ডা. বাপ্পা আজিজুল

ডা. বাপ্পা আজিজুল

রেসিডেন্ট, সাইক্রিয়াট্রি বিভাগ

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ


১৭ জুন, ২০১৭ ০৩:০০ পিএম
গল্পাণু

আনারস

আনারস

ঘরে পোয়াতি বউ। আনারস খাওয়ার হাউশ করছে। ঢাউশ সাইজের দুইটা আধপাকা আনারস বাড়তি দামে কিনে বাড়ি ফিরছে আনিস। রিকশায় বসে গতরটা ঠেসে মনে মনে হেসে উঠে সে। বউয়ের মুখটাই কেবল যে ভেসে উঠে। কত্ত খুশি হবে মোমেনা। টকের জোশে যখন চোখ বন্ধ করে মুখ চুটকায় তখন শুধু দেখতেই মন চায় পুতুল বউটারে।

দুই বছরের সংসার। আবদার বিশেষ করেনি কখনও। তবে পোয়াতি হওয়ার পর থেকে টক খাওয়ার সখ বেশ বেড়ে গেছে। এই তো নারী- সোনা, টক ও শাড়ি। ঘরে ফিরে নিজ হাতে আনারস কেটে সার্ভ করবে ভাবছে আনিস। পোয়াতি বউয়ের সেবা করা রসুলের সুন্নত। ভালোবাসার রঙ্গীন স্বপ্ন বুনতে বুনতে ঘরে পৌঁছে সে। ফ্রেশ হয়ে দেখে বউ তার খাইবার যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলছে। জেনারেলের আদেশের অপেক্ষায়। এই তো ভালোবাসা।

এক ঝলকা মিষ্টি চাহনিতে অব্যক্ত কৃতজ্ঞতা। মাখামাখি করে একে অপরের মুখে তুলে দেয়। মোমেনার মনে হয় আনারস নামের এ ফলটি সদ্যই স্বর্গ থেকে নাযিল হল। কী স্বাদ! আম্বলে জিহ্বা ধরে এল, চোখ বন্ধ করে সে তৃপ্তির গভীরে যেতে চায়। তন্ময় হয়ে অপ্সরার দিকে আনিস চেয়ে রয়। খানিক বাদে মোমেনার বমি বমি লাগে। পোয়াতি অবস্থায় এ এমন কী! শুরুতে পাত্তা দেয় না আনিস। বমির ওষুধে সেরে যাবে ভাবে। সময় গড়ায়। পেট মোচড়ায়। দু একবার পাতলা পায়খানা হয়। ফার্মেসির মামার পরামর্শে আরও ওষুধ আনে সে। রাত বাড়ে। মোমেনার ছটফটানিও বাড়ে। মাঝরাতে শুরু হয় রক্তক্ষরণ। আরেক টেনশন!!! শহরে ছোট্ট বাসায় সাবলেটে থাকে ওরা। ময়- মুরুব্বি নাই। বাড়িওয়ালা চাচাকে ডেকে তুলে আনিস।

চাচি গলা খ্যাঁকানি দিয়ে জানায় হাসপাতালে নিতে হবে, লক্ষণ ভালো না। পাড়ার এক সিএনজি চালককে ঘুম থেকে তুলে আনিস যখন ক্লিনিকে পৌঁছে তখন ফজর। স্যালাইন দিয়ে রক্তের যোগাড় চলে। সকালে আল্ট্রাসনো করে ডাক্তার জানায় ইনকমপ্লিট এবরশন। ডি এন্ড সি করতে হবে।আনারস খাওয়ার হিস্ট্রিকে তারা সিগনিফিক্যান্ট ভাবছে। চুপসে যায় আনিস। এ কী নিয়তির পরিহাস! অপরাধী মনে হয় নিজেকে। নিজ হাতে বিষ খাওয়াইছে নিষ্পাপ মোমেনাকে। খুন করেছে তার ভ্রুণকে। টুপ টুপ করে লাল ফোঁটা অবিরত পড়তে থাকে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না