০৩ জুলাই, ২০১৭ ১০:৪৪ এএম
নওগাঁর ১১ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

চিকিৎসকের ৬৯ শতাংশ পদই শূন্য!

চিকিৎসকের ৬৯ শতাংশ পদই শূন্য!

নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২৭৫টি পদের ১৯০টিই শূন্য। এ কারণে জেলায় চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। চিকিৎসাবঞ্চিত হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২৭৫টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৮৫ জন। অর্থাৎ জেলায় ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৩টি পদের মধ্যে সবাই কর্মরত আছেন, মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২১ পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৫ জন, মহাদেবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জনের জায়গায় আছেন ৯ জন, আত্রাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জনের স্থলে আছেন ৮ জন, রানীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জনের মধ্যে ৮ জন, বদলগাছি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ পদের মধ্যে ১১ জন, পত্নীতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জনের মধ্যে ৯ জন, সাপাহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জনের মধ্যে ৭ জন, নিয়ামতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জনের জায়গায় ৮ জন, পোরশা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জনের মধ্যে ৬ জন এবং ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ পদের মধ্যে ৭ জন চিকিৎসক আছেন। আর জেলার ৯৯টি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের কোনোটিতেই বর্তমানে চিকিৎসক নেই। সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত ৪ জন চিকিৎসকসহ জেলায় ২৭৫টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে মাত্র ৮৫ জন কর্মরত আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর কোনোটিতে অবেদনবিদ, আবার কোনোটিতে শল্যচিকিৎসকের অভাবে বড় অস্ত্রোপচার হয় না।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের সামনে রোগীদের দীর্ঘ সারি। রোগীদের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে কথা হয় উপজেলার ছোট বেলালদহ গ্রামের সানোয়ারা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘তিন দিন আগে হাসপাতালে অ্যাসে চিকিৎসা না পাইয়ে ঘুরে গেছি। তাই অ্যাজকা আবার আইছি। সকাল সাড়ে ১০টায় টিকিট ক্যাইটা লাইনে দাঁড়ায়া আছি। ডাক্তার নাই। দেড় ঘণ্টা ধরে শুনিচ্ছি ডাক্তার অ্যাসিচ্ছে। অ্যাজকা চিকিৎসা না পাইলে চিন্তা করছি আর এখানে আসমু না।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মনোরঞ্জন মণ্ডল বলেন, প্রতিদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী সেবা নিতে আসেন। অথচ ৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক মাত্র ৫ জন।

মান্দার মতো চিকিৎসক-সংকট রয়েছে মহাদেবপুর, পত্নীতলা, ধামইরহাট ও সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ৫০ শয্যার এসব হাসপাতালে মাত্র ছয়-সাতজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার চৌধুরী বলেন, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক না থাকায় রোগীর সব চাপ এসে পড়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। মাত্র আটজন চিকিৎসক দিয়ে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নয়, চিকিৎসক-সংকট আছে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সদর আধুনিক হাসপাতালেও। এ হাসপাতালে ৪২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩২ জন চিকিৎসক। অথচ প্রতিদিন এ হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে প্রায় দেড় হাজার রোগী সেবা নিতে আসেন।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মুনীর আলী আকন্দ বলেন, বহির্বিভাগে সকাল নয়টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত আটজন চিকিৎসক প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি রোগী দেখেন।

সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক এমদাদ হোসেন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অস্ত্রোপচার না হওয়ায় পুরো জেলার রোগী এখানে আসে। ১০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন গড়ে ১৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। প্রায় সময়ই অনেক রোগীকে মেঝেতে থাকতে হয়।

সিভিল সার্জন রওশন আরা খানম বলেন, ২০১৪ সালে ৩৩তম বিসিএসে পাস করা প্রায় ৫০ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এরপর নওগাঁয় আর কোনো চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দুই বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই তাঁদের অনেকে উচ্চতর কোর্স করতে বিদেশে বা বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এতে চিকিৎসক-সংকট প্রকট হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অধিদপ্তর থেকে শূন্যপদের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা সেই তালিকা অধিদপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছি। ৩৪ ও ৩৫তম বিসিএসে পাস করা চিকিৎসকদের নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ফল পাচ্ছি না।’

সৌজন্যে : প্রথম আলো

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি