ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ২ ঘন্টা আগে
ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী

ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী

মেডিকেল অফিসার, রেডিওলোজি এন্ড ইমেজিং ডিপার্টমেন্ট,

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।


২৫ অগাস্ট, ২০১৭ ১১:৫৫

মাম্মাম যখন ডাক্তার

মাম্মাম যখন ডাক্তার

বিকেল ৫ টা। পাঁচ জন নানা বয়সের ছেলে বাচ্চাদের একটি ছোট্ট গ্রুপ! বাসার সামনের কিঞ্চিৎ খোলা জায়গা আর রাস্তা জুড়ে চলছে তাদের অসম বয়সী বন্ধুদের ফুটবল খেলা যা মাঝে মাঝেই হ্যান্ড বল ও হয়ে যায়। এই দলের সর্বকনিষ্ঠ শিশু খেলোয়ারের বয়স চার বছর। সে খানিকটা দুধ ভাত টাইপ ফুটবলার। এমন সময় এক নারী দর্শক মিনিক দুয়েক শিশুদের খেলা দেখলো। হাতের ফোনটি বার বার বেজে উঠছে, কাজের জায়গা থেকে ফোন এসেছে। রুগী অপেক্ষমান। খেলার গ্রুপটির সামনে থেকেই উনি বেরোচ্ছিলেন। সর্বকনিষ্ঠ শিশুটি হাত বাড়িয়ে হাত খানা ধরল তার। মা একটু গাল টিপে দিল শিশুটির। একটু চুমু খেল। টা টা! বাই বাই ! বলে মা এগিয়ে গেল। দলের সকলে তখন ও খেলছে। কেবল সর্বকনিষ্ঠ শিশুটি খেলা ফেলে স্ট্যাচু হয়ে গেল। পায়ের কাছে বল। সে কিক দিচ্ছে না। তাকিয়ে আছে পথের দিকে। সব ভাইয়ারা খেলছে। তাদের মা বাসায়। কেবল ওর মা ওকে ফেলে রোজ বাইরে যায়। হাসপাতালে। ল্যাব এইডে। বিকেল বেলা পার্কে যেতে, নদীর পাড়ে যেতে ভালো লাগে তার। মা নিয়ে যেতে পারে কই?? মা রোজ তাকে ফেলে চলে যায়।

বন্ধুরা বল দিতে ডাকছে তাকে। সে বল দিচ্ছে না। মায়ের পথের দিকে তাকিয়ে আছে। মা ও বার বার ফিরে ফিরে তাকাচ্ছে। ততক্ষনে রিকশা পেয়ে রিকশাতে উঠে গেছে মা। বাসার সামনের গলি থেকে ঝাপসা চোখে মলিন মুখে তাকিয়ে সে। এ তার প্রতিদিনকার রুটিন।

রিকশার ব্যাক ওপেন স্পেস থেকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে আছে মা। স্থির পথপানে চেয়ে তার ছোট্ট রাজপুত্র। আস্তে আস্তে পুত্রের অবয়ব ঝাপসা লাগছে। চোখ দুটো ভিজে ওঠে ঝাপসা হয়ে আসে সোনার করুন মুখ খানা।

কি মায়া! কি মায়া! ভালোবাসার এই অটুট বন্ধন। প্রতিদিন ই আসে বিদায়ের ক্ষন। প্রতিদিন ই আসে অপেক্ষা, আবার রাজপুত্রকে দেখবে কখন!

রিকশার বাঁক ঘুরলেও শিশুটি শূন্যের পানে চেয়ে থাকে ভেজা ভেজা চোখে। কেউ জানে না এই ছোট্ট বুকে জমাট কষ্টের পাথরের ওজন। কেউ জানে না ডাক্তার (কর্মজীবী) মায়েদের জীবনে এই ব্যথাদের কথোপকথন !!!

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত