বৃহস্পতিবার ২১, সেপ্টেম্বর ২০১৭ - ৬, আশ্বিন, ১৪২৪ - হিজরী




পদসংখ্যা তো সীমিত, তাহলে কি আমার বিসিএস হবে?

সবাই বলছে, এবার বিসিএসে তো প্রায় চার লক্ষ পরিক্ষার্থী... কিন্তু চাকুরীর পদসংখ্যা তো সীমিত... তাহলে কি আমার বিসিএস হবে?

হ্যাঁ, প্রশ্নটা সঙ্গত... কিন্তু সেটা এখন নয়।

বিসিএসের তিনটা মূল ধাপ... প্রিলি, লিখিত, ভাইভা।

প্রথম কথা হল, আগে প্রিলিতে উতরে যান, এরপর লিখিত পাশ করুন... ভাইভাতে যান। এরপর না হয় এই প্রশ্নটা করুন।

কিন্তু প্রিলিতেই উতরে যেতে পারলেন না, তাহলে দুই হাজার চব্বিশটি পদ কেন, দুই লক্ষ পদ দিলেও তো চাকুরী হবে না আপনার।

শুনতে তিতে মনে হলেও এটাই বাস্তব কথা।

তাছাড়া, এই ধরণের প্রশ্নের সবচেয়ে বড় নেগেটিভ দিক হল, এটা মানুষকে হতাশ করে তুলে। যার হয়তো কিছু সম্ভাবনা ছিল এগিয়ে যাবার, হতাশা তাকে পিছিয়ে নিয়ে যায়।

চার লক্ষ অনেক বড় সংখ্যা। কিন্তু সংখ্যাই সব কিছু নয়... কোয়ান্টিটির চেয়ে কোয়ালিটি বেশি গুরুত্বপুর্ন।

তাই এই চার লক্ষ দেখে ঘাবড়ানোর কিছু নেই... এর মধ্যে অর্ধেক সংখ্যকই হয় শখ করে দিচ্ছে, কিংবা দেখার জন্য দিচ্ছে কিংবা প্রস্তুতি তেমন না নিয়েই দিচ্ছে।

বাকি দুই লক্ষের মধ্যে এক লক্ষজন হয়তো ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিবে। এর মধ্যে কিছু সংখ্যক থাকবে যারা ফরম ফিলআপ করেছে, কিন্তু পরীক্ষায় বসবে না।

ফানেল প্রক্রিয়ায় ছাঁকিয়ে দেখলে, মূল প্রতিযোগিতা হবে মোটামুটি আশি- নব্বই হাজার জনের মধ্যে। আর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এক নম্বর সরকারি চাকুরীতে ঢুকার প্রতিযোগিতা হিসেবে এই সংখ্যাটা তেমন বেশি না।

টেকনিক্যাল ক্যাডারদের ক্ষেত্রে তো প্রতিযোগিদের সংখ্যা আরো কম। তাই যেসব ডাক্তাররা হু হতাশ করছেন সংখ্যা দেখে, হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

সবচেয়ে বড় কথা হল, প্রিলির মার্ক যোগ হয় না। এখানে শুধু উতরে যেতে হয়। তাই, কতজন পরীক্ষা দিচ্ছে, সেদিকে না চিন্তা করে প্রথম চিন্তা করা উচিত "আমাকে প্রিলিতে টিকে যেতে হবে।"

এই চিন্তা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করুন, দেখবেন অনেক সহজ মনে হবে।

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহও যদি পরীক্ষার সম্ভাব্য দিন ধরা হয়, এ জন্য হাতে সময় আছে মোটামুটি কমপক্ষে ৭০ দিন অর্থাৎ ১৬৮০ ঘণ্টা।

পরীক্ষা হবে দশটি বিষয়ের উপর। সেক্ষেত্রে গড়ে সময় একেকটা বিষয়ে সাতদিন।

বিষয়গুলোর মধ্যে হাই রিডিং কন্টেন্ট অর্থাৎ যে বিষয়গুলোতে পড়া বেশি, যেমন- বাংলা, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, সাধারণ বিজ্ঞান- এগুলোতে একটু সময় লাগে পড়তে।

আবার লো রিডিং কন্টেন্ট বিষয়গুলো যেমন- ইংরেজি, গাণিতিক যুক্তি, মানসিক দক্ষতা, কম্পিউটার, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন- এগুলোতে সময় কম লাগবে।

যারা ইংরেজি গ্রামার, বাংলা ব্যকরন ও বেসিক গণিতে আগে থেকেই মোটামুটি ভাল, তাদের জন্য এই বিষয়গুলোতে সময় আরো কম দেয়া লাগবে।

এবার আরেকটু কনডেন্স করা যাক বিষয়গুলোকে।

গাণিতিক যুক্তি, মানসিক দক্ষতা এবং নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন- কাছাকাছি হওয়াতে এই তিনটি বিষয় মিলে একটি বিষয়,

সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং ভূগোল, পরিবেশ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা- কাছাকাছি হওয়াতে এই তিনটি বিষয় মিলে একটি বিষয়...

এভাবে হিসেব করলে, মোট বিষয় হয় ছয়টি। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি বিষয়ে তাহলে পড়ার সময় থাকবে গড়ে প্রায় ১২ দিন।

এক নাগাড়ে পড়তে পারলে, একটা বিষয়ের জন্য বারদিন যথেষ্ট সময়। এছাড়া, পূর্বের প্রস্তুতি তো আছেই।

অতএব, যারা এখনো তেমন শুরু করে নি কিংবা কিছুদিন হল পড়া শুরু করেছে, "সময় শেষ হয়ে গেছে বা হাতে সময় কম" ভেবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

So, Just start now... And time will lead you automatically to the end.

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ





নিউক্লিয়ার মেডিসিন ফ্যাক্ট

নিউক্লিয়ার মেডিসিন ফ্যাক্ট

২৭ জুলাই, ২০১৭ ০৫:৫৮


শর্টকাটে বিসিএস...

শর্টকাটে বিসিএস...

২২ জুলাই, ২০১৭ ১২:১৩






অপুষ্টির শিকার রোহিঙ্গা নারী ও শিশু

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১২:১৭







৬১ তম সিএমসি-ডে পালিত

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৬:২৮





















মেডিকেলীয় অফলাইন

১৯ অগাস্ট, ২০১৭ ১৫:১২



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর