ঢাকা      সোমবার ২৩, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৭, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. আহমাদ হাবিবুর রহিম

লেখক, কলামিস্ট

বিসিএস (স্বাস্থ্য), রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ।


স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কিছু প্রস্তাবনা

প্রতিদিন ত্রিশ এর বেশি রোগী চেম্বারে দেখা যাবে না।  (সরকারি হাসপাতালের আউটডোরে সংখ্যাটা ৫০ হতে পারে)

কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জেনারেল ফিজিশিয়ান দ্বারা রেফার করা ছাড়া রোগী দেখতে পারবেন না।  তাঁর জ্ঞান সামান্য সর্দি কাশির রোগীদের চিকিৎসা করে অপচয়ের জিনিস না।

রোগী আগে থেকে এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে দেখা করতে হবে।  একটা নির্দিষ্ট টাইম স্লটে (১৫/৩০ মিনিটের) এপয়েনমেন্ট থাকবে।

বিশেষজ্ঞের ভিজিট হবে নূন্যতম পাঁচ হাজার টাকা।

চিকিৎসক মনোযোগ দিয়েই শুনবেন রোগীর সব সমস্যাগুলো।  এরপর প্রোপার এক্সামিন করে; রোগের ভালো খারাপ ও সম্ভাব্য চিকিৎসার পন্থা ও ফলাফল বিস্তারিত রোগী ও তার নিকটস্থ স্বজনকে বুঝিয়ে বলতে হবে।

রোগীকে যথেষ্ট সময় দেয়ার পরও যদি কথা বলতে চায় তাহলে তাকে এক্সট্রা ফি পে করে কথা বলতে হবে।  তবে তা অন্য কারো শিডিউল ক্ষতি না করে।

রোগীর পক্ষ থেকে ডাক্তারকে রেটিং দেয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।  বেশি বাজে রেটিং এর ডাক্তারকে পেশাজীবী ট্রাইবুনালে জবাবদিহি করতে হবে।  ডাক্তারও রোগীর ব্যাপারে মন্তব্য জানাতে পারবেন।

পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য বালতি টেস্ট মার্কা সব ল্যাব/ক্লিনিক বন্ধ করে স্ট্যান্ডার্ড ৫ টা ল্যাব উপজেলা পর্যায়ে; এমন জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে সমানুপাতিক হারে ল্যাবের অনুমোদন দিতে হবে।

এসব স্ট্যান্ডার্ড সেই ল্যাব রিপোর্ট ডাক্তার কোন ভাবেই রিফিউজ করতে পারবেন না।  ল্যাবের খরচ মিনিমাম করে সরকার ফিক্স করে দেবে।  যদিও খরচ তখনও বর্তমানের চেয়ে কিছুটা বেশি হবে স্ট্যান্ডার্ডাইজেশনের কারণে।

ঔষধ কোম্পানী থাকবে ম্যাক্সিমাম ৫০ টা। বাজারে বাজে কোন ড্রাগ ঢুকতে দেয়া সুযোগই দেয়া যাবে না।

ডাক্তারকে ভিজিটের সময় সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা মূল্যের বেশি দামী কোন গিফট ঔষধ কোম্পানী দিতে পারবে না।  অথবা ডাক্তারদের ঔষধের জেনেরিক ন্যাম লিখতেও আদেশ দেয়া যেতে পারে।

সরকারি অনলাইন ডাটাবেজ এর মতো NID নাম্বারের বিপরীতে সেন্ট্রাল ডাটাবেজ থাকবে।  যাতে রোগীর জন্ম থেকে শুরু করে বর্তমান অসুস্থতা পর্যন্ত চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার সব তথ্য থাকবে।  ল্যাবগুলো এই ডাটাবেজেই রিপোর্ট গুলো দেবে। ফার্মাসিস্ট এই অনলাইনেই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন দেখে ঔষধ দেবে।  রোগীর সুবিধার্থে তাদের এ রিপোর্টের প্রিন্টেড কপি দেয়া হবে।

এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রিসার্চ করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।  এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে(২-৫ বছরে) একটি করে মানসম্পন্ন রিসার্চ পেপার জমা দিতে হবে।  গবেষণায় নিয়ম মাফিক সময় দিতে হবে।  বছরের নির্দিষ্ট একটি সময় রোগী দেখা বন্ধ করে রিসার্চ ও আরেকটি সময়ে নিজের বিনোদনের জন্য সময়ের বরাদ্দ রাখতে হবে।

রোগীর ফলো আপ নিশ্চিত করতে একটা টিম থাকবে।

এই ডাটাবেজ এর এক্সেস পাবে শুধু রেজিস্টার্ড ডাক্তাররা।  এর বাইরের কেউ কোয়াক প্রেসক্রিপশন লিখলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

আর কিছু?

যে দেশে কোটি কোটি মানুষের ইন্টারনেট এক্সেস আছে সেদেশে কি চাইলেই কি পাঁচ বছরে অন্তঃত দুই কোটি মানুষকে এমন ডিজিটালাইজড স্বাস্থ্য সেবার আওতায় আনা সম্ভব না?

অন্তঃত একটি শহর দিয়ে শুরু করে দেখুন অসম্ভব নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ডাক্তারি ভাবনা: এমবিবিএস বনাম নন-এমবিবিএস ডাক্তার

ডাক্তারি ভাবনা: এমবিবিএস বনাম নন-এমবিবিএস ডাক্তার

ডা. আব্দুল করিম (ছদ্মনাম)। প্রেসক্রিপশনে নামের পাশে এমবিবিএস শব্দটি নেই। আছে কিছু…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস