ডা. হাসনাইন সৌরভ

ডা. হাসনাইন সৌরভ

মেডিকেল অফিসার


২৭ অগাস্ট, ২০১৭ ১১:১০ পিএম

যে জীবন ফড়িঙের দোয়েলের

যে জীবন ফড়িঙের দোয়েলের

ডা. সাইদ মো. এজাজুল ইসলাম, (এমবিবিএস, বিসিএস স্বাস্থ্য, এফসিপিএস পার্ট ওয়ান) এই মূহুর্তে দরদর করে ঘামছেন। ঘামে ধবধবে সাদা শার্ট গায়ের সাথে লেপ্টে গেছে। তার মুখোমুখি বসে আছে এক অপূর্ব সুন্দরী তরুণী । এত সুন্দরী মেয়ে সচরাচর দেখা যায় না। ডাক্তার এজাজ এফসিপিএস করছেন চর্ম ও যৌনরোগ বিষয়ে। মানুষের কুৎসিত সব রোগ নিয়ে তার দিনকাল কাটে। সুন্দরী মেয়েটেয়ে দেখার সময় তার হয় না। ডাক্তার সাহেব মনে মনে জীবনানন্দের কবিতা আওড়ালেন, "যে জীবন ফড়িঙের দোয়েলের, মানুষের সাথে তার হয়নাকো দেখা"। মেয়েটা কথা বলার জন্য মুখ খুলেছে। ডাক্তার সাহেব মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছেন।

-স্যার।

-বলুন।

-এটা কি ডাকতারুজ্জামানের চেম্বার?

-ডাকতারুজ্জামান?

-জ্বি। আকতার ডাকতারুজ্জামান।

-এটা কে?

-আমাকে একজন পাঠিয়েছে। এখানে নাকি উনার চেম্বার।

-যার নাম বললেন উনি কি ডাক্তার?

-জ্বি।

-এই নামে কোন ডাক্তারকে চিনি না।

ডাক্তার এজাজুল ইসলাম অবশ্য বুঝতে পারছেন এই রোগী কাকে খুঁজছে। তার পাশেই ডাক্তার আকতারুজ্জামান নামে একজন চেম্বার করেন। হোমিওপ্যাথি ডাক্তার। রোগী নাম বলতে গিয়ে একটু ভুল করে ফেলেছে। তিনি ইচ্ছা করেই ভুলটা ধরিয়ে দিলেন না। থাকুক মেয়েটা আরো কিছুক্ষণ।

-স্যার আমি তাহলে ভুল চেম্বারে চলে এসেছি। সরি। আপনাকে বিরক্ত করলাম।

ডাক্তার এজাজ কিছু বললেন না। তিনি গভীর চিন্তায় মগ্ন। চেম্বারের সামনে বড় বড় করে নাম এবং পদবী লেখা আছে। তারপরও এই মেয়ে ভুল করলো কেন? পুরো বিষয়টা প্রকৃতির একধরণের খেলা মনে হচ্ছে। প্রকৃতি মাঝে মধ্যে এই ধরণের খেলা খেলে। ডাক্তার এজাজ গত কিছুদিন ধরে বিয়ের জন্য পাত্রী দেখছেন। কোন পাত্রীই তার পছন্দ হয়নি। প্রকৃতি কি তার জন্য বরাদ্দকৃত মেয়েটিকে এভাবেই তার সাথে দেখা করিয়ে দিলো? ডাক্তার এজাজের মন ফূর্তি ফূর্তি লাগছে। তিনি গুনগুন করে গান গাইছেন "কন্যা ভুল করিস না, আমি ভুল করা কন্যার সাথে কথা বলবো না"। ভুল করা কন্যা চলে যাচ্ছে। ডাক্তার এজাজ অস্থির বোধ করছেন। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো হঠাৎ নিতে হয়। ডাক্তার এজাজও হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলেন প্রকৃতির এই খেলায় তিনি অংশগ্রহণ করবেন। শুধু অংশগ্রহন করেই ক্ষান্ত হবেন না, গোল করে ট্রফিও ছিনিয়ে আনবেন।

- রেবেকা শুনুন।

ডাক্তার এজাজ ডাকলেন। মেয়েটা ঘুরে তার দিকে তাকালো। ডাক্তার সাহেবের চোখে এই ঘুরে তাকানোর ভঙ্গিটাও অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী মনে হলো। তার মনে হচ্ছে যেই মেয়ে এভাবে ঘুরে তাকাতে পারে তাকে না পেলে জীবন বৃথা।

-আমাকে বলছেন?

-জ্বি।

-আপনি আমার নাম জানলেন কিভাবে?

-হঠাৎ মনে হলো। আমার ইনটুইশন প্রবল।

-ওয়াও! সত্যি?

-জ্বি।

-আচ্ছা আমার সম্পর্কে আরো কিছু বলুন তো!

-আপনি অনার্স প্রথম বর্ষে পড়েন। অবিবাহিত। ঢাকায় থাকেন। আপনারা তিন বোন। আপনি সবার ছোট। বড় দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। উনারা ঢাকার বাইরে থাকেন।

ডাক্তার এজাজ একটা অন্ধ আত্ববিশ্বাস অনুভব করছেন। যেহেতু একটা ঠিক হয়েছে বাকিগুলোও ঠিক হবে। রেবেকা তাকিয়ে আছে। তার চোখেমুখে বিস্ময় না কৌতুক ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।

-ডাক্তার সাহেব।

-বলুন রেবেকা।

-আমার নাম লাবণী। রেবেকা না। আমার কোন ভাইবোন নেই। আমি অনার্সে না বিএ পাসকোর্সে পড়ছি। আমি বিবাহিত, একটা বাচ্চা আছে।

ডাক্তার এজাজ মাথা নিচু করে বসে আছেন। তার বুকের ভিতর কিছু একটা ওলটপালট হয়ে গেছে। গোল করতে গিয়ে তিনি নিজেই গোল খেয়ে বসেছেন। প্রকৃতি এই নিষ্ঠুর খেলাটা কেন খেললো? নিশ্চয় কোন কারণ আছে। কারণ বিনা কার্য হয় না। ডাক্তার এজাজ নার্ভাস হয়ে দাড়ি চুলকাতে লাগলেন।

-ডাক্তার সাহেব, সুন্দরী মেয়েদেরকে ছেলেরা বিভিন্নভাবে মুগ্ধ করার চেস্টা করে। আমি বহুদিন ধরেই এসব ফেস করছি। বেশিরভাগ সময় বিরক্ত লাগে। আপনার বেলায় কেন জানি বিরক্ত লাগছে না। যাই। ভালো থাকবেন।

রেবেকা চলে গেলো। ডাক্তার এজাজ মোটামুটি নিশ্চিত মেয়েটার নাম রেবেকা, লাবণী না। মেয়েটা মিথ্যা বললো কেন? ডাক্তার এজাজ একটু হতাশাবোধ করছেন।

-ভাই।

-বলো এজাজ।

-ওই যে মেয়েটা দেখছেন? বর কনের স্টেজ থেকে ফুল ছিড়ছে?

-হুম।

-মেয়েটার নাম লাবণী।

-কিভাবে চেনো?

-চেম্বারে এসেছিলো। আমি তো প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে গেলাম। মেয়েটাকে ইমপ্রেস করার চেস্টা করেছিলাম। মেয়েটা বললো ও বিবাহিত। বাচ্চাও নাকি আছে। আজকে বিয়ে খেতে এসে আবার দেখা হয়ে গেলো। খুবই লজ্জায় পড়ে গেলাম।

-আহারে।

-মেয়েটা অবশ্য নিজ থেকে এসে অনেক কথাবার্তা বললো। খুবই লজ্জা পাচ্ছিলাম। মেয়েটার স্বামী দেখলে আবার কি মনে করে।

-হুম।

-ও ভাই।

-কি?

-চ্যাক খেয়ে গেলাম তো।

-চ্যাক না ছ্যাক হবে।

-ভাই আপনি তো গল্প লেখেন। আমার চ্যাক খাওয়ার গল্পটা একটু লেইখেন।

-আচ্ছা লিখবো।

আমি মেয়েটার দিকে তাকালাম। এই মেয়েকে আমি চিনি। আমাদের ভার্সিটিতেই অনার্স পড়ে। ওদের তিন বোনকেই চিনি। এজাজ নামটা ভুল বলেছে। এর নাম রেবেকা, লাবণী না। মোটেও বিবাহিত না, বাচ্চা থাকার তো প্রশ্নই আসে না। মিথ্যা বললো কেন কে জানে। ব্যপারটা বোঝা যাচ্ছে না। এখানে কিছু একটা খেলা চলছে। খেলাটা ঠিক ধরতে পারছি না।

মেয়েটা এজাজের দিকে এগিয়ে আসছে। একটা হাত পেছনে। কি যেন লুকিয়ে রেখেছে। স্টেজ থেকে ছেড়া ফুলগুলো বোধহয়। মেয়েটাকে আসতে দেখে এজাজ দরদর করে ঘামছে।

-ও ভাই।

-কি?

-আসছে তো।

-আসুক না।

-হাতে কি যেন আছে। মারবে নাকি?

-মারলে মারবে। কিছু তো করার নাই।

-ও ভাউ বাচান।

নারীর হাত থেকে পুরুষকে কে কবে বাচাতে পেরেছে? হাতে একটা টুথপিক ছিলো। আমি মনোযোগ দিয়ে দাঁত খোঁচাতে লাগলাম। মেয়েটা এগিয়ে এসে ফুলগুলো এজাজের হাতে দিলো। ফুলের সাথে একটা কাগজও আছে। কাগজে লেখা, "অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে বাঁধতে চাই"। এজাজ ফুল ও কাগজ হাতে নিয়ে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি আস্তে করে দূরে সরে গেলাম। এই খেলা প্রকৃতির একান্ত নিজস্ব খেলা। প্রকৃতি তার নিজস্ব খেলাগুলো গোপনে খেলতে চায়। এখানে তৃতীয় ব্যক্তির না থাকাই ভালো।

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত