ডা. হাসনাইন সৌরভ

ডা. হাসনাইন সৌরভ

মেডিকেল অফিসার


২৯ অগাস্ট, ২০১৭ ১২:০০ পিএম

প্রকৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টির নাম বন্ধুত্ব

প্রকৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টির নাম বন্ধুত্ব

-হালার পুয়া তুই কই?

-জ্বি কে বলছেন?

-হালার পুয়া ফোন নম্বর সেভ করা নাই?

-গালি দিচ্ছেন কেন ব্রাদার?

-আরে আমি জনি। হালার পুয়া সকাল সকাল গাঞ্জা খেয়ে পড়ে আছিস নাকি?

জনি, রফিকের বন্ধু। অসম্ভব প্রতিভাবান একজন কবি। তার মুখে এমন কুরুচিপূর্ণ কথা শুনে রাগে রফিকের গা জ্বলে গেল। কয়দিন আগেও যেই বন্ধুদের না দেখলে দিন কাটতো না ইদানিং তাদের কেমন যেন ইতরশ্রেণীর মনে হয়। কথায় কথায় অশ্লীল গালিগালাজ করে। নবনীর সামনে মান সম্মান আর কিছুই থাকলো না। দুয়েকটা গালি রফিকেরও জানা আছে। আর কিছুদিন আগে হলেও গালাগালির তোড়ে ভাসিয়ে দিতো জনিকে। তবে আজ নিজেকে সংবরন করলো।

-দোস্ত নতুন মোবাইল কিনেছি, নম্বর সেভ করা হয়নি।

-ফইন্নির পুত তুই মোবাইল কিনছিস? আমি না তোর থেকে টাকা পাই? ওইটা কই?

ওপাশ থেকে ভয়াবহ সব গালি শোনা যাচ্ছে। গালাগালির জগতে জনি একটা প্রতিভা। অন্তত গোটা পঞ্চাশেক মৌলিক গালি আছে যেগুলো জনির নিজের আবিস্কার। গালাগালির পর্যায় সারণি বানানো হলে এই মূহূর্তে জনি যেসব গালি দিচ্ছে তাদের কোনটারই আণবিক ভর একশোর নিচে হবে না। রফিক ফোনটা কেটে দিলো। এইসব বদ ছেলের সাথে মিশে জীবনটাই বরবাদ হয়ে গেলো। নবনী তার জীবনে আসার পর থেকে এই বন্ধুদেরকে তার অসহ্য লাগে। গাঁজা খেয়ে কবিতা লেখা, মদ খেয়ে নিজের বাসার ঠিকানা ভুলে যাওয়া, স্বরচিত গালির আসর বসানো এইসব বন্ধু নামের কুলাঙ্গারদের থেকে যত দ্রুত সম্ভব সরে আসা দরকার...

-কিরে হালার পুয়া? এই ভর দুপুরে কি চাস?

-দোস্ত প্লিয ঝগড়া করতে চাই না। তোর টাকাটা দিতে আসছি।

-কিসের টাকা?

-তুই যে টাকা পাস সেটা।

-কজ ইটস আ বেটার সুইট সিম্ফনি দিস লাইফ। ট্রাইং টু মেক এন্ডস মিট। ইউ আর আ স্লেভ টু মানি দেন ইউ ডাই।

-তোর কবিতার মা এবং বাবাকে নিয়ে একটা অশ্লীল কথা বলতাম। কিন্তু বলবো না। আজকে নবনীর সাথে ডেট। মুখটা খারাপ করতে চাচ্ছি না। টাকাটা নে। কটকটি খাইস। তাতে তোর মুখটা কিছুক্ষন হলেও বন্ধ থাকবে।

-এতো তাড়াহুড়া নাই। পরে দিলেও হবে। কি সেট নিয়েছিস দেখি?

-হুয়াই সেট।

-দেখি একটু।

রফিক সেট টা দিলো। জনি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সেট টা দেখছে। শালার মতলব ভালো মনে হচ্ছে না।

-সেটটা রাখলাম কয়েকদিনের জন্য।

-শোন দোস্ত তোদের সাথে আমি আর নাই। আমি একটা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চাই।

-ব্রেকাপ করছিস?

-ব্রেকাপ মানুষ গার্লফ্রেন্ডের সাথে করে তোর মতো গেঁয়ো ভুতের সাথে না, ছাগল কোথাকার।

-ও তোর তো এখন গার্লফ্রেন্ড হয়েছে। নবনী মালটা ভালো। তবে এই মাল তোর জন্য না। সরি টু সে মাই ফ্রেন্ড, শি ইজ আউট অফ ইউর লিগ।

জনির নাক বরাবর কঠিন একটা ঘুসি বসিয়ে দিলো রফিক। জনি ঘুসি খেয়ে কোঁত টাইপের একটা শব্দ করে নাক চেপে মাটিতে বসে গেলো । বিড় বিড় করে স্বরচিত গালি দিচ্ছে। ঝড়ের বেগে বেরিয়ে গেলো রফিক। জনি নাক চেপে হেলাল হাফিজের কবিতা আবৃত্তি করছে, "কেউ কেউ অবলীলায় বেছে নেয় পৃথক প্লাবন। কেউ কেউ এভাবেই চলে যায় বুকে নিয়ে ব্যাকুল আগুন"...

---রাত এগারোটায় নবনীকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে একটা সিগারেট ধরালো রফিক। রাস্তাঘাট শুনশান। নিঃসঙ্গ একটা কুকুর জিব বের করে হাঁপাচ্ছে।

-কিরে? বিড়ি খাবি

-ঘাউ।

-খাইস না বাপ। ক্যান্সার হবে।

-গররর...

কুকুরটাকে খুব একটা বন্ধুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে না। এত রাতে কুকুরের কামড় খাওয়া উচিত হবে না। রফিক রাস্তা পার হওয়ার জন্য পা বাড়ালো। কুকুরটা প্রাণপনে ঘেউ ঘেউ করছে। কিছু একটা গন্ডগোল হয়েছে, রফিক বুঝতে পারে। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সজাগ হয়ে উঠেছে। ঘাতক ট্রাক ছয় ইঞ্চির মধ্যে চলে আসার আগে কিছুই টের পেলো না রফিক...


--- মাঝরাতে ফোন বাজার শব্দে ধড়মড় করে উঠে বসলো জনি। ফোন ধরেই দুঃসংবাদটা পেলো। রক্ত লাগবে। ফোন করেছে মেডিকেল কলেজের এক ইন্টার্ন ডাক্তার। ডাক্তার মেয়েটার নাম সুতপা।

-ডক্টর সুতপা। একটা অনুরোধ করলে রাখবেন?

-বলুন।

-ফোনটা একটু রফিকের কানে দেবেন?

-উনি এখন কোমায় আছেন। কিছুই শুনতে পাবেন না। আপনি বরং যত দ্রুত সম্ভব রক্ত জোগাড় করুন। এ নেগেটিভ রক্ত পাওয়া সহজ ব্যপার না।

-প্লিজ ডক্টর।

-আচ্ছা দিচ্ছি। আপনি কি বলবেন বলুন।

নরম গলায় বললেন ডক্টর সুতপা। একটু ভেবে ফোনটা বেডে শুয়ে থাকা কোমায় থাকা রোগীর কানে ধরলেন।

- রফিক আমি জনি বলছি। হালার পুয়া আমি জানি তুই আমার কথা শুনতেছিস। খবরদার হারামজাদা মরবি না। যত রক্ত লাগে জনি জোগাড় করবে। সারা ঢাকা শহর চষে ফেলবো। তুই আমারে চিনিস না। ঝুলে থাক হারামজাদা।

ফোনটা কেটে দিয়ে ডক্টর সুতপা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। কোমায় থাকা রফিক নামের এই রোগীর চেহারায় কেমন যেন এক অদ্ভুত মায়া। নিস্পাপ চেহারার এই যুবকের জন্য কেন জানি কষ্ট হচ্ছে। ডক্টর সুতপা খুব সাবধানে চেহারা থেকে কষ্টের চিহ্ন মুছে ফেলেন। পেশাদারিত্বের এই জগতে আবেগের কোন স্থান নেই...

---রাত একটা। বৃস্টির মধ্যে বাইক নিয়ে রক্তের খোঁজে বের হয়েছে এক যুবক। গুড়ি গুড়ি বৃস্টির ছাঁট চোখে এসে লাগছে। কখন যে বৃস্টি আর অশ্রু মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় যুবক বুঝতে পারে না। এক্সিলারেটরে চাপ খেয়ে গর্জন করে উঠে বাইকের শক্তিশালী ইঞ্জিন। রাতের শহরে দাঁতে দাঁত চেপে খেপার মতো বাইক ছোটাচ্ছে একাকী যুবক। বন্ধুকে এত তাড়াতাড়ি হারাতে রাজি নয়।

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না