ষ

সিঙ্গাপুর ব্যর্থ হলেও আমরা সফল হবো: ঢামেক অধ্যক্ষ

বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার ১২ বছরের মেয়ে মুক্তামনির চিকিৎসায় সফল হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ। তাঁর ভাষায়, সিঙ্গাপুর ফেইলড, সিঙ্গাপুর ডিনাইড মুক্তামনি। কিন্তু ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা সেটা করে দেখিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত আমরা কোনও জটিলতার সম্মুখীন হয়নি এবং আমরা সফল হবো। তবে সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে বলে জানান তিনি। 

মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) ফের অপারেশনের আগে মুক্তামনির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে কেবিনে যান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ। সেখানেই উপরোক্ত কথা বলেন ঢামেকের অধ্যক্ষ। এ সময় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, একই ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. শারমিন সুমিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। 

ঢামেকের অধ্যক্ষ আরো বলেন, মুক্তামনির প্রথম অপারেশন সফল হওয়ায় আমাদের চিকিৎসকদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। এতে ঢামেকের প্রতি দেশবাসীর আস্থাও বেড়েছে অনেক। ফলে অনেক বিরল রোগের রোগীরা বার্ন ইউনিটে আসছেন। 

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে মুক্তামনির উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঢামেকের বার্ন ইউনিটে। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকেরা তাতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর ঢাকা মেডিকেলে মুক্তামনির চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এজন্য হাতপাতালের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট বোর্ড গঠন করা হয়। সেই চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানেই চলছে মুক্তামনির চিকিৎসা। গত ১২ আগস্ট মুক্তামনির প্রথম অপারেশন করেন ডাক্তাররা।

গত ১২ জুলাই ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা তার চারটি রোগের কথা ধারণা করেন। পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায়, লিমফেটিক ম্যালফরমেশন রোগে ভুগছে মুক্তামনি।

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কামারবাইসা গ্রামের মুদি দোকানি বাবা ইব্রাহীম হোসেন ও গৃহিণী মা আসমা খাতুনের দুই জমজ সন্তানের একজন মুক্তিমনি, অন্যজন হীরামনি। ছেলে আল আমিনের বয়স এক বছর তিন মাস। মাত্র দেড় বছর বয়সে মুক্তামনির এ রোগ ধরা পড়ে। প্রথমে এলাকার চিকিৎসকদের অধীনে চিকিৎসা চলে। সে সময় অনেকটা ভালোই ছিল মুক্তামনি। তখন সে স্কুলেও যেত। বোনের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। মীর্জানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী সে। বর্তমানে হীরামনি সেই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। মুক্তামনিও সুস্থ হয়ে আবার পড়াশোনায় ফিরবে এমনটাই আশা করছে তার পরিবার।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি