২৬ অগাস্ট, ২০১৭ ০৭:৩৪ পিএম

ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া এড়াতে ব্যক্তিগত সুরক্ষা জরুরি

ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া এড়াতে ব্যক্তিগত সুরক্ষা জরুরি

সরকারের একার পক্ষে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগ থেকে নাগরিককে রক্ষা করা সম্ভব হবে। এমনই মত রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার বেসরকারি ইমপালস হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক জাহীর আল-আমিনের।

জাহীর আল-আমিন বারডেম হাসপাতালে নাক কান গলার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ওই হাসপাতাল থেকে অবসর নেওয়ার পর অন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে মিলে নিজেরাই একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। বর্তমান সময়ের অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা চিকুনগুনিয়া বিষয়ে তাঁর সঙ্গে এই প্রতিনিধির কথা হয় তাঁর কার্যালয়ে। তিনি বলেন, চিকুনগুনিয়া থেকে বাঁচতে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে চিকুনগুনিয়া রোগ বহনকারী মশা নিধনের উদ্যোগ থাকতে হবে। সিটি করপোরেশন তাঁদের আওতাধীন এলাকাগুলোতে কীটনাশক প্রয়োগ করবে। তবে বসতবাড়িকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিধনের দায়িত্ব বাড়ির বাসিন্দাদেরই নিতে হবে। কোথাও পানি জমতে না দেওয়া, মশারি ব্যবহার ও মশা মারার স্প্রে ব্যবহার করতে হবে।

তবে রোগমুক্ত থাকতে ব্যক্তিগত সুরক্ষার ওপর সবচেয়ে জোর দেন ডা. জাহীর। তিনি বলেন, পার্ক, বন-জঙ্গল, পাহাড়—সব জায়গাতেই মশা জন্মায়। সরকার সব জায়গায় যেতে পারবে না। কীটনাশক প্রয়োগ করে ১০০ ভাগ মশা নিধন সম্ভব নয়। তাই মশা যেন কামড়াতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শরীরে ‘মসকিউটো রিপেলেন্ট’ ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

অধ্যাপক জাহীর বলেন, এই পণ্য উৎপাদনে ব্যবসায়ীরা ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি বলেন, মশার কামড় থেকে বাঁচতে দেশের বাইরে এই পণ্যগুলো নিয়মিত ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে এগুলো পাওয়া যায় না। দেশে এ ধরনের পণ্য উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া উচিত। তবে উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হবে।

জাহীর আল-আমিন

অধ্যাপক জাহীর জানান, বিদেশের বাজারে চার ধরনের মসকিউটো রিপেলেন্ট সহজলভ্য। ইমপালস হাসপাতালের সংগ্রহে থাকা ধরনভেদে এগুলোর দাম ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা। হাসপাতালে আসা রোগীদের পণ্যটি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন সেখানকার চিকিৎসকেরা। সাধারণ মানুষ পণ্যটি এই দামে কিনতে পারবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব মানুষের জন্য সব ধরনের চিকিৎসাসেবা নয়। যাদের সামর্থ্য আছে, তারাই কিনবে।

এ ধরনের পণ্যের ব্যবহার নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ইমপালস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঠিক কোন ধরনের পণ্য এনেছে বা ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে, তা আমাদের জানা নেই। তবে আমরা সাধারণভাবে সেসব পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দিই যা সহজলভ্য, দাম কম।’

সূত্র: প্রথম অালো

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি