৩০ জুলাই, ২০১৭ ১০:১২ এএম

বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকুনগুনিয়া রোগীদের চিকিৎসাসেবা: সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি দুটোই আছে

বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকুনগুনিয়া রোগীদের চিকিৎসাসেবা: সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি দুটোই আছে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) দেওয়া হটলাইনে যোগাযোগ করেছিলেন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগের জিল্লুর রহমান ও রাজিয়া রহমান। এরপর চিকিৎসক আসেন তাঁদের বাসায়। চিকিৎসক তাঁদের রক্তচাপ (ব্লাড প্রেশার) মাপেন ও প্যারাসিটামল খাওয়ার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া আর কোনো পরামর্শ দেননি চিকিৎসক। ডিএসসিসি থেকে পাওয়া এই সেবায় তাঁরা সন্তুষ্ট নন। ডিএসসিসির চিকিৎসক দেখে যাওয়ার পর অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় রাজিয়া রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জিল্লুর রহমান বলেন, হাসপাতাল থেকে যে পরামর্শ পেয়েছেন, তাতে তাঁরা উপকৃত হয়েছেন, এই পরামর্শ ডিএসসিসির চিকিৎসকেরা দেননি।

গোড়ানের শান্তিপুরের বাসিন্দা প্রশান্ত চিন্তাপাত্র পেশায় শিক্ষক। তিনি চিকুনগুনিয়ায় ভুগছিলেন। ডিএসসিসির হটলাইনে ২০ জুলাই ফোন করেছিলেন। তখন চিকিৎসকেরা তাঁর বাসায় আসতে চান। কিন্তু তিনি তাঁদের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে গোড়ানে ডিএসসিসির সেবাকেন্দ্রে যান।

প্রশান্ত চিন্তাপাত্র বলেন, এলাকার সেবাকেন্দ্রে যাওয়ার পর তাঁকে প্যারাসিটামল খেতে দেওয়া হয়। এ ছাড়া দেওয়া হয় পানিসহ তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ। তিনি বলেন, বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতজনদের যাঁদের চিকুনগুনিয়া হয়েছে, তাঁদের পরামর্শমতো একই চিকিৎসাই নিচ্ছিলেন। ডিএসসিসিও একই সেবা দিয়েছে। তারপরও সিটি করপোরেশন থেকে এ ধরনের সেবার উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি খুশি।

চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডিএসসিসির চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে পাওয়া গেল এমন মিশ্র প্রতিক্রিয়া। চিকিৎসাসেবার জন্য ডিএসসিসির হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করেছেন, এমন ব্যক্তিদের তালিকা থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে তিনজনকে নির্বাচিত করা হয়। এরপর তাঁদের সঙ্গে কথা বলে এই প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়।

ডিএসসিসির উদ্যোগে ২০ জুলাই থেকে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। ডিএসসিসির সূত্র জানায়, গত বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত ডিএসসিসির দেওয়া হটলাইন নম্বরে (০৯৬১১০০০৯৯৯) ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও ঢাকার আশপাশ থেকে ৬২ হাজার ১৮৭টি ফোনকল আসে। এর মধ্যে চিকুনগুনিয়ায় সংক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসাসেবার তথ্য জানতে ফোন করেছেন ৪১ হাজার ১১৬ জন। যাঁরা ফোন করেছেন, তাঁদের মধ্যে ৬ হাজার ৭৭৭ জন ডিএসসিসি এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা চেয়ে ফোন করেছেন ১ হাজার ৫৩৮ জন। টেলিফোনে ৬৭৫ জনকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, আর ৬৭৩ জনের বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা দিয়েছেন ডিএসসিসির চিকিৎসকেরা।

এদিকে ডিএসসিসির হটলাইনে যোগাযোগ করে সাড়া না পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

বংশালের মাজেদ সরদার রোডের বাসিন্দা শিরিন রহমান বলেন, তিনি চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে তাঁর ছেলে আবদুর রহিম ২০ জুলাই ডিএসসিসির দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করে। তখন বলা হয়, সেবা দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। সেবা দেওয়া শুরু হলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। কিন্তু ডিএসসিসির পক্ষ থেকে তাঁদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা হয়নি। পরে তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা নেন।

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, হটলাইন নম্বরে যত দিন পর্যন্ত চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ফোন আসবে, তত দিন পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দেওয়া হবে। তিনি জানান, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ব্যথা কমাতে ফিজিওথেরাপি সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।

ডিএসসিসির হটলাইনে যোগাযোগের পরও সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, কারিগরি কারণে এমনটি হতে পারে।

সৌজন্যে : প্রথম আলো

 

একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

অধ্যাপক প্রাণ গোপালকে বিজয়ী ঘোষণা করে রোববার বিজ্ঞপ্তি: রিটার্নিং কর্মকর্তা

একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

অধ্যাপক প্রাণ গোপালকে বিজয়ী ঘোষণা করে রোববার বিজ্ঞপ্তি: রিটার্নিং কর্মকর্তা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত