ডা. মুহাম্মাদ আনিসুর রহমান

ডা. মুহাম্মাদ আনিসুর রহমান

চিকিৎসক, প্রাবন্ধিক


০৫ জুলাই, ২০১৭ ১০:২৭ এএম

চোখের ছানি রোগ ও এর চিকিৎসা

চোখের ছানি রোগ ও এর চিকিৎসা

চোখের ছানি হলো এমন একটি সমস্যা বা রোগ যেখানে চোখের লেন্স অস্বচ্ছ বা ঘোলা হয়ে যাওয়ার কারণে দেখতে অসুবিধা হয়।

চোখে ছানির কারণঃ

১) জন্মগত, ২) বার্ধক্যজনিত কারণে, ৩) চোখ ব্যতীত শরীরের অন্য রোগের কারণে, ৪) চোখের কোন রোগের জটিলতার কারণে, ৫) আঘাতজনিত কারণে, ৬) ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে,

★ জন্মগত ছানি রোগঃ  অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জন্মগত ছানি রোগের কারণ জানা যায়না৷ তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় বংশের কারো এই সমস্যা থাকলে, মায়ের ভিটামিন-ডি এর অভাব হলে, গর্ভকালীন মা রুবেলা দ্বারা সংক্রমিত হলে শিশুর এই সমস্যা হতে পারে৷ এক্ষেত্রে সাধারণত জন্মের ৬ মাসের মধ্যে অপারেশন করে সমস্যার সমাধান করতে হয়৷

★ বার্ধক্যজনিত ছানি রোগঃ বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের শরীরে বিভিন্ন জটিল জৈব-রাসায়নিক পরিবর্তন হতে থাকে। এর প্রভাবে চোখের লেন্স আস্তে আস্তে অস্বচ্ছ হয়ে দৃষ্টিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ৫০ বছর বয়সের পর থেকেই এই সমস্যা তৈরি শুরু হয়৷ দৃষ্টি শক্তির এই অসুবিধা যদি স্বল্প পরিমানে থাকে, তবে চশমা ব্যবহারের মাধ্যমে কিছুদিন চালিয়ে নেয়া যেতে পারে। ছানি ধীরে ধীরে পরিপক্ক হতে থাকে এবং একটা নির্দিষ্ট সময় পর অপারেশনের মাধ্যমে ছানি অপসারণ করতে হয়।

★ চোখ ব্যতীত শরীরের অন্য রোগের কারণেঃ ডায়াবেটিস, রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমান কম, Myotonic dystrophy নামক মাংশপেশীর এক ধরনের রোগ, Atopic dermatitis নামক চর্মরোগ এসব কারণেও চোখের ছানি সমস্যা হতে পারে৷

★ চোখের কোন রোগের জটিলতার কারণেঃ চোখের কিছু রোগ, যার প্রভাবে পরবর্তীতে ছানি পড়তে শুরু করে৷ যেমন:- Anterior Uveitis, Acute Congestive Angle Closure, High Myopia (অতিমাত্রার নিকটদৃষ্টি জনিত ত্রুটি), Hereditary Fundus Dystrophy ইত্যাদি৷

★ আঘাতজনিত কারণেঃ যে চোখে আঘাত লেগেছে, সেই চোখেই ছানি পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই একচোখে ছানি পড়ার এটা অন্যতম কারণ। চোখের ভেতরে কিছু ঢুকে গেলে, ভারী কোন বস্তুর দ্বারা আঘাত পেলে, অবলোহিত রশ্মি বা অন্য কোন বিকিরনের ফলে, বৈদ্যুতিক শকের কারণে এধরনের ছানি পড়তে পারে।

★ ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেঃ স্টেরয়েড ঔষধসহ কিছু ঔষধ বা রাসায়নিক ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে চোখের ছানি সমস্যা হতে পারে৷

চিকিৎসাঃ ছানি পড়ার কারণ যাই থাকুক, চশমা দিয়ে যদি দৈনন্দিন কাজ করা না যায় তাহলে অপারেশন করে ছানি অপসারন করতে হবে। ২০১৫ সালে 'Nature' পত্রিকায় একদল গবেষক দাবী করেন, তারা ‘ল্যানোস্টেরল' সমৃদ্ধ একধরনের চোখের ড্রপ তৈরি করেছেন৷ যা চোখেকে ছানি পড়া থেকে রক্ষা করবে এবং ছানি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যাবে৷ তবে বিষয়টি এখনও বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত নয়৷

ছানি রোগে প্রধানত তিন ধরনের অপারেশন করা হয়ে থাকে :- ফ্যাকো সার্জারী (Phaco-emulsification), এটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি৷ এখানে খুবই ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে ছানি অপসারন করা হয়। এরপর কৃত্রিম লেন্স সংযোজন করা হয়। এই পদ্ধতির সুবিধা হল চোখে সেলাই দেবার প্রয়োজন সাধারনত পড়ে না, রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করে এবং অপারেশন পরবর্তী জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অত্যন্ত দামী ফ্যাকো মেশিন এবং এটা চালানোর জন্য প্রশিক্ষন ও দক্ষতা প্রয়োজন, তাই এই অপারেশন কিছুটা ব্যয়বহুল।

Small Incision Cataract Surgery (SICS), এই পদ্ধতিতে চোখের সাদা অংশে বিশেষভাবে কেটে সেই পথে ছানি বের করে আনা হয়। তারপর কৃত্রিম লেন্স সংযোজন করা হয়। কাটা স্থানটি খুবই ছোট হওয়ায় এবং কাটার সময় বিশেষভাবে ভালবের মত ব্যবস্থা রাখা হয় বলে কাটা স্থানে সেলাই দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

Extra Capsular Cataract Extraction (ECCE), এক্ষেত্রে চোখের স্বচ্ছ কর্নিয়া ও সাদা অংশের মাঝ বরাবর কেটে ছানি বের করে আনা হয়। তারপর কৃত্রিম লেন্স সংযোজন করা হয়। কাটা স্থানটি সেলাই করে আটকে দেয়া হয়।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে