৩০ জুলাই, ২০১৭ ০৪:২১ পিএম

হেপাটাইটিস রোগের চিকিত্সা সুবিধা

হেপাটাইটিস রোগের চিকিত্সা সুবিধা

বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে গত শুক্রবার পালিত হইয়াছে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। দিবসটিতে এই রোগটি নির্মূলে নানা উদ্যোগ গ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়। এইক্ষেত্রে উদ্বেগজনক খবর হইল, হেপাটাইটিস বি ও সি-তে প্রতি বত্সর আক্রান্তের সংখ্যা বাড়িলেও তাহাদের জন্য আশানুরূপভাবে বাড়িতেছে না চিকিত্সা সুবিধা। এই দুই ভাইরাসে আক্রান্ত ৯০ ভাগেরও বেশি রোগী থাকিয়া যাইতেছে চিকিত্সার বাহিরে, যাহা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। ফলে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি বত্সর ২০ হাজার মানুষ হেপাটাইটিস রোগে মারা যাইতেছে। বিশ্বে এই সংখ্যা এক কোটি ৪০ লক্ষ। বলা হইতেছে, এই ধারা অব্যাহত থাকিলে ২০৩০ সাল নাগাদ হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হইয়া মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াইবে দুই কোটি। সুতরাং এই রোগ প্রতিরোধে সকলের সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।

হেপাটাইটিস হইল লিভারের প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সামপ্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৩২ কোাটি মানুষ ঘাতকব্যাধি হেপাটাইটিস বি ও সিতে আক্রান্ত। ২০০০ হইতে ২০১৪ সালে এই রোগে আক্রান্ত হইয়া মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাইয়াছে ২২ শতাংশ।  ফলে ইহা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক গুরুতর হুমকি। সাধারণত হেপাটাইটিসের লক্ষণ খুব বেশি স্পষ্ট হইয়া ধরা দেয় না। অথচ টাইপ বি ও সি হেপাটাইটিসের কারণে হইতে পারে লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সার। রোগটি সম্পর্কে সচেতনতার অভাব বিদ্যমান, যাহা আরও আতঙ্কজনক। যেমন—হেপাটাইটিস বি আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ তাহাদের সংক্রমণ সম্পর্কে জানেন। অন্যদিকে মাত্র ২০ ভাগ হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত ব্যক্তি এই ব্যাপারে সচেতন। এই সচেতনতার ক্ষেত্রে অগ্রগতি লাভ করিতে পারিলে এই রোগ দ্রুত ছড়াইয়া পড়িবার আশঙ্কা হ্রাস পাইবে।

সাধারণত ব্যবহূত সিরিঞ্জ বা সুঁই ও দূষিত রক্তের মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি ও সি এবং খাবার ও বিভিন্ন পানীয়র মাধ্যমে হেপাইটাইটিস এ ও ই ভাইরাস ছড়ায়। দেশে ২১ শতাংশ হেপাটাইটিস রোগ ছড়ায় নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালনের অভাবে। তাই স্বাস্থ্য সচেতনতা, বিশুদ্ধ খাবার পানীয়, নিরাপদ ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ ও নিরাপদ রক্ত ব্যবহার এবং হেপাটাইটিস এ ও বি ভাইরাসের ভ্যাকসিন ব্যবহারের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করিতে হইবে। পরিহার করিতে হইবে সব ঝুঁকিপূর্ণ ও অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক। বাংলাদেশে পাঁচ হইতে ছয় কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে সংক্রমিত এবং তাহারা লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সারে আক্রান্ত হইবার ঝুঁকিতে রহিয়াছেন। এই ঝুঁকি দূর করিতে সঠিক সময়ে তাহাদের চিকিত্সার ওপর গুরুত্ব দিতে হইবে। বিশ্বে হেপাটাইটিস রোগের সর্বোচ্চ চিকিত্সাব্যবস্থা হইতেছে লিভার প্রতিস্থাপন। ইহা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও লিভার প্রতিস্থপান সম্ভব হইবে বলিয়া আমরা আশা করি।

বর্তমানে বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের টিকা সুলভ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাইটাইটিস বি আক্রান্তদের ৯০ শতাংশ ও সি আক্রান্তদের ৮০ শতাংশের সঠিক রোগ নির্ণয় করা ও তাহাদের চিকিত্সার আওতায় আনিবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করিয়াছে। বাংলাদেশকে এই লক্ষ্যমাত্রার সহিত তাল মিলাইতে হইলে গ্রহণ করিতে হইবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ।

সূত্র: ইত্তেফাক

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত