১২ অগাস্ট, ২০১৭ ০৩:৩০ পিএম

মেডিকেল বর্জ্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে

মেডিকেল বর্জ্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে

বড় শহরগুলোর জন্য মেডিকেল বর্জ্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। ভবিষ্যতের চিন্তা করে প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা গ্রহণের এখনই সময়। কারণ ক্লিনিক্যাল বর্জ্য থেকে বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন হয়। এ থেকে লোকজন ক্যান্সারসহ নানাবিধ মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে। ‘মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত সেমিনারে নগর পরিকল্পনাবিদেরা এই মতামত দিয়েছেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সেমিনারে উত্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, সিলেটে প্রতিদিন মেডিকেল বর্জ্য উৎপন্ন হয় ২০ মেট্রিক টন। এ বর্জ্য ফেলা হয় নগরী থেকে ৮ কিলোমিটার দূরবর্তী নগরীর পারাইরচকে। সেখানে সাধারণ বর্জ্য ও মেডিকেল বর্জ্য একই স্থানে বর্জ্য ফেলা হয়ে থাকে। এতে রোগজীবাণু ছড়াচ্ছে। দূষিত পরিবেশে হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। সেইসঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) কর্তৃপক্ষকে। 

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষজ্ঞ প্যানেল সদস্য হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহাম্মদ আলমগীর, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে মোমেন, রিকারসন টেকনোলজির উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. আসাব উদ্দিন,কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমান, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ মনোয়ার হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও বিএমএ’র মহাসচিব ইহতেশামুল হক চৌধুরীসহ নগর বিশেষজ্ঞরা।

 

অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বলেন, বর্জ্য নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি হবে একটি মহৎ উদ্দেশ্য। বিষয়টি সিলেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সিলেটে বিশেষত্ব দুটি—পর্যটন ও হেলথ সার্ভিস। এত ক্লিনিক বোধ হয় দেশের অন্য কোথাও নেই। হাসপাতাল অনেকগুলো। হোটেল আছে প্রায় চার হাজার। মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সংবেদনশীল বিষয়। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় ক্লিনিক্যাল বর্জ্য অপসারণের আলাদা ব্যবস্থা নেই। সিলেটকে দূষণমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি মেডিকেল বর্জ্যরে আলাদা ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেন। এ জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, ময়লা অপসারণের জন্য নগরীতে ৬০৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। বর্জ্য অপসারণের জন্য নিয়োজিত রয়েছে ৪৮টি ট্রাক ও ৭২টি হাতাবিহীন গাড়ি। এছাড়া মেডিকেল বর্জ্য অপসারণ করা হয় তিনটি পৃথক রঙের ব্যাগে করে। 

তিনি জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে নগরীতে চারটি স্যানিটারি ল্যান্ডফিল স্থাপন হচ্ছে। এর মধ্যে তিনটির কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি একটির কাজও শিগগিরই শেষ হবে। এ চারটি ল্যান্ডফিল পুরোপুরি চালু করা গেলে নগরীতে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলতে হবে না বলে জানান নূর আজিজুর রহমান। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও বিএমএ’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটের মেডিকেল কলেজ ও ক্লিনিকগুলো থেকে মূলত সলিড (শক্ত) এবং লিকুইড এ দুই ধরনের ময়লা উৎপন্ন হয়। অটোক্লিনিংয়ের মাধ্যমে সলিড ময়লা অপসারণ করা হলেও লিকুইড ময়লা অপসারণ বেশ জটিল ও ব্যয়বহুল। এ ধরনের ময়লা অপসারণে ব্যাপক জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেন এ চিকিৎসক নেতা।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত