ডা. তারিক আলম অনি

ডা. তারিক আলম অনি

রেজিস্ট্রার
ডিপার্টমেন্ট- এক্সিডেন্ট এন্ড ইমার্জেন্সী, 
গ্ল্যাডস্টোন হাসপাতাল। 
সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া।


০৫ অগাস্ট, ২০১৭ ১১:৩৯ এএম

নিজেকে দিল্লীর বাদশাহ সম্রাট আকবরের মতো লাগছে

নিজেকে দিল্লীর বাদশাহ সম্রাট আকবরের মতো লাগছে

গ্ল্যাডস্টোন হাসপাতাল একটি চমৎকার হাসপাতাল। রাতে দুইজন ইমারজেন্সীর রেজিস্ট্রার এর উপর পুরো হাসপাতালের সব রোগীর দায়িত্ব থাকে। বাকী সবাই নাকে এলকোহল ঢেলে ঘুমান। আজ আমার সহকর্মী রেজিস্ট্রার এর স্ত্রীর আ্যপেনডিক্স অপারেশন হয়েছে এবং সহকর্মী গত তিনরাত না ঘুমিয়ে নিজেই কাত। তাই আমি একা পড়েছি, অন্য কাউকে ম্যানেজ করা যায়নি। 

এর মধ্যে ৯০ কিলোমিটার দুরের বিলোইলা হাসপাতালের ডিরেক্টর ফোন করে জানালো তারা "আউট অব ডক্টর"। আমি যেন কভার করি। তারা তাদের আশেপাশের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসকে ফোনে জানিয়ে রেখেছে সরাসরি যেন আমার হাসাপাতালে রোগী নিয়ে আসে এবং আমার হাসাপাতেলের ডিরেক্টরের ও অনুমতি নিয়ে রেখেছে (অর্থাৎ আমার না করার কোন উপায় নেই)। যদি তাদের ভর্তি কোন রোগী খুব খারাপ হয়ে যায় তাহলে আমাকে ফোন করবে। আর খুব খুব বেশি খারাপ হলে এয়ারওয়ে ম্যানেজ করতে হলে আমাকে হেলিকপ্টারে ফ্লাই করতে হতে পারে।

এর মধ্যে আমার নিজ হাসপাতালের আই সি ইউ ভর্তি রোগী যার মধ্যে তিনটাই ভেন্টিলেটরে, ওয়ার্ডে দুইটা বাচ্চা খারাপ, ম্যাটারনিটি তে এক মহিলা ডেলিভারির পর ব্লিডিং থেমেছিল, আবার নাকি হাল্কা শুরু হয়েছে (আমি মনে মনে ভাগ্যকে গালি দিচ্ছি)। এর মধ্যে ইমার্জেন্সীতে একটা হার্ট এটাক আর দুইটা বাচ্চা অ্যাজমার শ্বাসকষ্ট নিয়ে এসেছে। আমি হার্ট এটাক আর বাচ্চা নিয়ে ব্যস্ত। পাঁচ ছয়জন ইমার্জেন্সীর ভিতর চিকিত্সা পাচ্ছে। ওগুলো রিভিউ ফলোআপ করতে হবে। বাকী পাঁচ-ছয়জন রোগী ওয়েটিং রুমে এখনও দেখাই হয়নি। ওগুলা কি জানিও না। ওয়েটিং রুমের লিস্ট অলরেডী লম্বা হতে শুরু করেছে। এর মধ্যে মেন্টাল হেল্থ আর পুলিশ কেস ও দেখলাম!

এর মধ্যে নার্স কোওর্ডিনেটর শ্যারন আমাকে জানালো, "তারিক, আজ অন কল এ সিনিয়র কেউ নেই! হয় জুনিয়র না হয় সরাসরি কনসালটেন্ট। তুমি এই মুহুর্তে সেন্ট্রাল কুইন্সেল্যান্ডের মোটামুটি ২০ হাজার বর্গমাইল এলাকা একা কাভার করছো। জুনিয়র কাউকে কল করবো?"

কল করা উচিত। একা রিস্কি হয়ে যাবে। থিরি (জুনিয়র ডাক্তার) কে ডাকতে বললাম। বার্মিজ মেয়ে। প্রচন্ড কর্মঠ আর রেসপন্সিবল একজন ডাক্তার। নার্স কল করতে বসলো।

হঠাৎ একমুহূর্ত ভাবলাম। বিশাল রাজ্য আমার। পুরো হাসপাতালের শখানেক রোগী, ছয়জন ইমারজেন্সী নার্স, আরও দশজন ওয়ার্ড নার্স, চারজন সিকিউরিটি, আর কিছু হাসপাতাল স্টাফ। বাইরে এম্বুলেন্স হেলিকপ্টার হাতিয়ার রেডি। একজন জুনিয়র ডাক্তার- থিরি। আমার একমাত্র সেনাপতি। নিজেকে দিল্লীর বাদশাহ সম্রাট আকবরের মতো লাগছে।

সকাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াতে প্রাকটিস করার লাইসেন্সটা বাঁচিয়ে সহি সালামতে বাসায় যেতে পারলে হয় !!

পুনশ্চ: মহাবীর থিরি কে নিয়ে কালরাত্রি পার হয়েছে। যে রোগী একটু খারাপ মনে হয়েছে সেটাই ভর্তি দিয়েছি। থাকো হাসপাতালে। রোগী মহাখুশি। সকালের ডাক্তার আমাদের উপর বিরক্ত হওয়ার কথা, তার কাজ বাড়িয়েছি। হলো হোক ! কে কেয়ার করছে!!

সকালে বের হওয়ার সময় থিরি বললো, "তারিক ওয়ান থিং আই লাইক ইন ইউ। ইউ ডোন্ট হেসিটেট টু মেক ডিসিশনস এন্ড ইউ মেক ডিসিশনস ভেরী কুইক"। আমি মনে মনে বললাম, "ছেমড়ি চুপ থাক, আমি যে কত ভয়ে ভয়ে ডিসিশন দিসি তা আমি না জানি !!"

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে