ডা. হাসনাইন সৌরভ

ডা. হাসনাইন সৌরভ

মেডিকেল অফিসার


২৪ অগাস্ট, ২০১৭ ০২:৪৭ পিএম

ডাক্তারের মায়া

ডাক্তারের মায়া

-কি সমস্যা?

-চুলকায়।

-কোথায়?

-এইখানে।

-রাতে বেশী না দিনে বেশী?

-রাতদিন নাই। সারাদিনই চুলকায়।

এই রোগীর নামটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। সত্তার খাঁ। সমস্যা খুব একটা গুরুতর নয়। কুঁচকির গোড়ায় চুলকায়।সম্ভবত ফাঙ্গাল ইনফেকশন। এই রোগকে ডাক্তারি বিদ্যায় টিনিয়া ক্রুরিস বলে। বাংলায় বলে দাদ। সমস্যা সেটা না। সমস্যা হলো সত্তার খাঁ তার সমস্যার জায়গাটা দেখাতে লজ্জা পাচ্ছেন। লজ্জা পাওয়াটা স্বাভাবিক। এখানে রোগীদের প্রাইভেসির কোন ব্যবস্থা নেই। এক রোগীর সাথে কথোপকথন অন্য রোগীরা আগ্রহ নিয়ে শোনে। শুধু শোনে না,নিজেরা সেটা আলোচনা করে একটা ডায়াগনোসিসও দাড় করায়। সত্তার খাঁয়ের চুলকানির খবর আর কিছুক্ষনের মধ্যে গোটা গ্রামের মানুষের জানা হয়ে যাবে।

সত্তার খাঁয়ের জন্য মায়া হলো। ভদ্রলোক এই মুহূর্তে মায়ের আচলের আড়াল থেকে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছেন। তার মা হুংকার দিলেন, "সত্তার খাঁ, ডাক্তারকে দেখাও সমস্যা কোথায়।" আমি হাসি চাপলাম। ছয় বছরের লুতুপুতু বাচ্চার এমন নাম রাশভারি মেনে নেওয়াটা একটু কঠিন। তারপরও সরকারি চাকরি আর কিছু শেখাক আর না শেখাক বিনাবাক্যব্যয়ে মেনে নেওয়াটা শিখিয়েছে। আর মেনে না নিয়ে উপায়ও নেই। মানুষের নাম যত গুরুগম্ভীরই হোক সেটা ছোটবেলাতেই রাখা হয়। যার নাম ব্রজমোহন শিকদার তার নাম ছয় মাস বয়সেও ব্রজমোহন শিকদারই ছিলো। আবার যার নাম গিট্টু মিয়া, সত্তর বছর বয়সেও তার নাম থাকবে গিট্টু মিয়া। তার নাতি নাতনীদেরকে দাদার নাম জিজ্ঞেস করলে তারা অন্যদিকে তাকিয়ে উদাস উদাস গলায় বলবে, "নামে কি আসে যায়।"

আমি প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখলাম।বললাম, থাক দেখা লাগবেনা। সত্তার খাঁ তাকিয়ে আছে। চোখে কৃতজ্ঞতা। এইসব কৃতজ্ঞ দৃষ্টির জন্যই বোধহয় এত বঞ্চনার পরেও ডাক্তারি পেশাটা আজও ছেড়ে দেইনি। আরেকটু কৃতজ্ঞতা অর্জনের আশায় বললাম,

-সত্তার খাঁ, প্য্যন্টের চেইন লাগাও। পোস্ট অফিস দেখা যাচ্ছে।

সত্তার খাঁ চেইন লাগাতে গিয়ে জায়গামতো আটকে ফেললো। কিছুক্ষন চেস্টা করে হতাশ গলায় বললো, আংকেল গিট্টু লাগছে, মরা গিট্টু। মিনিটখানেক মরা গিট্টু খোলার চেস্টার পর ব্যর্থ হয়ে সত্তার খাঁকে জরুরী বিভাগে রেফার করলাম। তার মা পুত্রের উদ্দেশ্যে একের পর এক হুংকার ছাড়তে লাগলেন।

সত্তার খাঁর মা পরে এসেছিলেন। বললেন বাচ্চা এখন সুস্থ। ভিজিট দিতে ভুলে গিয়েছিলেন তাই এখন দিতে এসেছেন। আমি বললাম ভিজিট লাগবে না। সত্তার খাঁয়ের জন্য এক পাতা সিভিট দিলাম। কেন যেন খুব মায়া হয় বাচ্চাটার জন্য। রোগীর প্রতি চিকিৎসকের এই অযাচিত মায়ার উৎস কি? আমার জানা নেই।

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত