শনিবার ২৫, নভেম্বর ২০১৭ - ১১, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৪ - হিজরী




শর্টকাটে বিসিএস...

এ জীবনে মোট তিনটা বিসিএস দেওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে... ৩৩ তম প্রিলি, লিখিত ও ভাইভা দিয়েছিলাম, ৩৪ তম প্রিলি ও লিখিত পাশ করে পরে আর ভাইভা দেইনি, আর ৩৫ তম প্রিলি পাশ করে লিখিত দেইনি...

তিনবার পরীক্ষা দেয়ার পেছনে কারণও ছিল... ক্যাডার পাল্টাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পরে এই চিন্তা থেকে পিছিয়ে আসি। অনেক হিসাব নিকাশ করে আর অন্যদের বাস্তব অবস্থা অবলোকন করে অবশেষে মনে হয়েছে স্বাস্থ্য ক্যাডারেই আমি ঢের ভাল আছি। যেই চাকুরীতেই যান না কেন, মনে রাখবেন দুনিয়ার কেউই চাকুরী নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। এটা নিয়ে আরেকদিন লিখব... সরাসরি মূল কথায় চলে যাই।

অনেকে আছে যাদের বিসিএস প্রস্তুতি বেশ অনেক দিনের... তাদের জন্য এই লেখা নয়। আবার অনেকে আছে যারা নতুন ও প্রস্তুতি স্বল্প দিনের, যাদের জন্য এই পোস্ট লেখা।

যারা স্বল্প সময়ে প্রস্তুতি নিতে চায়, তাদের জন্য মাত্র চারটা জিনিস সাজেস্ট করতে চাই-

১. যেকোনো একটা বিসিএস প্রিলিমিনারি ডাইজেস্ট বই (এদিক থেকে আমার পছন্দ প্রফেসরস এর বইটা)।

২. জব সল্যুশন বই।

৩. কারেন্ট অ্যাফায়ার্স বা এ ধরনের মাসিক প্রকাশিত বই (কমপক্ষে পরীক্ষার আগের ছয় মাসের বইগুলো)।

৪. প্রতিদিনের সংবাদপত্র।

 

বিস্তারিত শুরু করছি শেষ পয়েন্ট থেকে থেকে...

সংবাদপত্র পড়া মানে শুধু নকশা, আনন্দ, খেলাধুলা বা বিনোদন পাতা পড়া নয়... প্রত্যেক পাতার খবর পড়া। এতে বর্তমানে দেশে ও বিশ্বে কি ঘটছে, তা সম্পর্কে আপডেট থাকা যায়। সংবাদপত্র পড়ার সুবিধা হল, এটি মুখস্থ করতে হয় না... শুধু রিডিং পড়ে গেলেই এমনি এমনি সব মুখস্থ হয়ে যায়।

অনেকেই আছেন, সংবাদপত্র পড়ে না... তারা হয়তো এখন পড়া শুরু করছেন... কিন্তু আগের মাসের সংবাদের কি হবে?

তাদের জন্যই কারেন্ট অ্যাফায়ার্স ধরণের বই। প্রতি মাসের সংবাদ ও বিশেষ ঘটনাপ্রবাহ একসাথে করে এগুলো মাসিক ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়। ফলে একটা বইয়ে পুরো মাসের সব কিছু পাওয়া যায়।

যারা নিয়মিত সংবাদপত্র পড়তে পারে না, তাদের জন্য এই ধরণের বইগুলো কাজের।

জব সলুশ্যন বইয়ে বিগত বছরের সকল প্রশ্ন তো পাবেনই, এর সাথে পিএসসি সহ অন্য সকল প্রতিযোগিতামূলক চাকুরির পরীক্ষার প্রশ্নও আছে। এতে উত্তর দেওয়া আছে, নিচে ব্যাখাও দেওয়া আছে।

এখান থেকে কয়েক বছরের প্রশ্ন পড়লে, আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন বিসিএসে আসলে কিরকম প্রশ্ন আসে। সে অনুযায়ী নিজে নিজেই স্বল্প সময়ে ভাল প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

এই বইয়ে প্রত্যেক প্রশ্নের শেষে যে ব্যাখা দেওয়া আছে, সে ব্যাখাগুলো ভাল করে পড়লে বিকল্প অনেক কিছুই শেখা হয়। অনেক সময় একই টপিকসে ঘুরে ফিরে প্রশ্ন আসে।

যেমন ধরুন, একবার প্রশ্ন আসল, চর্যাপদ কে আবিষ্কার করেন? পরের বছর আসলো, চর্যাপদের আদি রচয়িতা কে? অর্থাৎ, প্রশ্ন ভিন্ন হলেও টপিকস একই থাকতে পারে।

এই বইও মুখস্থ করার দরকার নেই। শুধু প্রতিদিন শুয়ে শুয়ে প্রশ্নের পর প্রশ্ন উত্তর ও ব্যখাসহ দেখে যান। যেগুলো জটিল মনে হবে, দাগ দিয়ে রাখবেন। পরে আবার দেখবেন।

এবার আসি ডাইজেস্ট বইয়ের কথা নিয়ে... আপনার কাছে সবচেয়ে যে বিষয়টি ইন্টারেস্টিং লাগে, সেটা দিয়ে শুরু করুন। নতুবা পড়ার আগ্রহ সেভাবে হয়তো পাবেন না। এখানেও মুখস্থ করার দরকার নেই। শুধু রিডিং পড়ে যাবেন।

কারো যদি বাংলায় আগ্রহ থাকে, তাহলে বাংলা দিয়ে শুরু করবেন... ইংরেজিতে আগ্রহ থাকলে ইংরেজি। কিছু ভাল না লাগলে মানসিক দক্ষতার চ্যাপ্টার পড়তে পারেন আগে। এগুলো বেশ মজার।

অনেকে মনে করে বিসিএস মানেই সাধারণ জ্ঞান, যার সাধারণ জ্ঞান ভাল, সে বিসিএসেও ভাল করবে। এটা অনেকটা বোগাস কথা বলে আমি মনে করি। অনেক ক্যাডারকেই চিনি যাদের সাধারণ জ্ঞান খুবই কম, কিন্তু ঠিকই বিসিএসে টিকে গেছে।

কিছু বিষয় আছে অপরিবর্তনীয়। সেগুলোর দিকেই নজর বেশি দেওয়া উচিত। যেমন- বাংলা ব্যকরণ, ইংরেজি গ্রামার, গনিত, বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্য।

এই জিনিসগুলো দশ বছর আগেও যা ছিল, এখনো তাই আছে, দশ বছর পরেও তাই থাকবে। তাই, এগুলোতে বেশি সময় দিলে ভাল মার্ক তোলা সম্ভব। কারণ এগুলো ফিক্সড।

সমাসের নিয়ম আগেও যা ছিল, এখনো তাই আছে, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের যে কয়জন কবি, সব সময় সে কয়জনই থাকবেন, গণিতের সুত্রগুলো একই রকম সব সময়।

অপরদিক বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি, সাধারণ জ্ঞান, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী ইত্যাদি বিষয়গুলোর তথ্য প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছেই। এগুলোর কোন শেষ নেই। তবে যারা নিয়মিত সংবাদপত্র ও কারেন্ট আফায়ার্স পড়ে, তারা এগুলোতে ভাল করতে পারে। তাছাড়া প্রযুক্তিতে যাদের আগ্রহ, তারা সহজেই কিছু কিছু প্রশ্ন এমনিতেই কমন পেয়ে যাবেন।

একটু চেষ্টা করলেই মানসিক দক্ষতাতে মার্ক তোলা সহজ।

ইংরেজি সাহিত্যের অংশটুকু ডাইজেস্টে যা দেওয়া আছে, তা যথেষ্ট বলে মনে হয়। এখানে পড়া অল্প ও সেগুলো ফিক্সড। অল্প কিছু জিনিসই ভালোভাবে পড়লে এখানে অনেক বেশি মার্ক তোলা সম্ভব। তবে হ্যাঁ, এগুলো মনে রাখা একটু কষ্টকর। কিন্তু প্রতিদিন একবার করে দেখলে মনে থাকবে।

শেষ করার আগে একটা কথা জোর দিয়ে বলতে চাই... কোন কিছু জোর করে মুখস্থ করতে যাবেন না। এটা সময়ের শুধু অপচয়ই না, ব্রেনের উপরেও একটা অতিরিক্ত চাপ।

শুধু চোখ বুলিয়ে পড়ে যাবেন। দেখবেন এমনিতেই অনেক কিছু মনে রাখতে পারছেন।

একবার পড়ার পর যেটা কঠিন বা জটিল মনে হবে, দাগিয়ে রাখবেন পুনরায় পড়ার জন্য। এরপর সেটি দ্বিতীয়বার পড়বেন... এরপর সময় হলে তৃতীয়বার বা চতুর্থবার। কিন্তু মুখস্থ করার দরকার নেই, এখন সে সময়ও নেই।

কারণ এটি এমসিকিউ পরীক্ষা... আপনাকে পরীক্ষার খাতায় না দেখে মুখস্থ লিখতে হবে না। উত্তর দেওয়াই থাকবে, শুধু সঠিক উত্তর খুঁজে বের করতে হবে।

এর পাশাপাশি কোন কিছু পড়ে নিজেরা আলোচনা বা ডিসকাস করতে পারেন। এতে সহজে স্বল্প সময়ে অনেক কিছু পড়া হবে ও মনেও থাকবে।

যেগুলো মনে থাকেনা, সেগুলো লিখে (কপি পেস্ট বাটন চেপে নয়, নিজে টাইপ করে) ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে পারেন। দেখে দেখে লেখেন, সমস্যা নেই। কোন কিছু নিজে লিখলে, সেটা সহজেই মনে থাকে মানুষের।

সবচেয়ে বড় কথা যা হল, যদি জানার আগ্রহ নিয়ে পড়া শুরু করেন, তাহলে পড়তেও আপনার ভাল লাগবে, মনেও থাকবে সেটা। নিয়মিত একটু একটু করে পড়ুন, দেখবেন একসময় অনেক কিছু জানছেন...

যত বেশি তথ্য জানবেন, ব্যক্তিগত জীবনে তত বেশি আত্মবিশ্বাসী হবেন, ম্যাচুরিটিও তৈরি হবে । বিসিএস হোক বা না হোক- পরবর্তী জীবনে এটি আপনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। মানুষের কোন শিক্ষাই বৃথা যায় না।

আর হ্যাঁ, জীবনে যেই পজিশনেই যান না কেন, সবসময় দুটো জিনিস মেনে চলার চেষ্টা করবেন... সৎ পথে থাকা আর হালাল পথে আয় করা। আপনার উপার্জনের একটা টাকাও যেন কখনো অবৈধভাবে না আসে। বেস্ট অভ লাক...

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ



নন–ক্যাডারে ১৮০০ পদ শূন্য

নন–ক্যাডারে ১৮০০ পদ শূন্য

০৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১১:৪৯


রোড টু পিএইচডি-৩০: আমেরিকার জীবন

রোড টু পিএইচডি-৩০: আমেরিকার জীবন

৩০ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:২৮



রোড টু পিএইচডি-২৭: ভিসা কাহিনী

রোড টু পিএইচডি-২৭: ভিসা কাহিনী

২৭ অক্টোবর, ২০১৭ ১৮:৩২





বাড়িতে রক্তচাপ মাপেন?

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ১৫:১০

এপথাস আলসার কেন হয়?

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ১৪:২২





ডায়াবেটিসকে অবহেলা নয়

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:০৯

























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর