ঢাকা      রবিবার ১৮, অগাস্ট ২০১৯ - ৩, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল কেইস হওয়ারই কথা না : বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক

মেডিভয়েস ডেস্ক: ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কোন ক্রিমিনাল কেইস (অপরাধমূলক মামলা) হওয়ারই কথা না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক।

তাঁর মতে রোগীর ক্ষতি হবে এমনটা জেনে কোন ডাক্তারের এমন কাজ করার প্রশ্নই ওঠে না। ১৬ কোটি লোকের দেশে আমরা সবচেয়ে কৃতজ্ঞ এই ডাক্তারদের কাছে। অসুখ বিসুখ কিছু হলেই আমরা ছুটে যাই তাদের কাছেই।

শনিবার সোসাইটি অব সার্জনস বাংলাদেশ (এসওএসবি) চট্টগ্রাম শাখার আয়োজনে কারেন্ট রিলেশনশিপ বিটুইন সার্জনস এন্ড সোসাইটি শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

 

তিনি আরো বলেন, যদি কোন সার্জন, ডাক্তার কিংবা মেডিক্যাল ম্যানের কোনকাজ যদি অফেন্সের ডেফিনেশনের মধ্যে না আসে তাহলে তাকে কোনভাবেই ক্রিমিনাল কেসের আওতায় আনা যাবেনা।

কোন রোগীর সংক্ষুব্ধ আত্মীয়-স্বজন যদি কোন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করতে যান তাহলে বিদ্যমান আইনের আওতায় ওসি সাহেব যেটি করতে পারেন, সেটি হলো– অভিযুক্ত চিকিৎসককে একটি নোটিশ করতে পারেন।

বলতে পারেন, আপনি একটু থানায় আসেন। চিকিৎসকের বক্তব্যে তিনি সন্তুষ্ট হোন কিংবা না হোন ওসিসাহেব একটি মুচলেকা নিয়ে চিকিৎসককে ছেড়ে দিতে পারেন। মুচলেকায় বলতে পারেন, প্রয়োজন হলে ডাকলে একটু আসবেন। 

কিন্তু ওসি সাহেবরা এরকম করে না। কেন করেন না- সেটা আমার চেয়ে আপনারা আরো ভালো বলতে পারবেন।

 

এবিএম খায়রুল হক আরো বলেন, অভিযোগ জানানোর আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে, রোগীর আত্মীয় স্বজন সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন। 

ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব অভিযোগ পেলেই যে জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট ইস্যু করবেন, সেটা না। যিনি অভিযোগ করলেন তাকে এক্সামিন করতে হবে।

এরপর যদি ম্যাজিস্ট্রেটের মনে হয় সত্যিই চিকিৎসক রেগে গিয়ে রোগীকে ইচ্ছাকৃতভাবে খুন করেছেন। তাহলে তিনি সমনও জারি করতে পারেন কিংবা ওয়ারেন্টও ইস্যু করতে পারেন।

তাছাড়া কাউন্টেবল নেগলেজেন্সি হলেও চিকিৎসককে সেভাবেই দায়ী করা যেতে পারে। তবে আমি যতটুকু বুঝি, সাধারণভাবে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কোন ক্রিমিনাল কেইস হওয়ারই কথা না।

সাবেক এই প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, আমাদের নৈতিক মূল্যবোধ (এথিক্যাল ভ্যালু) সম্পর্কে চিন্তা করার সময় এসেছে।

 

ইন্স্যুরেন্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বে রোগীর ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে থাকে ইনস্টিটিউশনগুলো। ডাক্তারদের নিজেদের পয়সা খরচ করে ইন্স্যুরেন্স করা লাগে না। 

আমরা আমাদের আইনের ড্রাফটে (স্বাস্থ্যসেবা আইন ২০১৬) বলে দিয়েছি, সরকারি–বেসরকারী যেখানেই হোক সমস্ত ডাক্তারদের ইন্স্যুরেন্স করার দায়িত্ব হচ্ছে ইনস্টিটিউশনের। 

তবে কেউ যদি বাইরে চেম্বার করেন তবে সেই চিকিৎসককে নিজের ইন্স্যুরেন্স করে নিতে হবে।

 

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি অধ্যাপক এস এম আশরাফ আলী। সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক সানাউল্লাহ শেলী।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইন কমিশনের সদস্য ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির।

স্বাগত বক্তদব্য রাখেন সোসাইটির চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. শ্রীকান্ত বণিক।

 

ইংল্যান্ড আমেরিকার ডাক্তারদের মতো এখানকার ডাক্তারদের জন্যও গাইডলাইন অনুসরণের তাগিদ দিয়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, বিএমডিসি যদি গাইডলাইন করে থাকে তাহলে তো ভাল।

অন্যথায় একটি গাইড লাইনকরে তা ডাক্তারদের অনুসরণ করার ব্যবস্থা করে দিতে পারে।রুলস রেগুলেশন করতে পারে। 

ডাক্তারদের সুরক্ষার জন্য যে খসড়া আইন করা হয়েছে, সেটিও বিএমডিসি দেখে মতামত দিয়ে দ্রুত আইনটি পাস করায় সহায়তা করতে পারে। 

ডাক্তারদের সেফগার্ডের জন্যই এটা প্রয়োজন। নইলে কারো রোগী মারা গেলে তখন শুরু হয়ে যায় ব্লেইম গেম।কারণ তখন রোগীর স্বজনদের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। 

দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমার দেশের বিচার ব্যবস্থা এখনও এতো ফ্লারিশ করেনি যে চট করে বুকের জোর দিয়ে কেউ বলবে, ‘নো, দেয়ার ইজ নো কেস এগেইনস্ট ডক্টর’।

এটা বলার জন্য যে সাহসের দরকার সেটা এখন পর্যন্ত আমাদের জজ সাহেবদের হয়েছে বলে আমার মনে হয় না।

 

বিশেষ অতিথি বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির বলেন, স্বাস্থ্যসেবা আইন ২০১৬’র খসড়া তৈরি করে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। 

এই আইনটি বাস্তবায়িত হলে ডাক্তারদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। পেশাগত নিরাপত্তাবিধানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দায় নিয়ে ডাক্তারদের আর আদালতে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না।

 

সেমিনারের দ্বিতীয় পর্বে ডা. মো. নুর হোসাইন শাহীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বক্তব্যে প্যানেল আলোচক ছিলেন বিএমডিসির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ, বিসিপিএস-্এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া,

নগর পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার, দৈনিক পূর্বকোণ লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. রমিজ উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সেলিম মো. জাহাঙ্গীর,

বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ)’র প্রাক্তনসাধারণ সম্পাদক ডা. মো. শরীফ, এসওএসবি’র সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর মোস্তাক আহমেদ তুহিন, মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফখরুদ্দিন,

পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী। এছাড়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক খন্দকার এ কে আজাদ,  

বিএমএ, চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, বিএমএ চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. মনোয়ারুল হক শামীম, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জালাল উদ্দিন।

সবশেষে ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ওমর ফারুক ইউসুফ।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলের ডা. নাঈম আর নেই

ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলের ডা. নাঈম আর নেই

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ফিজিওলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ…

ডা. রেজাউল ইসলাম রেজা আর নেই

ডা. রেজাউল ইসলাম রেজা আর নেই

মেডিভয়েস রিপোর্ট: শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের অপথালমোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক…

চিকিৎসকদের জন্য বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

চিকিৎসকদের জন্য বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

মেডিভয়েস ডেস্ক: দেশের চিকিৎসা সেবাকে এগিয়ে নিতে সরকার সবধরনের উদ্যোগ নেবে বলে…

ফার্মেসি ব্যবসায়ীর পছন্দের ওষুধ না লেখায় চিকিৎসক লাঞ্ছিত

ফার্মেসি ব্যবসায়ীর পছন্দের ওষুধ না লেখায় চিকিৎসক লাঞ্ছিত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসক লাঞ্ছিত যেন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়তই হামলার…

ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজধানীতে এসে ডেঙ্গুতেই প্রাণ গেল স্বাস্থ্য সহকারীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজধানীতে এসে ডেঙ্গুতেই প্রাণ গেল স্বাস্থ্য সহকারীর

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি আদেশে ঢাকা এসে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন…

চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হসপিটালের ডা. মুহাম্মদ রফিক আর নেই

চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হসপিটালের ডা. মুহাম্মদ রফিক আর নেই

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রিয়জনদের সাথে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হলো না ডা.…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর