ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
ডা. নুসরাত সুলতানা লিমা

ডা. নুসরাত সুলতানা লিমা

সহকারী অধ্যাপক (ভাইরোলজি)
পিএইচডি গবেষক (মলিকুলার বায়োলজি)
ইন্সটিটিউট ফর ডেভলপিং সাইন্স এন্ড হেল্থ ইনিশিয়েটিভস।


১৭ জুলাই, ২০১৭ ১৪:২৬

থ্যালাসেমিয়া : মারাত্মক জেনেটিক রক্তরোগ

থ্যালাসেমিয়া : মারাত্মক জেনেটিক রক্তরোগ

থ্যালাসেমিয়া একটি মারাত্মক জেনেটিক রক্তরোগ। হিমোগ্লোবিন জীনে মিউটেশন বা পরিবর্তন ঘটায় এই রোগে রক্তে পর্যাপ্ত পরিমাণে হিমোগ্লোবিন তৈরি হয়না। হিমোগ্লোবিনের মূল কাজ হচ্ছে ফুসফুস থেকে অক্সিজেন বহন করে শরীরের সমস্ত কোষে পৌছে দেয়া। থ্যালাসেমিয়া রোগিদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি পূরনের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর পর রক্ত নিতে হয়। এছাড়া এই রোগে শরীরে আয়রনের পরিমান বেড়ে গিয়ে তা যকৃত, কিডনী, প্লীহা তে জমা হয় এবং এইসব অংগের ক্ষতিসাধন করে মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করে। শরীর থেকে বাড়তি আয়রন কমানোর জন্য যে iron chelating agent পাওয়া যায় তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও দুষ্প্রাপ্য। ফলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় রোগটি প্রতিরোধ করা।

থ্যালাসেমিয়ার কারণঃ 

থ্যালাসেমিয়া রোগটি দুই ধরনের আল্ফা ও বিটা। আমাদের দেশে বিটা থ্যালাসেমিয়ার রোগি বেশি দেখা যায়। এটি দু ভাবে প্রকাশিত হতে পারে- ১. বিটা থ্যালাসেমিয়া মেজর ২. ই- বিটা থ্যালাসেমিয়া। বাবা মা দুজনেই যদি বিটা থ্যালাসেমিয়া অথবা একজন বিটা থ্যালাসেমিয়া আর অন্যজন হিমোগ্লোবিন-ই এর বাহক হয় তবে প্রতি গর্ভধারনে ২৫% ক্ষেত্রে সন্তানের যথাক্রমে বিটা থ্যালাসেমিয়া মেজর ও ই বিটা থ্যালাসেমিয়া হতে পারে।

থ্যালাসেমিয়া রোগ ও বাংলাদেশঃ

বাংলাদেশে বর্তমানে ৩% বিটা থ্যালাসেমিয়া এবং ৪% হিমোগ্লোবিন ই এর বাহক রয়েছে। এটা অবশ্য ১৯৮০ সালে WHO এর রিপোর্ট। তবে থ্যালাসেমিয়া রোগির সংখ্যা বেড়ে গিয়ে যে ভয়াবহ রূপ ধারন করেছে তার indirect evidence রয়েছে। আগে ধারনা করা হতো শুধুমাত্র রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে হলে সন্তানের এ রোগ হয়। কিন্তু এখন দেখা যায় বেশির ভাগ রোগির বাবা মায়ের ই আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে হয়নি। এর মানে এই দাঁড়ায় যে থ্যালাসেমিয়ার বাহকের সংখ্যা উল্লেখজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় অনাত্মীয়ের মাঝে বিয়ের পরেও সন্তান থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মগ্রহন করছে।

প্রতিরোধের উপায়ঃ

১. প্রাক বিবাহ পাত্র পাত্রির থ্যালাসেমিয়া স্ক্রীনিং
২. বিয়ের পরে স্বামী স্ত্রী দুজনেই যদি বাহক হন তবে গর্ভকালীন ৮-১৩ সপ্তাহের মধ্যে chorionic villous sampling/ amniocentesis করে গর্ভস্ত শিশুর রোগ নির্ণয় করণ।

রোগ নির্নয় কোথায় করা হয়ঃ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ, মুগদা মেডিকেল কলেজ, বিএসএমএম ইউ, বারডেম, শিশু হাসপাতাল, আইসিডিডি আরবি, সিএমএইচ, বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার। 

#গর্ভস্ত# শিশুর থ্যালাসেমিয়া রোগ নির্ণয় করা হয় ঢাকা শিশু হাসপাতালে।

আসুন আমরা নিজে সচেতন হই অন্যকে সচেতন করি। দেশকে থ্যালাসেমিয়ামুক্ত করতে বদ্ধপরিকর হই।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত