ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী

ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী

মেডিকেল অফিসার, রেডিওলোজি এন্ড ইমেজিং ডিপার্টমেন্ট,

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।


২৩ জুলাই, ২০১৭ ১৫:১৫

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সমীপে বলতে চাই

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সমীপে বলতে চাই

নিজের পেশা বলে বলছি না, যাদের কর্মযজ্ঞ ভাবলে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে তারা বাংলাদেশের বিপুল বিশাল চিকিৎসক সমাজ। স্বল্প স্থাপনা,দক্ষ জনবলের অভাব, কিছু নন মেডিকেল পার্সনের দুর্নীতি উপেক্ষা করে ও এত্ত বিশাল পপুলেশনের একটা দেশের এত এত ছোঁয়াছে রোগ, সিজনাল রোগ, শিশুদের টিকা দান, অভাবজনিত রোগ, দুর্ঘটনা কবলিত অবস্থা! বাংলাদেশের ডাক্তারগন হাসিমুখে রোগ শোকের সাথে যুদ্ধ করে বাংলাদেশীদের মুখে হাসি ফোঁটাচ্ছেন, মৃত্যুকে জয় করে জীবন ফিরিয়ে দিচ্ছেন, বিনিময়ে তিরষ্কৃত ডাক্তারগন।

চিকিৎসা পেশায় এই সময়ে বিদ্যমান সমস্যা দূরীকরনে নিতে হবে সঠিক কর্মপরিকল্পনা। এর প্রনয়ন এবং বাস্তবায়নই এদেশের চিকিৎসকদের জীবন যাত্রার মান নিয়ন্ত্রন এবং চিকিৎসা পেশার মানোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবে।

# শূন্যপদে যোগ্যতার ভিত্তিতে নবীন চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে জুনিয়র চিকিৎসকদের বেকারত্ব দূরীকরন।

# গ্রেড ভিত্তিক পদ সৃষ্টি এবং পদসোপান তৈরী এবং বাস্তবায়ন।

# প্রতিটি চিকিৎসকের চাকুরীর জৈষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রশাসন এবং অন্য ক্যাডারের সাথে সমন্বয় রক্ষা পূর্বক পদোন্নতি প্রদান। নবম গ্রডে চাকুরীতে জয়েন করে নবম গ্রেড থেকেই অব নেয়ার দুর্ভাগ্য জনক ঘটনা যেন আর না ঘটে।

# এডহক ভিত্তিতে নিয়োগকৃত চিকিৎসকদের এনক্যাডারমেন্ট।

# যে সকল চিকিৎসকদের বেশীর ভাগ সময় হাসপাতালেই অবস্থান করতে হয়, এদের সরকারী বাসা ভাড়া কম করা।

# চিকিৎসকদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়া।

# চিকিৎসক গন অসুস্থ হলে বর্তমান সময়ে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। তাই চিকিৎসকগন সারা জীবন নিজেকে নিঃস্ব করে দেশ সেবা করে নিজে বা পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তাদের সেবার জন্য সিএমএইচ-এর মত বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মান এবং বেসরকারী হাসপাতাল গুলোতে স্বাস্থ্যসেবা নিতে সম্মানজনক ভাবে স্বল্প খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

# প্রতিটি হাসপাতালে প্রচুর নারী চিকিৎসক কাজ করেন। চিকিৎসকদের সন্তানরা যেহেতু পিতামাতার স্নেহ থেকে বঞ্চিত। তাই হাসপাতাল গুলোতে উন্নত ডে কেয়ার সিস্টেম চালু করা। যতে করে চিকৎসক পিতা মাতা সন্তানের সান্নিধ্যে তাদের সেবা প্রদান কার্যক্রম চালাতে পারে।

# সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টার অতিরিক্ত কর্ম ঘন্টা চিকিৎসককে কাজ করাতে হলে তাকে এজন্য আলাদা পে মেন্ট করতে হবে।

# অনারারী চিকিৎসকদের বেতন ভাতা দিতে হবে।

# উপজেলাতে কর্মরত চিকিৎসকদের যাতায়াত ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের নিজস্ব গাড়ী থাকতে হবে।

# প্রতিটি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শিক্ষামূলক ট্যুরের জন্য কলেজ বাস দিতে হবে।

# মেডিকেল কলেজের শিক্ষক এবং হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ন্যায় ব্রীজের টোল ফ্রি গাড়ী সার্ভিসের ব্যবস্থা করতে হবে।

# ঈদ বা পূজা পার্বনে ডিউটিরত চিকিৎসকদের পরবর্তীতে ছুটি প্রদান বা অতিরিক্ত ভাতাদি দিতে হবে।

# চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থল তৈরী করতে হবে। বাংলাদেশের কোন প্রান্তে কোন চিকিৎসক লাঞ্ছিত বা অসম্মানিত হলে অবশ্যই অপরাধী শাস্তি পাবে এবং অনাকাঙ্খিত অবস্থার প্রতিরোধে স্বাস্থ্য পুলিশ গঠন করতে হবে।

# দীর্ঘদিন ধরে এদেশে চিকিৎসদের প্রতি যে অবিচার হয়ে এসেছে তা একশত ভাগ বদলাতে হবে।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত