ডা. মাহবুবুর রহমান

ডা. মাহবুবুর রহমান

ইন্টার্ন চিকিৎসক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ


৩১ জুলাই, ২০১৭ ১০:২৩ পিএম

ডাক্তারের ভালোবাসায় সিক্ত রোগী

ডাক্তারের ভালোবাসায় সিক্ত রোগী

বন্ধুরা প্রায়ই মজা করে বলত “ তুই রোগী বাঁচলেও টাকা পাবি আর মারা গেলেও পাবি। বাঁচলে ভিজিট আর মারা গেলে জানাযা পড়ানোর হাদিয়া।"

আজকের ঘটনা অনেকটা সেরকমই।

Sepsis নিয়ে এক রোগী ভর্তি হইছে। গতকাল থেকেই রোগীর অবস্থা খারাপ। রোগীর আত্নীয়দের নেগেটিভ কাউন্সেলিংও করা হইছে। দুপুরের দিকে গেলাম নাকে নল ঢুকিয়ে NG Suction দিতে। গিয়ে দেখি রোগীর অবস্থা আরও খারাপ এবং আত্নীয়রা চারপাশ ঘিরে দোয়া-দুরুদ পড়ছে। আমি সবাইকে সরিয়ে দিয়ে নল হাতে নিলাম। ওমনি রোগীর বড় বোন আমার হাত ধরে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলল “ বাবা, তোমার মত আমারও একটা পোলা আছে মাদ্রাসায় পড়ে। এই রোগী এমনিতেই বাঁচবো না, শুধু শুধু নল ঢুকাইয়া কষ্ট দিয়া কী লাভ? তারচেয়ে তুমি আমার বইনেরে একটু 'তওবা' পড়াইয়া দাও। ” 

আমি যতবারই নল পড়াইতে যাই উনি ততবারই হাত টেনে ধরে 'তওবা' পড়ানোর অনুরোধ করে।

এদিকে ওয়ার্ডের সব রুগী, নার্স, আয়ারা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। প্রফেশনালিজম, ইমোশন আর বিশ্বাসের এক ত্রিমুখী দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম।

একটু চিন্তা করে রোগীর মাথায় হাত দিয়ে কালিমার তালক্বীন দিলাম। 

এপ্রোন পড়া, গলায় স্টেথো ঝুলানো একজন ডাক্তার অন ডিউটিতে রোগীর মাথায় হাত দিয়ে কালিমায়ে শাহাদাত পড়াচ্ছেন - এই দৃশ্য দেখে কে কী ভাবছে জানি না বাট আমার কেমন জানি একটা ভাললাগা কাজ করছে। 

কখনও কখনও বিশ্বাসের কাছে বাস্তবতা হার মেনে যায়।

রোগীর লোক অবশ্য ভীষণ খুশি হইছে। আমার মাথায় হাত বুলিয়ে অনেক দোয়া করছে। 

জানিনা রোগীটার এখন কী অবস্থা। কাল সকালে গিয়ে আদৌ পাব কিনা।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না