শেবাচিমে প্রথমবারের মত রোগীর হার্টে পেসমেকার স্থাপন


মেডিভয়েস ডেস্ক : প্রথমবারের মতো বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর হার্টে ডুয়েল চেম্বার পেসমেকার প্রতিস্থাপন করেছেন সহকারী অধ্যাপক, মেডিসিন, ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ এম সালেহ উদ্দীন। প্রথম বারের মতো এ অপারেশনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রোগী খরচ দিয়েছেন মাত্র ২ হাজার টাকা। এরআগে এ হাসপাতালে এই মেশিনটি দিয়ে প্রথমবারের মতো হার্টে এনজিও গ্রাম পরীক্ষা ও ১টি, ২টি এবং ৩টি রিং প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

বরিশাল নগরীর বগুড়া রোডএলাকার বাসিন্দা, বরিশাল জেলা জজ আদালতের উচ্চমান সহকারী জাফর উল্লাহ বেশ কিছুদিন আগে পা পিছলে পড়ে আহত হন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায় তিনি আগে থেকেই গুরুত্বরভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত। বিশেষ করে তার হৃদস্পন্দন ছিলো খুবই কম। যার গতি প্রতি মিনিটে ছিলো মাত্র ৩২ বার। এমনকি কখনো কখনো গতি আরো কমে স্পন্দন ব্যহত হওয়ার উপক্রম হচ্ছিল। এ অবস্থায় এক সপ্তাহ আগে রোগীর হার্টে অস্থায়ী পেসমেকার প্রতিস্থাপন করা হয়। কিন্তু তাতে তেমন উন্নতি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) একটি অস্ত্রপচারের মধ্যদিয়ে ৪৫ মিনিটে জাফর উল্ল্লাহর হৃৎপিণ্ডে ডুয়েল চেম্বার পেস মেকার প্রতিস্থাপন করা হয়।

এদিন সকাল ১০ টা থেকে ৪৫ মিনিট সফল অস্ত্রপচারের পর তাকে শয্যায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ইনচার্জ শামিমা ইয়াসমিন। আর তার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে সরকারি ফি রাখা হয়েছে মাত্র ২ হাজার টাকা। তবে পেস মেকারটি রোগীর পক্ষ থেকে কিনে দেয়া হয়। যার অর্থের যোগান দেন রোগীর সহকর্মিরা।

এ ব্যপারে ডাঃ এম সালেহ উদ্দীন বলেন, ছন্দময় জীবনের জন্য প্রয়োজন স্বাভাবিক হৃদস্পন্দন। একজন সুস্থ মানুষের হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক স্পন্দনের গতি প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ৯০ বার। হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন রোগের কারণে এই স্বাভাবিক স্পন্দন ব্যাহত হয়। যার ফলে দেখা যায় নানাবিধ সমস্যা, ছন্দপতন ঘটে জীবনযাত্রার। সুস্থভাবে জীবনযাপনের জন্য হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক স্পন্দন ভীষণ প্রয়োজন। তাই পেসমেকার একদিকে যেমন হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক স্পন্দন ফিরিয়ে দেয় তেমনি অন্যদিকে রোগীর জীবনযাত্রার মানও উন্নত করে।

তিনি আরো বলেন, রোগী জাফর উল্লার হৃৎপিণ্ডে ডুয়েল চেম্বার পালস জেনারেটরের (পেস মেকার) সঙ্গে দুটি লিড লাগানো হয়, একটি ডান এট্রিয়ামের সঙ্গে ও অন্যটি ডান ভেন্ট্রিকেলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমন রোগে আক্রান্ত রোগীদের হৃৎপিণ্ডে পেসমেকার প্রতিস্থাপন করা সম্ভব জানিয়ে তিনি বলেন এজন্য আরো চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার অপারেশন টিমে তার সাথে ছিলেন ডাঃ মাহফুজুর রহমান ও ডাঃ এমডি সাইদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ইনচার্জ শামিমা ইয়াসমিন, টেকনোলজিস্ট গোলাম মোস্তফা ও নজরুল আহম্মেদ।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৭ মে ঝালকাঠী জেলা সিভিল সার্জন অফিসের অবসরপ্রাপ্ত হিসাব রক্ষক মো. আনোয়ার হোসেনের হার্টের তিনটি রিং বসানো হয়। ২০১৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ভোলা জেলার লালমোহনের সিদ্দিকুর রহমানের হৃৎদপিণ্ডে সফলভাবে পরিক্ষামূলক একটি রিংটি প্রতিস্থাপন করা হয়। একই বছরের ১৬ এপ্রিল বাকেরগঞ্জের কৃষ্ণকাঠী গ্রামের সেলিম খানের হার্টে একটি রিং বসানো হয়। এছাড়া ২০১৪ সালের ২৪ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক রোগীর এনজিওগ্রাম করা হয়েছে।