ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
ডা. হাসনাইন সৌরভ

ডা. হাসনাইন সৌরভ

মেডিকেল অফিসার


২৮ অগাস্ট, ২০১৭ ২৩:৩৯

সাপের কামড় বনাম ওঝা

সাপের কামড় বনাম ওঝা

-কি নাম?

-হাশেম আলি।

-কি সমস্যা?

-সাপে কামড়াইশে।

-ও মাই গড!

-জ্বে জ্বে।

-কি সাপ?

-বিষাক্ত সাপ।

-সাপ দেখেছেন?

-আমি দেখিনাই শার। ওঝা বলেশে বিষাক্ত সাপ।

-কোথায় কামড়াইছে?

-পায়ের বুড়া আংগুলে।

-পায়ে কি লাগাইসেন এটা।

-বান দিয়েশি শার। শক্ত বান।

-বান খোলেন। গ্যাংগ্রিন হয়ে যাবে।

-খোলা যাবে না। ওঝা নিষেধ করেশে।

-কোথায় কামড়াইছে দাগ দেখি।

-দাগ নাই শার।

-শার কি জিনিস?

-সম্মান করে শার ডেকেশি।

-ভালো করেছেন।

হাশেম আলীর বাঁ পায়ে সাপে কেটেছে। সেই পায়ে কঠিন বান। রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে নীল হয়ে ফুলে আছে। পায়ে সাপের কামড়ের কোন দাগ নাই। তবে কয়েক জায়গায় ব্লেড দিয়ে কেটে রক্ত বের করার চেস্টা করা হয়েছে। এতকিছুর মধ্যেও হাশেম আলি বেশ হাসিখুশি আছে। গুন গুন করে কি একটা গানও গাইছে মনে হলো। গানের কথাগুলো বেশ আশ্চর্যজনক। কোন এক ব্যক্তির আলু হারিয়ে গেছে, সেই আলু পাওয়া যাচ্ছে না এরকম একটা থিম নিয়ে গাওয়া গান।

-হাশেম আলি।

-জ্বি?

-গান গাইছেন নাকি?

-জ্বি শার। তাহশানের গান।

-কি গান শোনান দেখি?

হাশেম আলি তাহসানের "আলো আলো" গানটা হেঁড়ে গলায় গাওয়া শুরু করলো। এতক্ষনে আলুর ব্যপারটা বুঝলাম। আরেকটা ব্যপার বোঝা গেল। হাশেম আলির মধ্যে এখন পর্যন্ত কোন স্নায়বিক দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে না। বিষাক্ত সাপের কামড়ে যে সব লক্ষণ দেখা যাওয়ার কথা এখন পর্যন্ত তার কিছুই নেই। জরুরী বিভাগের রোগীরা অবাক হয়ে দেখছে, বাম পায়ে বান দেওয়া এক সাপে কাটা রোগী হেড়ে গলায় গান গাইছে আর এক ডাক্তার জরুরী কাজ বাদ দিয়ে মনোযোগ দিয়ে সেই গান শুনছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে ২৪ ঘন্টা পর্যবেক্ষনের জন্য ভর্তি দিলাম।

.

.

পেছন থেকে "শার শার" ডাক শুনে তাকিয়ে দেখি হাস্যেজ্বল হাশেম আলি।

-শার ছাড়পত্র পেয়েশি।

-ভেরি গুড।

- ডিউটি ডাক্তার বাবু বলেশে আমাকে সাপে কাটেনি।

-তাহলে পায়ের কাটা দাগগুলো কিসের?

-ওগুলো তো ওঝা করেশে।

-তাহলে আপনাকে সাপে কাটেনি ঠিকই তবে ওঝা কেটেছে।

-শার ওঝা কাটার চিকিৎসাটা লিখে দিয়েন।

-এটার কোন চিকিৎসা নাই। ভবিষ্যতে সমস্যা হলে ওঝার কাছে না গিয়ে হাসপাতালে আসবেন।

হাশেম আলি হাসছে। নিস্পাপ ও কৃতজ্ঞতার হাসি। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার হাসি। রোগীকে সুস্থ হয়ে বাড়ি যেতে দেখলে কেমন যেন ইমোশনাল হয়ে যাই। আরো কিছু ইমোশনাল কথা বলার ইচ্ছা ছিলো। থাক বলবোনা। এত্তো টাইম নাই।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত