১৩ অগাস্ট, ২০১৭ ০৮:২০ পিএম

স্বাস্থ্যখাতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ

স্বাস্থ্যখাতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ

বাংলাদেশে দগ্ধরোগীর চিকিত্সা সুবিধা এখনও অপ্রতুল। প্রতি বত্সর গড়ে ৯ লক্ষাধিক মানুষ আমাদের দেশে বিদ্যুত্স্পৃষ্টে, অগ্নিকাণ্ডে, রাসায়নিক ও তরল জাতীয় দাহ্যপদার্থে দগ্ধ হইয়া থাকেন। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের বহির্বিভাগে প্রায় ৩৫ হাজার ও ইনডোরে প্রায় ছয় হাজার রোগী চিকিত্সাসেবা গ্রহণ করেন। এইসব দগ্ধরোগীর চিকিত্সার জন্য দেড় হাজার বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের প্রয়োজন হইলেও আছেন মাত্র ৬৯ জন। এই পরিসংখ্যান বলিয়া দিতেছে দেশে দগ্ধরোগীদের বিদ্যমান পরিস্থিতি কতটা নাজুক। তবে আশার কথা হইল, ৫২২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বিশ্বের সর্ববৃহত্ বার্ন চিকিত্সাকেন্দ্র নির্মিত হইতেছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সন্নিকটে, চাঁনখারপুলে। ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত এই হাসপাতালটির নাম শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। উন্নত চিকিত্সাসেবার পাশাপাশি এখান হইতে প্রশিক্ষিত হইবেন বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকও। গত বত্সর ইহার নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং আগামী বত্সর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ ইহার নির্মাণ সম্পন্ন হইবে বলিয়া আশা করা হইতেছে।

 বিশ্বমানের ও বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই বার্ন ইনস্টিটিউট নির্মাণের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। ইহা আমাদের জন্য সৌভাগ্যজনকও বটে। ১৭ তলা ভিতের ওপর গড়িয়া তোলা ১১ তলাবিশিষ্ট এই প্রতিষ্ঠানে ৪০টি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ), ৬০টি হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) ও ১২টি অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি-সমৃদ্ধ অপারেশন থিয়েটার থাকিবে। ইহাছাড়া চিকিত্সক শিক্ষার্থীদের জন্য থাকিবে স্কিল ল্যাব, ক্লাসরুম, কনফারেন্স রুম, উন্নতমানের ডায়াগনস্টিক ল্যাব ইত্যাদি। এই সংক্রান্ত বাংলাদেশের চিকিত্সক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দিতেছেন সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিত্সক ও নার্সরা। তাহাদের আন্তর্জাতিক মানের সেবা দেওয়ার উপযুক্ত করিয়া গড়িয়া তোলা হইতেছে, যাহা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। ২০১০ সালের ৩ জুন পুরাতন ঢাকার নিমতলীর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড (যাহাতে নিহত হয় ১২৭ জন) ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করিয়া পেট্রোল-বোমা সন্ত্রাসের প্রেক্ষিতে বৃহত্ পরিসরে বার্ন ও সার্জারি ইনস্টিটিউট গড়িয়া তোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ইহাতে দগ্ধরোগীদের চিকিত্সার দুরবস্থার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তাহার নির্দেশনায় ঢাকার বাহিরে চট্টগ্রাম, রংপুর, কুমিল্লা, সিলেট ও বরিশাল বিভাগেও চালু হয় বার্ন ইউনিট।

যেহেতু পোড়া রোগীদের মধ্যে ৯৮ ভাগেরই প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হয় এবং তাহাদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা দরকার, তাই এই ধরনের একটি পূর্ণাঙ্গ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হাসপাতাল নির্মাণ একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। তাহাদের এই চিকিত্সা অত্যন্ত ব্যয়বহুলও বটে। তবে আশার কথা হইল, নূতন এই প্রতিষ্ঠানে রোগীদের চিকিত্সা ও সার্জারি করা হইবে বিনামূল্যে। শুধু পোড়া রোগীই নহে, এখানে চিকিত্সাসেবা পাইবেন ক্যানসার, এসিড সন্ত্রাসের শিকার হওয়া, দুর্ঘটনায় আহত, জন্মগত ত্রুটি নিয়া আক্রান্ত ও কলকারখানায় আহত রোগীরাও। অতএব, এমন একটি মহতী উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।

সূত্র: ইত্তেফাক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত