শনিবার ২৫, নভেম্বর ২০১৭ - ১১, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৪ - হিজরী



ডা. ফাতেমা তুজ জোহরা

শিক্ষার্থী, বিএসএমএমইউ


নিউক্লিয়ার মেডিসিন ফ্যাক্ট

যে বিষয়টা ভেবে নিউক্লিয়ার মেডিসিন সাবজেক্টে আমি এসেছিলাম সেটা আসলে সেরকম কিছুই না। কিন্তু আমি এক এলিয়েন সাবজেক্টের সাথে পরিচিত হয়েছি যার কোন বেসিক জ্ঞান আমি আমার পুরো MBBS লাইফে পাইনি।

ইনফ্যাক্ট পার্ট-১ এর সময় মাঝে মাঝে সন্দেহ লাগত যে আমি আসলেই ডাক্তারি সংক্রান্ত কোন পোস্ট গ্রাড কোর্সে আছি কিনা। আমার একাডেমিক বই কোন নিলক্ষেতের দোকানে পাওয়া যায় না। লাইব্রেরি থেকে সফট কপি দেয়। আমরা সেটা পরে হার্ড কপি বানিয়ে নেই।

এরপর হল কারিকুলাম। যেখানে মেডিকেলের কোন টার্ম নেই। আমার বাসার টেবিলে বই দেখে আব্বা প্রশ্ন করে, এসব পড়ে কী হবে! ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ, কম্পিউটার - এসব হল আমার পার্ট-১ এর সিলেবাস। তার উপর মাঝে মাঝেই সাভার এটমিক এনার্জি কমিশনে গিয়ে ক্লাস করা লাগত। যারা আবার ক্লাস নেন তারা বেশিরভাগ ম্যাথ, ফিজিক্স কিংবা কেমিস্ট্রি তে পি.এইচ.ডি করা পাবলিক।

পার্ট-১ এর পর যখন পার্ট-২ তে ঢুকলাম, তখন দেখলাম কারিকুলাম ১৮০ ডিগ্রি কোণে ঘুরে গেল। ভাগ্যিস ৩৬০ ডিগ্রি কোনে উল্টায় যায়নি! 

এই পার্টে এসে দেখি ক্লিনিক্যাল কারিকুলামের এক গভীর সমুদ্রে কে যেন ঠাস করে ফেলে দিল।

এই প্রথম উপলব্ধি করলাম, চারপাশে মেডিকেলীয় জ্ঞান কিন্তু কিছুই উদ্ধার করতে পারছি না। মেডিকেলীয় জ্ঞানকে উচ্চমাত্রার টেকনোলজিতে কনভার্ট করার যে প্রসেস সেটাই হল নিউক্লিয়ার মেডিসিন।

একেকটা রুমে বিশাল বিশাল ক্যামেরা সেট করা, সাথে হাই ফাই সফটওয়ার ইন্সটল করা। প্রতিটা রুমের আর্কিটেকচারটাই আলাদা। রোগী যেন কোনভাবে বোরিং ফিল না করে সেজন্য রুমের চারপাশে বিভিন্ন আকাশ-সমুদ্র-গাছ গাছালির ছবি দেয়ালে প্রিন্ট করা।

এরপর দেখি মাথা থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত এমন কোন সিস্টেম নাই যা তারা ওইসব ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলেনা। পার্ট-২ তে এসে পার্ট-১ এর মোজেজা তখন টের পেলাম। এইসব উন্নত প্রযুক্তি বুঝার জন্যই আমাদের ব্রেইনকে পার্ট-১ এ ধাতস্থ করা হয়েছে।খুব সহজেই বুঝতে পারছি কিভাবে গামা ক্যামেরা, সিন্টিগ্রাফি কিংবা পেট-সিটি মেশিন কিভাবে ছবি নিচ্ছে আর সেটাকে মেডিকেলীয় টার্মে আমরা ট্রান্সলেট করে ফেলতেছি।

এই এলিয়েন সাবজেক্টের প্রধান কাজ হলো তেজস্ক্রিয় কোন পদার্থ শরীরে ইনজেক্ট করা। ক্যামেরা দিয়ে সেই তেজস্ক্রিয় পদার্থ শরীরে কোথায় কোথায় যায়, কিভাবে যায় সেটা স্ক্যান করা হয়।

ব্যাপারটা আসলে জাস্ট উপরের তিন লাইনের কাজ। কিন্তু এই তিন লাইনকে সাইজে আনতে যত কাঠ-খড় পোড়াতে হয় সেটা চিন্তা করলে মাথা আউলা ঝাউলা হয়ে যাবে।

আমি কেবল ভাবি 'হেভেসি' র কথা যিনি এই নিউক্লিয়ার মেডিসিনের জনক। তারচেয়েও যার কথা ভেবে অবাক হই তিনি হলেন মাদাম কুরি এবং পিয়েরে কুরি। হতভম্ব হয়ে যাই এটমিক বোম্ব তৈরির কারিগর যারা তাদের ব্রেইনের ক্যাপাসিটি চিন্তা করে।

একটাই কথা তাদের উদ্দেশ্যে আমার বলতে ইচ্ছা হয়, " আপনারা কেমনে পেরেছিলেন এইসব চিন্তা করতে? " 

নিউক্লিয়ার মেডিসিনে না আসলে আমি যে জিনিসটা মিস করে যেতাম সেটা হল এই বিশাল বিশাল প্রযুক্তির জনকদের অপরিসীম অবদানের কথা। মিস করতাম কিভাবে অকর্মন্য ব্রেইনকে আমরা আগাছা দিয়ে ভরে ফেলতেছি। মিস করতাম পৃথিবীর একপ্রান্তের কিছু ব্রেইন যা প্রতিনিয়ত মানবতার কল্যাণে অবদান রাখার ইতিহাস তৈরিতে ব্যস্ত ছিল, আছে আর সেই মুহূর্তে আমরা কী কাজে ব্যস্ত।

সরকারীভাবে কোন এক ইনভেষ্টিগেশানের (পেট-সিটি স্ক্যান) খরচ যদি ৩০,০০০ টাকা হয়, সেই ইনভেষ্টিগেশানের ভ্যালু আমি বুঝতাম না, যদিনা এই সাবজেক্টে আসতাম। মিস করতাম এই দেশেও এত হাই প্রযুক্তি এত্ত সুন্দর ম্যানেজমেন্টে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। বুঝতে পারতাম না, এক অপার সম্ভাবনার দ্বার হাত ছানি দিচ্ছে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে, যেখান থেকে রোগীরা পাবে সর্বোচ্চ প্রত্যাশিত সার্ভিস। স্বপ্ন দেখি সেই সার্ভিসের পার্ট হতে এবং মানবতার কল্যানে অল্প কিছু হলেও করতে ইন শা আল্লাহ।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ



নন–ক্যাডারে ১৮০০ পদ শূন্য

নন–ক্যাডারে ১৮০০ পদ শূন্য

০৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১১:৪৯


রোড টু পিএইচডি-৩০: আমেরিকার জীবন

রোড টু পিএইচডি-৩০: আমেরিকার জীবন

৩০ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:২৮



রোড টু পিএইচডি-২৭: ভিসা কাহিনী

রোড টু পিএইচডি-২৭: ভিসা কাহিনী

২৭ অক্টোবর, ২০১৭ ১৮:৩২





বাড়িতে রক্তচাপ মাপেন?

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ১৫:১০

এপথাস আলসার কেন হয়?

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ১৪:২২





ডায়াবেটিসকে অবহেলা নয়

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:০৯

























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর