১২ জুলাই, ২০১৭ ১০:১৪ এএম

উত্তরে বন্যার পানি বাড়ছে, খাবার ও পানির সংকট

উত্তরে বন্যার পানি বাড়ছে, খাবার ও পানির সংকট

টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম ও সিরাজগঞ্জে নদ-নদীর পানি বেড়ে চলেছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা, তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি খেত। এরই মধ্যে খাবার, পানি ও জ্বালানির সংকটে পড়েছে লাখো মানুষ।
বন্যার কবলে পড়া মানুষজনের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণের তেমন উদ্যোগ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ করছেন দুর্গত লোকজন। অব্যাহত আছে নদীভাঙন।
 

ঢাকার বাইরে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

কুড়িগ্রামে বন্যার অবনতি হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বাড়ায় নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বন্যায় পানিবন্দী লক্ষাধিক মানুষ ভুগছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি সংকট ও নিরাপত্তাঝুঁকিতে। অনেকে ঘরের ভেতর মাচা করে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। যাঁদের ঘরে খাবার আছে, তাঁরা জ্বালানির অভাবে রান্না করতে পারছেন না। নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা পড়েছেন বেশি দুর্ভোগে।

পোড়ার চরের আবদুল হামিদ বলেন, ‘কাশবনের ভেতর বাড়ি। বাড়িতে এক কোমর পানি। ঘরে চৌকি উইচা কইরা থাহি। সাপের ভয়ে ঘুম ধরে না। সবাই খালি দেইখা যায়। কিচুই দেয় না।’

কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান জানান, নয়টি উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। গত দুই দিনে নদীভাঙনে শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে আরও কয়েকটি স্কুল, রাস্তা ও বাঁধ।

জেলা বন্যা নিয়ন্ত্রণকক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ হাজার ৯৩০টি পরিবার। বন্যায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ১৩ হাজার ৬৪২টি ও আংশিক ৩০ হাজার ৬৬৯টি। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৫টি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৪ হাজার কৃষক। মারা গেছে ৯৬টি গবাদিপশু।

জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন বলেন, বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ১০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ও ৯২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বাড়তে থাকায় প্রতিদিন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। কাজীপুর ও চৌহালী উপজেলায় নতুন করে শুরু হয়েছে ভাঙন। ডুবে গেছে শত শত একর ফসলি জমি। জেলা পাউবো গতকাল জানায়, ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি সিরাজগঞ্জে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পরে।

পাউবো ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এক সপ্তাহ ধরেই যমুনায় পানি বাড়ছে। এতে চৌহালীর বামনগ্রাম এলাকায় যমুনার পশ্চিম তীরের পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে, শাহজাদপুরের দেওয়ান তারুটিয়া এলাকায় তিন কিলোমিটারজুড়ে ও কাজীপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। এসব এলাকার পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে। জেলার ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ২৪টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম কমবেশি প্লাবিত হয়েছে।

জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান ইমাম জানান, সিরাজগঞ্জ শহরের হার্ডপয়েন্ট, চায়না বাঁধ ও বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের স্পার এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

নীলফামারীতে তিস্তার পানি গতকাল কিছুটা কমে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে নদীভাঙন অব্যাহত আছে। এদিন ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে ভাঙনে পড়ে গৃহহীন হয়েছে ৩০টি পরিবার। এ নিয়ে প্রায় এক মাসে এই ইউনিয়নে ৪১০টি পরিবার গৃহহারা হলো। গতকাল জেলা প্রশাসন বাঁধে আশ্রয় নেওয়া ২৬৫টি পরিবারের মধ্যে কিছু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে।

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গতকাল বিকেল তিনটার দিকে বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার চিনাডুলী, কুলকান্দি, বেলগাছা, সাপধরী ও নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিদারে আলম মাকসুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই সব গ্রামে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে ত্রাণের ব্যবস্থাও করা হবে।’

বৃষ্টি কমে আসায় সুনামগঞ্জে গত দুই দিনে সুরমা নদীর পানি কমছে। গতকাল বিকেল তিনটায় এ নদীর পানি সুনামগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বন্যায় বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়ক এবং দোয়ারাবাজার ও ছাতক সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সৌজন্যে : প্রথম আলো

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত