যোবায়ের মাহমুদ

যোবায়ের মাহমুদ

শিক্ষার্থী, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ। 


১১ অগাস্ট, ২০১৭ ১১:০৩ পিএম

ওপার বাংলার নায়ক : করিমুল হক

ওপার বাংলার নায়ক : করিমুল হক

মা কষ্টে ছটফট করছেন। বুক জুড়ে তার অসহ্য ব্যথা। কাঁদছেন তিনি। আচ্ছা, মায়ের শেষ সময় কি তবে এসেই গেল?

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ তার কাছের মানুষের অসুস্থতার সময়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তার সবটুকু সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করে মানুষটাকে সুস্থ্য করে তোলার। করিমুলের এসব কিছুই ছিলো না। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষদের ওসব থাকেও না। মায়ের শেষ সময়ে করিমুলের শুধু মনে হলো, আমার যদি একটা কিছু থাকতো! আমি যদি মাকে একটাবার শুধু হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারতাম!

কিন্তু করিমুল পারে নি। ঢালাবাড়ি নামে পশ্চিমবঙ্গের যে গ্রামটাতে করিমুল থাকে, সেখানে আশেপাশে না আছে কোন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, না পাওয়া যায় কোন অ্যাম্বুলেন্স! চোখের সামনে মা মারা গেলেন বিনা চিকিৎসায়।

করিমুল শোকের অশ্রু মুছে ঠিক করলেন, এভাবে আর কোন প্রাণ বিনা চিকিৎসায় তিনি হারিয়ে যেতে দেবেন না। একটা সংস্থা থেকে ঋণ নিলেন মোটরসাইকেল কেনার জন্য। কিনলেনও।

যত্ন করে সে টিভিএস মোটর সাইকেলের সামনে ইংরেজিতে লেখা হলো, 'AMBULANCE'. লোনের টাকা দিয়ে কেনা করিমুলের ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স! এরপর থেকে ঢালাবাড়ির আশেপাশের কোন গ্রামে কারো কোন সমস্যা হলেই করিমুল ছুটে গিয়েছেন তার বাইক অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে। একটা ওড়না বা কাপড়ের টুকরো দিয়ে নিজের পিঠের সাথে বেধে নিয়ে গিয়েছেন হাসপাতালে অজস্র মানুষকে।

এলাকার লোকজন তাকে জানেন খোদার এক অনন্য উপহার হিসেবে। চা বাগানের শ্রমিক করিমুল হক তার চাকরির বাইরের সময়টুকু পুরোটাই দেন অসহায় গ্রামবাসীর সহযোগীতার জন্য। রোদ-বৃষ্টি-ঝড়- রাত্রি কোনকিছুই তার সামনে বাধা নয়। ভালবেসে সবার ডাকে যেমন তিনি ছুটে যান, ভালবেসেই সবাই তাকে ডাকে 'অ্যাম্বুলেন্স দাদা' বলে। 

ক্ষুদ্র বেতনের অর্ধেকেরও বেশি টাকা তিনি ব্যয় করেন মোটরসাইকেলের পেট্রোল আর রোগীদের জন্য ঔষধ কেনার জন্য। কখনো কখনো বন্যায় পুরো অঞ্চল ভেসে যায় পানিতে। করিমুল তখন তার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে কিছু করতে পারেন না। কাজেই তিনি ঠিক করলেন আপতকালীন সময়ে জরুরি চিকিৎসা অথবা ইনজেকশন পুশ করা তাকে শিখতে হবে। শিখলেনও। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জরুরি ড্রেসিং এবং প্রাথমিক চিকিৎসা করিমুল নিজেই দিয়ে থাকেন।

বাজাজ কোম্পানী তার এ চেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে একটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা V15 মোটরসাইকেল তাকে দিয়েছে, যার সাথে আসলেই রোগী পরিবহনের জন্য একটি ক্যারিয়ার রয়েছে। করিমুল এখন আগের চেয়ে সহজে রোগীদের আনা-নেওয়া করতে পারেন। তার ভাষায়,
'আমি কোন কিছুর জন্যই অভিযোগ করি না। যা আমি করছি, সেটা ভালবেসেই করছি। তবে কখনো কখনো আমার জন্য ব্যয়ভার সামলানো কঠিন হয়ে যায়, তবু আমার আশেপাশে অনেক মানুষ আছেন যারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে আমাকে সাহায্য করেছেন'।

ভাবছেন, গল্প বলছি?

হ্যাঁ,আপনিই সঠিক, গল্প বলছি একজন অসাধারণ মানুষের, যাকে ভারত সরকার এ বছর তাদের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মাননা 'পদ্মশ্রী পদকে' ভূষিত করেছে।

নিজের ভেতরেও কিছু করার স্পৃহা জাগে এমন মানুষদের কথা জানলে। এদের কথা ভাবলে। সম্পূর্ণ প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কিভাবে লড়ে যাচ্ছেন! স্যালুট টু ইউ, করিমুল হক। স্যালুট।

বাংলাদেশের এমন কোন অঞ্চল খুব সম্ভবত নেই, যেখানে দরকার হলে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাবে না। জানি আমাদের এই উন্নয়নশীল দেশে সব জিনিসেরই হাহাকার। যত আমাদের রোগী, তত রোগীকে সাপোর্ট দেবার ব্যবস্থা হয়তো আমাদের নেই। আমাদের ইমার্জেন্সী ব্যবস্থা খুব উন্নত নয়। আমাদের ইনডোর ম্যানেজমেন্টও হয়তো ভালো না।
কিন্তু দিন শেষে এই বাংলাদেশ তো আমাদেরই, নাকি?

এ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত হোক, বিশ্বমানের হোক । মেধাবী ছাত্রেরা আরও বেশি বেশি আসুক এ পেশায়। ডাক্তারদের সব অচলাবস্থা নিরসন হয়ে যাক ; এর সবগুলোই আমাদের প্রাণের দাবি। কিন্তু আমরা আসলে কতটুকু সেবার মানসিকতা মনের মধ্যে ধারণ করছি, এটাও কিন্তু একটা প্রশ্ন হতে পারে। এবং সেই প্রশ্নটা অবশ্যই ফেলনা নয়।

লাল-সবুজের এই আমাদের বাংলাদেশে আমরাও আমাদের জায়গা থেকে একেকজন 'করিমুল হক' হয়ে যাই। নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চটুকু দেবার শপথ করি। 
পারবো না?

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা

অতিরিক্ত বেতন নিচ্ছে একাধিক বেসরকারি মেডিকেল

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না