২৫ জুলাই, ২০১৭ ১২:৫৬ পিএম
মশা নিধনে ডিএসসিসির বরাদ্দ সাড়ে ২৫ কোটি টাকা

ঈদের ছুটিতে মশার বিস্তার ঘটেছে : বাজেট ঘোষণাকালে ডিএসসিসি মেয়র

ঈদের ছুটিতে মশার বিস্তার ঘটেছে : বাজেট ঘোষণাকালে ডিএসসিসি মেয়র

বিগত ঈদের ছুটির মধ্যে ঢাকায় চিকুনগুনিয়াবাহী মশার ব্যাপক বংশ বিস্তার ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। সোমবার ডিএসসিসির বাজেট ঘোষণার সময় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এবার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ডিএসসিসির বাজেটের আকার ৩ হাজার ৩৩৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

মেয়র বলেন, গত ঈদে ৯ দিনের লম্বা ছুটিতে ছিলেন ডিএসসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আবার অনেক বাসিন্দা বাসাবাড়ি তালা দিয়ে গ্রামের বাড়ি যান। হয়তো তাঁদের বাসার ভেতর বা বারান্দায় বিভিন্ন পাত্রে পানি জমে ছিল। এই পানি থেকে মশার জন্ম হয়েছে।

চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ কর্মসূচি সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, নগরবাসী এই চিকুনগুনিয়া জ্বর শব্দটির সঙ্গে পরিচিত ছিলেন না। গত মে মাসের প্রথম দিকে কিছু মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়। তখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরপর থেকেই মশক নিধনে জোরালো ভূমিকা পালন করে আসছে ডিএসসিসি। ঈদের ছুটির পর থেকে ব্যাপকভাবে নগরের প্রতিটি অলিগলিতে প্রতিদিন মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এ ছাড়া চিকুনগুনিয়া নিধনে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিএসসিসির সব দপ্তরের সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনিবার) বাতিল করা হয়েছে।

বাজেট ঘোষণা উপলক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সরবরাহ করা পুস্তিকায় দেখা যায়, প্রস্তাবিত বাজেটে মশক নিধনের বরাদ্দ ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মশা নিধন বাবদ বরাদ্দ ছিল ১৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আর প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। 

মশার ওষুধ ছিটানোর পরও কেন এর উপদ্রব না কমছে না? মশার ওষুধে ভেজাল মেশানো আছে কি না?—এমন প্রশ্নের জবাবে সাঈদ খোকন বলেন, নগরে প্রতিদিন সকাল-বিকেল দুই বেলা মশার ওষুধ ছিটানো হয়। কিন্তু অনেকেই বলেন, সকালে মশার ডিম নিধনে ছিটানো লার্ভিসাইডিংয়ে পানি মেশানো হয়, বিকেল ফগিং থেকে কেরোসিন তেলের গন্ধ আসে। অথচ ফগিংয়ে গড়ে ৯৪ ভাগই কেরোসিন তেল দিতে হয়। আর লার্ভিসাইডিংয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণে পানি মেশাতে হয়। এতে কোনো ভেজাল মেশানো হয় না।

নগরে গতকাল পর্যন্ত কতজন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন, এমন কোনো পরিসংখ্যান ডিএসসিসির কাছে নেই। তবে চিকুনগুনিয়া রোগীদের চিকিৎসাসেবায় গত ২০ জুলাই থেকে কল সেন্টার চালু করা হয়েছে। এর সঙ্গে ডিএসসিসির ২৮টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পাঁচটি নগর মাতৃসদন কেন্দ্র ও করপোরেশনের নিজস্ব দুটি হাসপাতাল এবং একটি মাতৃসদন থেকে বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবার অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে নগরীতে মশার উপদ্রব বেড়েছে। তবে চিকুনগুনিয়া রোগ প্রাণঘাতী না হলেও অনেক যন্ত্রণাদায়ক। তাই চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের কেউ ডিএসসিসির কল সেন্টারের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা চাইলে সংশ্লিষ্ট নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে চিকিৎসকেরা তাঁদের বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন। এই সেবা ও মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আগামী নয় দিনের মধ্যে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে আসবে। এ জন্য নগরবাসীকে আরও সচেতন হতে হবে।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত