ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী

ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী

মেডিকেল অফিসার, রেডিওলোজি এন্ড ইমেজিং ডিপার্টমেন্ট,

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।


০৮ অগাস্ট, ২০১৭ ১০:৩৮

ডাক্তারের গায়ে হাত দেয়ার দিন শেষ

ডাক্তারের গায়ে হাত দেয়ার দিন শেষ

আপনি যে ধর্ম বর্ন পেশা বা গোত্রের ই হোন। এটা আপনার জন্য বার্তা।

ডাক্তারগন সৃষ্টিকর্তা না। আমরা কেবল আমাদের চিকিৎসা বিষয়ক শিক্ষা থেকে অর্জিত জ্ঞান দ্বারা আপনাদের সুস্থ রাখার চেষ্টা করি। রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারি। কখন ও জয়ী হই কখন ও হেরে যাই। কিন্তু মৃত্যুদূতের বিরুদ্ধে লড়াই করে জিততে পারি না।
কারো মৃত্যুর দ্বায়ভার ডাক্তারের না।

শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বহির্বিভাগের আর পি শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ পনিরের উপর কর্তব্যরত অবস্থায় এই হাসপাতালের ই কর্মরত নার্স এলিজা এবং তার স্বামী শাহআলম কর্তৃক অভদ্রতা, অসদাচরন, গালাগালি এবং শারিরীক নির্যাতনের ফলশ্রুতিতে

# ঘটনার অল্প সময়ের মাঝেই বাইরের রুগী এবং এম আর-দের কর্তৃক গনধোলাইয়ের শিকার হয় শাহআলম।

# মজার ব্যাপার ডাক্তাররাই এসে ওকে উদ্ধার করে।

# থানাতে ইনফর্ম করা হয়। পুলিশ আসে। পরিচালকের রুমে ডাক্তারদের বিক্ষোভ। এলিজা এবং তার স্বামী এরেষ্ট হয়।

# শিশুপুত্রকে নিয়ে থানাতে এলিজা এবং তার স্বামী। সেই ডাক্তারদের অভিভাবক পরিচালক স্যারের অনুরোধে এলিজা বাচ্চা-সহ হাসপাতালে আসার অনুমতি পায়। শিশু বিভাগের পনির ভাইয়ের কলিগদের চিকিৎসায়ই সুস্থ হয়ে ওঠে ওদের সন্তান।

# মাননীয় এমপির উপস্থিতিতে নার্সিং সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এই অন্যায় নেক্কার জনক প্রমানিত হয়। আলোচনা, উত্তেজনা এবং চিকিৎসকদের একতা, দৃঢ়তা এবং সহনশীলতার মুখে মামলা দায়ের হয়।

# আদালতে জামিন আবেদন করে আসামী এলিজা ও শাহআলম পক্ষের উকিল। জামিন নামঞ্জুর করেন বিচারক এবং তারা উর্ধতন কর্মকর্তার সাথে এই আচরনকে অত্যন্ত ঘৃন্য বলে আখ্যা দেন।

# হাজতে আছেন নার্স এলিজা এবং শাহআলম। 

# এমাতবস্থায় হাজতে থাকা অবস্থায় রিমান্ড মঞ্জুর, নির্দিষ্ট হাজত বাস আর সাথে সাসপেনশন !!!!!

# মনে রাখবেন, এই দেশে ডাক্তারকে অপমান করার দিন শেষ। ডাক্তারের গায়ে হাত দেয়ার দিন শেষ।

# মামলার সমগ্র ব্যায়ভার বহন করছে বরিশাল বিএমএ।

# পনির ভাইয়ের এই দুর্ঘটনায় সাক্ষী শেবাচিমের সকল চিকিৎসকগন।

# আসামী নার্স বলেই আমরা এতটা মানবতা এবং সহনশীলতা দেখিয়েছি। অন্য পেশার হলে আরো কঠিন হতাম আমরা।

# তাই প্রিয় চিকিৎসকগন একতাবদ্ধ থাকুন। সাহস রাখুন। নিজেদের কর্মস্থলকে নিরাপদ করার এই মহান এবং গুরু দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে দিন।

আর কোন কম্প্রোমাইজ নয়। সেন্ট্রাল হাসপাতালে আমার ভাইয়ের রক্ত ঝরেছে। বিচার পাওয়ার শক্তি আমাদের অর্জন করতে হবে।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত