২২ জুলাই, ২০১৭ ১০:২৫ পিএম

চিকুনগুনিয়ায় চিকিৎসকের কাছে কখন যাবেন- অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

চিকুনগুনিয়ায় চিকিৎসকের কাছে কখন যাবেন- অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

৫ দিনের বেশি জ্বর থাকলে, শরীরে বেশি র‌্যাশ উঠলে, অস্থিসন্ধির তীব্র ব্যথা থাকলে, প্রেসার দ্রুত ওঠানামা করলে, প্রসাব অনেক কমে গেলে, শরীরের কোথাও রক্তপাত এবং মস্তিষ্কে সংক্রমণ হলে চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।

গিঁটে ব্যথা থাকলে করণীয় : অতিরিক্ত পরিশ্রম বা ভারী কাজ কম করা এবং বিশ্রামে থাকতে হবে। তবে হালকা সহনীয় ব্যায়াম করা ভালো। প্লাস্টিকের ব্যাগে ঠাণ্ডা বরফ কুচি দিয়ে সেঁক দিলে ব্যথা উপশম হয়। গরম সেঁকা পরিহার করতে হবে। হালকা মেসেজ এবং ফিজিওথেরাপি নেওয়া যেতে পারে। প্যারাসিটামাল খেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যথা নিরাময় হয়। অন্য ব্যথার ওষুধ যেমন-আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন কোনোক্রমেই চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়।

স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দেয়া যাবে কি :স্টেরয়েডের ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন দীর্ঘস্থায়ী এমনকি মারাত্মক ব্যথায় চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী শর্ট কোর্স স্টেরয়েড দেওয়া যেতে পারে।

ত্বকে র‌্যাশ হলে করণীয় : জ্বর কমে গেলে ২-৩ দিন পর এমনিতেই র‌্যাশ কমতে থাকে। অনেকের তীব্র চুলকানি এবং ত্বকের রং কালচে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অ্যান্টি হিস্টামিন, কেলামিন লোশন ব্যবহার করা যায়। তীব্র চুলকানি হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

অতিরিক্ত দুর্বলতায় করণীয় : অন্যান্য ভাইরাস জ্বরের মতো চিকুনগুনিয়াতেও শরীরের মেটাবলিক সিস্টেমে বিঘ্ন, শরীরে পুষ্টি ঘাটতি, শরীর দুর্বল এবং অনেকের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে নতুন অন্য অসুখ বা সেকেন্ডারি ইনফেকশনের সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রচুর তরল জাতীয় খাবার যেমন শরবত, ডাবের পানি, ফলের রস, ডাল, স্যুপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি রোগীকে স্বাভাবিক যে কোনো পুষ্টিকর খাবার দেয়া যাবে। ভিটামিন সি-যুক্ত ফল যেমন-কমলা, মাল্টা, লেবু, জাম্বুরা, আনারস ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করবে। তারপরও দুর্বলতা না কমলে চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি : বয়স্করা চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে যথেষ্ট ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে। যাদের ক্রনিক রোগ রয়েছে বিশেষ করে, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, হূদরোগ, ক্যান্সার, হাঁপানি ইত্যাদি। এদের চিকুনগুনিয়া হলে তারাই মূলত হাই রিস্কের মধ্যে থাকেন। বয়োবৃদ্ধদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। তাদের চিকুনগুনিয়া হলে গিরায় গিরায় যে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, তার ধকল সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও আলাদা চিকিত্সা নেই। তবুও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। তারা যেন শুধু প্যারাসিটামাল খেয়ে ঘরে শুয়ে না থাকেন।

লেখক : ডিন, মেডিসিন অনুষদ, অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।

সূত্র: ইত্তেফাক

আগের নিউজ
পরের নিউজ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে